আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৯:০২

বার : শনিবার

ঋতু : শরৎকাল

ধর্মপাশায় নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালীরা কৃষি জমিতে মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের পায়তারা

এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের পিপড়াকান্দা গ্রামের খানিকটা দক্ষিণপাশে থাকা বন্দোবস্তকৃত তিন একরেরও বেশি সরকারি কৃষি খাস জমিতে আইনকানুনের কোনোরকম তোয়াক্কা না করে সেখানে মাটি ফেলে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য পায়তারা চলে আসছে। বন্দোবস্ত পাওয়া কৃষি জমির মালিকদেরকে ম্যানেজ করে স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নানাভাবে অপচেষ্ঠা করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকার মানুষজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের পিপড়াকান্দা গ্রামের খানিকটা দক্ষিণপাশে ৩ একর ৬২শতক সরকারি খাস বোরো জমি রয়েছে। এই জমি থেকে ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের পিপড়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বরুন চন্দ্র সরকারকে এক একর,একই গ্রামের ভূপেন্দ্র সরকারকে এক একর ১২শতক এবং একই ইউনিয়নের গলইখালী গ্রামের দেবেন্দ্র চাকলাদারকে এক একর ৫০শতক খাস ভূমি ৯৯বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বন্দোবন্ত পাওয়া জমির মালিক ও তাঁদের স্বজনেরা মিলে চলতি বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহে সেখানকার বন্দোবস্তকৃত জায়গায় ১২টি সিমেন্টের আরসিসি পিলার নির্মাণ করেন। জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ওই তিন একর ৬১শতক কৃষি জমির চারদিকে লাল পতাকা সম্বলিত বাঁশের বেষ্টনী পুতে দেওয়া হয়। কৃষি জমি বন্দোবস্তকৃত দলিলে উল্লেখ রয়েছে, বন্দোবস্ত জমিতে কৃষি কাজ করা ছাড়া সেখানে অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না ,সেটিতে মাটি ফেলে ভরাটও করা যাবে না। এমনকি সেই জায়গাটি কারও কাছে বিক্রি.হস্তান্তর ও শ্রেণিও পরিবর্তন করা যাবে না। বন্দোবস্ত পাওয়া জমি নিজেরাই কৃষি কাজ করতে হবে। বর্গাচাষীকে দিয়ে সেখানে চাষ করা যাবে না। বন্দোবস্ত কৃত এই কৃষি জমিতে মাটি ভরাটের জন্য জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মধ্যনগর বাজার লাগোয়া সোমেশ্বরী নদীতে একটি ড্রেজার মেশিন ফেলে রাখা হয়েছে।

কৃষি জমি বন্দোবস্ত পাওয়া পিপড়াকান্দা গ্রামের বরুন চন্দ্র সরকার, একই গ্রামের বন্দোবস্ত পাওয়া মৃত ভূপেন্দ্র সরকারের ছেলে ভজন সরকার বলেন, যে কৃষি জমিটি আমরা বন্দোবস্ত পেয়েছি সেটিতে মাটি ভরাট করা হবে। স্থাপনা তৈরি করার বিষয়টিকে নিয়ে এখন কিছু বলা যাবে না। আমরা ড্রেজার মেশিন আনিনি। ভবিষ্যতই বলে দেবে এখানে কী করব। বন্দোবস্তকৃত জায়গাটি চিহ্নিত করে রাখার জন্য এটিতে বাঁশ পুতে দিয়েছি। তাঁরা আরও বলেন,মধ্যনগর বাজারে অনেকেই বন্দোবস্তকৃত জমিতে বসবাসের জন্য বাস ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মান করেছেন। আমাদেরটা দেখলে সবারটাই দেখা উচিত। তবে বন্দোবস্ত পাওয়া অপর কৃষক দেবেন্দ্র চাকলাদারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. রেদুয়ানুল হালিম বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। বন্দোবস্তকৃত জায়গা ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করা অবৈধ। পিপড়াকান্দা গ্রামে দক্ষিণ পাশে খাস কৃষি জমি বন্দোবস্ত পাওয়া ব্যক্তিদেরকে আগামী রোববার বন্দোবস্ত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি নিয়ে আমার কার্যালয়ে আসতে বলেছি।বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মুনতাসির হাসান বলেন, বন্দোবস্তকৃত জায়গায় কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এমনটি এই জায়গা কারও কাছে হস্তান্তর ও মাটি ভরাটও করা যাবে না। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category