আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ২:৫৮

বার : বুধবার

ঋতু : শরৎকাল

অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস

রাকিবুল হাসান সুমন, যশোর জেলা প্রতিনিধি:

সরকারী নিয়মনীতি ও নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে মণিরামপুর সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উত্তাল হয়ে উঠেছে মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস। ভর্তি ফি কমানো, দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধীদের বিশেষ ছাড়সহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

সূত্রে জানাযায়, বিশ্বব্যাপি করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে জর্জরিত এবং অভিভাবকদের আর্থিক অস্বচ্ছলতার বিষয় বিবেচনা করে দরিদ্র, মেধাবী, প্রতিবন্ধীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন ও যাবতীয় খরচের বিষয়ে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তির নির্দেশনা দিয়েছে। সে মোতাবেক শিক্ষা বোর্ডের জারিকৃত ভর্তির প্রজ্ঞাপনে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১ হাজার টাকার বেশি হবে না বলে উল্লেখ থাকলেও-শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে মণিরামপুর সরকারী কলেজ কর্তৃপক্ষ খামখেয়ালি ভাবে শিক্ষার্থী প্রতি ভর্তি বাবদ ১ হাজার ৫’শ টাকা এবং কলেজের নিজস্ব ফরম বাবদ অতিরিক্ত আরও ১’শ ৫০ টাকাসহ মোট ভর্তি খরচ ১ হাজার ৬’শ ৫০ টাকা নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গরীব, অসহায়, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির ক্ষেত্রেও কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হচ্ছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষের ধাযকৃর্ত টাকার স্থলে কম দিলে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না।

অতিরিক্ত ভর্তি ফি গ্রহণসহ নানাবিধ অনিয়মের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে মণিরামপুর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস। সকাল থেকে দফায়-দফায় মিছিল ও ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে সমাবেশ করে আন্দোলনকারী। সমাবেশে বক্তারা সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক ভর্তি ফি নির্ধারণ, দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফির বিশেষ ছাড়ের দাবীর যৌতিকতা তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মণিরামপুর সরকারী কলেজ শাখার আহবায়ক হাবিবুর রহমান দ্বীপ, ছাত্রলীগনেতা আবু সালেহ, হুমাইরা হেলাল, সাদ্দাম হোসেন, সাহিদুল, ইসরাফিল, মাহবুর রহমান, সাধারণ শিক্ষার্থী সাজ্জাদ, রিমন, রনি, পরশ, কামরান প্রমুখ।

আন্দোলনের বিষয় জানতে চাইলে শিক্ষার্থী রুবায়েত বলেন, ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী প্রতি মোট নেয়া হয়েছে ১ হাজার ৬’শ ৫০ টাকা। কিন্তু পার্শবর্তী কেশবপুর সরকারী কলেজে ১ হাজার টাকা, কলারোয়া সরকারী কলেজে ৯’শ ৯০ টাকা নেয়া হচ্ছে। কি কারণে আমাদের কলেজে ভর্তি ফি বেশি নেয়া হচ্ছে সেটা বুঝতে পারছি না।
আন্দোলনে অন্যাতম নেতৃত্ব প্রদানকারী মনিরামপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান দ্বীপ বলেন, চলমান কোভিড-১৯(করোনা ভাইরাস) সংকটে অভিভাবকদের আর্থিক অস্বচ্ছতার কথা বিবেচনা করে শিক্ষাবান্ধব সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশনা না মেনে মনিরামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জিএম রবিউল ইসলাম ফারুকী ও কতৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতাই অতিরিক্ত ভর্তি ফিসহ গ্রহন করা হচ্ছে। দরিদ্র-মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের থেকে ভর্তি ফিস বাবদ আদায়কৃত অতিরিক্ত টাকা আগামীকাল সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিকট ফেরত ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকল নিয়ম মেনে বোর্ড নির্ধারিত ফিস নিয়েই ভর্তি কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে। অন্যথায় আগামীকাল মণিরামপুর সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ-সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানব বন্ধনসহ উর্ধ্বতণ কতৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ কঠোর কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জিএম রবিউল ইসলাম ফারুকী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি এবং বোর্ডের পরিপত্র অনুযায়ী এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমোতি সাপেক্ষে নিয়ম মেনেই ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোন অযৌতিকতা নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category