বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নে দুই রাতে আটটি মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালেও একই এলাকায় একাধিক মন্দিরে চুরি ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। পুরোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত ৩ ও ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভূনবীর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসব চুরির ঘটনা ঘটে। ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভীমসী এলাকার মদনমোহন জিউর আখড়া,সুভাষ রায়ের বাড়ির লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, সজল দাসের বাড়ির মন্দির এবং ভীমসী শ্মশান কালীমন্দিরে চুরি হয়।
এর দুই দিন পর ৫ সেপ্টেম্বর রাতে শাসন গ্রামের শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির,শ্রী মানবেন্দ্র ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘর,নারায়ণ ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘর ও সুধা ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘরে চুরির ঘটনা ঘটে।
চোরেরা তালা ভেঙে মন্দির ও ঠাকুরঘরে প্রবেশ করে প্রণামীর বাক্স ভেঙে নগদ টাকা,পিতলের মূর্তি এবং পূজার কাজে ব্যবহৃত পিতল ও কাঁসার সামগ্রী নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান,২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর রাতে ভূনবীর ইউনিয়নের ভীমসী শিববাড়ি ও প্রতিমা শিল্পী উত্তম মিশ্রের বাড়ির মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটে। একই রাতে হর-গৌরী আখড়া,মদনমোহন আখড়া,পালপাড়ার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির,ভীমসী মন্দির ও মহাদেব মন্দিরেও চুরি হয়।
পরে প্রশাসন ভীমসী গ্রামের মদনমোহন আখড়ার পাশের পুকুর থেকে কাঁসার থালা, পিতলের তিনটি মূর্তি,কাঁসর ঘণ্টা,কলসি,বাটিসহ চুরি হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ভূনবীর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দেব বলেন,“দুই রাতে আটটি ধর্মীয় স্থাপনায় চুরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে,মাদকাসক্ত কোনো চক্র এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
পাত্রীকুল শ্রীশ্রী শিববাড়ি পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ জীবন দেব বলেন,“ধর্মীয় স্থাপনায় বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আতঙ্ক আরও বাড়বে।”
চুরির খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক ও এসআই সজীবসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. বেলাল আহমেদ। তিনি বলেন,“ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন,“চুরির ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”
স্থানীয়দের দাবি,২০১৯ সাল থেকে এলাকায় একাধিকবার ধর্মীয় স্থাপনায় চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তাই এসব ঘটনার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত তদন্ত,অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.