জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ভবানীপুর এলাকায় প্রায় শতাধিক পরিবার গৃহবন্দী হওয়ার আশঙ্কা, পরিবারের যাতায়াত ও পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ভরসা সরকারি একটি খাল জোরপূর্বক দখল, মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভবানীপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সরকারি খালটি উদ্ধার ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ৪০ জনের স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের বর্ষাকালে নৌকা চলাচল, দৈনন্দিন যাতায়াত এবং পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এই সরকারি খালটি। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার ভুমিখেকো সুফি মিয়া ও তার সঙ্গীরা দীর্ঘদিন ধরে খালটি জোরপূর্বক দখল করে মাটি ভরাট করছেন এবং পাকা ঘর নির্মাণের পাঁতারা চালাচ্ছেন। খালটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেলে পুরো এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে এবং শতাধিক পরিবার গৃহবন্দী হয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী সাবেক পৌর কাউন্সিলর মইন উদ্দিন বলেন, “সরকারি এই খালটি ভরাট হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আবাদি জমি ও বসতবাড়িতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছি।”
অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দারাও খালটি পুনৰুদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন। সাবেক পৌর কাউন্সিলর ছমির উদ্দিন বলেন, “খালটি ভরাট হলে শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতা পড়ে গৃহবন্দী হয়ে পড়বে। আমরা এলাকাবাসী অবিলম্বে এটি উদ্ধার চাই।”
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ রহিম আলী জানান, “আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এই সরকারি খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করে আসছে।” আরেক বাসিন্দা হাজী আব্দুল হাসিম বলেন, “এটি পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ। সরকারের কাছে আমাদের আকুল দাবি, খালটি যেন অবিলম্বে উদ্ধার করে দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুফি মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, “এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”