সিলেট নিউজ ডেস্ক :
সিলেটের সমকালীন জলরং শিল্পী আব্দুল মালিক নোবেল তাঁর শিল্পীজীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ Global Talent Visa অর্জন করেছেন, যা তাঁর শিল্পীজীবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের Global Talent Visa বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ প্রতিভা ও সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের জন্য একটি অত্যন্ত সম্মানজনক অভিবাসন পথ। শিল্প, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিভাবান ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যে কাজ ও সৃজনশীল কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ভিসা প্রদান করা হয়। ভিজ্যুয়াল আর্টের ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি একজন শিল্পীর পেশাগত অবস্থান ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভবিষ্যত নেতা হওয়ার সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানিত বলে প্রমাণ করে।
নোবেলের এই অর্জন অবশ্য হঠাৎ করে আসেনি। জলরং শিল্পে তাঁর সৃজনশীল কাজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৫ সালে Royal Society of British Artists (RBA) আয়োজিত প্রদর্শনীতে তিনি De Laszlo Foundation Award – Highly Commended অর্জন করেন এবং একই বছর Chelsea Art Society Annual Exhibition-এ অংশগ্রহণ করেন। এর আগে ২০২৪ সালে Broadway Arts Festival National Exhibition-এ তাঁর জলরং কাজ Highly Commended হয়। এছাড়াও Stroud En Plein Air Art Competition-এ Overall Winner, Art in the City Gloucester-এ En Plein-Air বিভাগে তৃতীয় স্থান এবং WTS Collective Plein-Air Competition-এ Urban Artwork Award অর্জন করেন।
বাংলাদেশেও তাঁর শিল্পকর্ম বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৩ সালে Indo Bangla Bandhan Art Exhibition-এ তিনি Watercolour বিভাগে Media Best Award এবং ২০২২ সালে Pran RFL Rainbow Paints National Art Competition-এ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়া ২০১৯ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রতিযোগিতায় তিনি সারা বাংলাদেশে প্রথম হন।
নোবেলের শিল্পচর্চার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জলরঙের মাধ্যমে আলো, ছায়া, পরিবেশ এবং একটি স্থানের অনুভূতিকে তুলে ধরা। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক শহর York এবং Cheltenham তাঁর শিল্পচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। বাস্তব দৃশ্যকে শুধু নিখুঁতভাবে অনুকরণ করার পরিবর্তে একটি স্থানেr অনুভূতিকে জলরঙে ধারণ করার চেষ্টা তাঁর কাজকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর এই ধারাবাহিক অর্জন এবং সর্বশেষ Global Talent Visa প্রাপ্তি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের একজন শিল্পী আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে নিজের প্রতিভা ও সম্ভাবনার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ ও উদীয়মান শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার একটি দৃষ্টান্ত। নোবেল তাই বাংলাদেশ বিশেষ করে আমাদের সিলেটবাসীর জন্য গর্ব।