শিরোনাম
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য ও হাম প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ দাবি জনতার দলের ​বানারীপাড়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত শিশু রামিসা হত্যা: নৃশংস ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী সাহেরা হোসেন এর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বানারীপাড়ায় দায়সারা ‘ভূমি সপ্তাহ’: সাড়ে এগারো পর্যন্ত এসিল্যান্ড অনুপস্থিত, সেবাগ্রহীতাদের বদলে স্কুল শিক্ষার্থী দিয়ে অনুষ্ঠান পার! কারিনা কায়সারের মৃত্যু: মানবতার আয়নায় এক নির্মম বাস্তবতা কবিতা: বিশ্ব মুসলিম নির্যাতন কবে হবে নিরসন শিশুকে জোর করে মোটা-তাজা করার নামে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে এক মাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে গৃহবধূ রিনা আক্তারের বালুচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই মাত্র ১৯ বছর বয়সে একজন কিশোরীর বই-খাতা আর স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে বয়সেই ভালোবাসার টানে গড়েছিলেন সংসার
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

বর্ষাগীতি ও রবীন্দ্রনাথ

Coder Boss / ৭৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০

Manual4 Ad Code

অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান

 

“মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।”

কিন্তু সকল প্রাণের মতো এটা বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্যেও ব্যর্থ চেষ্টা! কবি তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে অনন্তকাল হয়তো বেঁচে থাকবেন মানবের মাঝে, তবে শারিরিক ভাবে নয়। আজ ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ সনের (৭ই আগষ্ট ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ) এ’দিনে কবি তাঁর প্রতিভার শ্রেষ্ট উপাদান সমুহকে রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ কৈশোর হতেই গান লিখতেছেন,কিন্তু হিসাব করলে দেখা যাবে’ গীতাঞ্জললি’ পর্ব হতেই গান- কবিতা নহে- তাঁর ভাবের বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে।আমি এখন কবির বর্ষার গানের দিকে আলোকপাত করতে চাই।

বর্ষার টাপুরটুপুর দিনে বর্ষার গান শোনার একটা অন্যরকম মোহমায়া আছে। বর্ষার সঙ্গে বাঙালি মনের মিতালি রবিঠাকুর ছাড়া কার গানেই বা এমন করে পাব। নবীন মেঘের সুর লাগে রবিকবির মনে। তাইতো তাঁর ভাবনা যত উতল হল অকারণে। রবীন্দ্রনাথের ঋতুভিত্তিক গান আছে ২৮৩টি এবং তার মধ্যে ১১৫টি বর্ষার গান। কবি তাঁর জীবনস্মৃতিতে লিখেছেন, বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর—‘‘ঐ ছড়াটা যেন শৈশবের মেঘদূত।’’

কখনও রবীন্দ্রনাথ লেখেন,

‘‘আজ বারি ঝরে ঝরঝর ভরা বাদরে,

আকাশ-ভাঙা আকুলধারা কোথাও না ধরে।।’’

আবার কখনও লেখেন,

‘‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে

দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে

ঘরের বাঁধন যায় বুঝি আজ টুটে’’

অঝোর শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে

মেঘ-অঁচলে নিলে ঘিরে

কখনও রবীন্দ্রনাথ,চা- আড্ডায় পৌঁছতে যেয়ে স্বকণ্ঠে গেয়ে ওঠেন—

‘‘যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি।

ঝড় এসেছে, ওরে, এ বার ঝড়কে পেলাম সাথি।।

গানটি যদিও পূজা পর্যায় স্থান পেয়েছে। কিন্তু এক ঘোর কালবৈশাখী বিকেলে, দিনুঠাকুরের ফরাসে বসে গানের বাকি কথাগুলো যখন লিখছিলেন বাইরে তখন কালবৈশাখী শেষে বৃষ্টির মুষলধারা।

রবীন্দ্রনাথ কোনও গান তখনই রচনা করে হয়তো তাতে সুরও দিয়েছেন। সেই সুরটি পাছে ভুলে যান, তাই দিনুঠাকুরকে শিখিয়ে দেবার জন্য বৃষ্টিতেই গায়ে লম্বা বর্ষাতি জড়িয়ে, ছাতা হাতে ছুটে গেছেন দিনুঠাকুরের দেহলি বাড়িতে।

‘‘ভ্রমর যেথা হয় বিভাগী

নিভৃত নীল পদ্ম লাগি’’

