বিশেষ প্রতিনিধি:
উৎসবের আনন্দ যেন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কারও কাছে ম্লান হয়ে না যায়,সেই ভাবনা থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অসচ্ছল মানুষের মধ্যে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ১ নম্বর রহিমপুর ইউনিয়নের শ্রীনাথপুরের ঐতিহ্যবাহী মুন্সিবাড়ির কুঞ্জবনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ৩০০ হিন্দু ও মুসলিম নারী-পুরুষের হাতে শাড়ি ও লুঙ্গি তুলে দেওয়া হয়।
‘দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুশৃঙ্খল সমাজ বিনির্মাণই আমাদের লক্ষ্য’ স্লোগানকে সামনে রেখে কর্মসূচিটির আয়োজন করে সুহাস সমর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন; মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাবু স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী,সুনীলময় কুমার দাস চৌধুরী,অনিকা দাস চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন,মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে ঐতিহ্য মুন্সিবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে,তা নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। অসহায় মানুষের প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
পূর্বপুরুষের আদর্শে মানবসেবাঃ
মুন্সিবাড়ির উত্তরসূরি স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী বলেন,তাঁর বাবা ও পূর্বপুরুষেরা মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন,তিনি সেই পথ অনুসরণ করে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী,প্রবাসে থাকা ভাইদের আর্থিক সহযোগিতায় সুহাস সমর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মাধ্যমে প্রতিবছর ঈদ ও দুর্গাপূজায় অসচ্ছল মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও পোশাক বিতরণ করা হয়।
পরিবারের দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ,ভূমিহীনদের জমি দান এবং অসচ্ছল মানুষের ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুন্সিবাড়ির এ উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ভাবনা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে উৎসবের সময় নতুন পোশাক কেনা সম্ভব হয় না। তাঁদের হাতে নতুন পোশাক পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে উৎসবের আনন্দে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এ কার্যক্রমের মানবিক দিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজা উপলক্ষে একই এলাকায় প্রায় ২০০ অসহায় হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের মধ্যে নতুন শাড়ি ও পোশাক বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ঈদ ও পূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়দের মতে,মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ কেবল তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণেই সীমাবদ্ধ নয়;বরং এটি সমাজে সহমর্মিতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চারও সুযোগ তৈরি করে। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মুন্সিবাড়ির এ মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে,এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.