কখনও কবি উদ্ভাসিত হন

‘‘আজ যেমন করে গাইছে আকাশ

তেমনি করে গাও গো

Manual6 Ad Code

আজ যেমন করে চাইছে আকাশ তেমনি করে চাও গো’’

কখনও কবি মুগ্ধ আর্তিতে লিখে রাখেন প্রেমময় ভাবনার কিছু কথন—

‘‘আজ নবীন মেঘের সুর লেগেছে আমার মনে আমার ভাবনা যত উতল হল অকারণে’’

প্রকৃতি যখন রজঃস্বলা , ধবনীর বুক বাদল-বারি শুষে নিচ্ছে অপার মেদুরতায়। কবি বর্ষাকে আরও নিবিড় করে কাছে ডাকেন।

‘‘এসো হে এসো সজল ঘন বাদল বরিষণে

বিপুল তব শ্যামল স্নেহে এসো হে জীবনে’’

কবি তাঁর প্রিয়কে বেঁধে রাখতে চান। সতত যেন সে ছেয়ে থাকে কবির সাথে, কবির একেবারে পাশটিতে। এমন যখন দিনেই কবি চান সে থাকুক—

‘‘বন্ধু রহো রহো সাথে

আজি এ সঘন শ্রাবণপ্রাতে’’

কবির শান্তিনিকেতনে যখন প্রথম ‘বর্ষামঙ্গল’ উৎসব হয়েছিল, তখন গুরুদেব একাকী সেই শ্রাবণী পূর্ণিমায় শিশুবিভাগের নতুন গৃহে গেয়েছিলেন—

‘‘আজ আকাশের মনের কথা ঝরো ঝরো বাজে’’

কবি যখন গানটি গাইছিলেন তখন নাকি বাইরেও অফুরান শ্রাবণধারা। ওই গানের মধ্যে কবি তাঁর তিনটি বর্ষার কবিতা, যথা ঝুলন, বর্ষামঙ্গল এবং নিরুপম পংক্তি মিলিয়ে দিয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনে বসে গুরুদেব ‘বর্ষামঙ্গল’ রচনা করেছিলেন, তার প্রথম কবিতা ‘বর্ষা’ যদিও জোড়াসাঁকোতে বসেই লেখা। ‘কাব্যগ্রন্থাবলীতে’ বর্ষা ‘‘বাদরবরখন, নীরদগরজন, বিজুলীচমকন ঘোর’’।

চমৎকার আবিলতায় আমরা এই ভাবেই আষাঢ় পেরিয়ে যাই। শ্রাবণ পেরিয়ে যাই। এমন কী ভরা ভাদর-ও। কবির লেখনী সচল থাকে—

‘‘মোর ভাবনারে কী হাওয়ায় মাতালো,

দোলে মন দোলে অকারণ হরষে

হৃদয়গানে সজল ঘন নবীন মেঘে

রসের ধারা বরষে’’

শিলাইদহে পদ্মার বুকে বজরার ছাতে বর্ষার মাধুর্যে আকুল রবীন্দ্রনাথ তাঁর সদ্য লেখা একটি বর্ষার গানের কথা উল্লেখ করে শিলাইদহ থেকে ইন্দিরাকে পত্র লিখেছিলেন। সেই সদ্য রচিত গানটি ছিল—

‘‘ঝরঝর ঝরিষে বারিধারা

ফিরে বায়ু হাহাস্বরে জনহীন প্রান্তরে

অধীরা পদ্মা তরঙ্গ-আকুলা

Manual4 Ad Code

নিবিড় নীরদগগনে

Manual7 Ad Code

কবিগুরুর গানের বাণীতে কালজয়ী কত বর্ষার গান। ধৃষ্টিবিলাস ও বর্ষা বন্দনায় রোমান্টিক কবি বিরহকাতরতায় যেন লিখে রাখেন—

‘‘এমন দিনে তারে বলা যায়

এমন ঘনঘোর বরিষায়’’

রবিঠাকুরের ধরনে বর্ষাবিলাস আধুনিক বাংলা গানে তেমন ভাবে এসেছে কি? তবে সেগুলি খানিক অন্য মেজাজে। কবিই তো পারেনই লিখতে

Manual8 Ad Code

‘‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার পরাণসখা বন্ধু হে আমার’’……….।[প্রয়াণ দিবসে কবিকে শ্রদ্ধা ]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code