শিরোনাম
সিবিসাস’-এর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কুলাউড়ার দুই কৃতি সন্তান ‘সেলিম ও খলিল’। বাহুবলে এড: মো: আলমগীর চৌধুরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ। ত্রিশটি মামলায় ২৮৩ ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করেছে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ। দোয়ারাবাজারে আশ্রয়ন প্রকল্পের প্রতি ঘরে গিয়ে কম্বল বিতরণ জগন্নাথপুরে পৃথক অভিযানে ১৮২৯ পিচ ইয়াবা সহ বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার গ্রেফতার ৩ শ্রীমঙ্গলে আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষককে বদলীজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা। তাড়াইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সভাপতি ‘বিশ্বজ্যোতি’ ও সম্পাদক ‘সোহেল’ নির্বাচিত। দোয়ারাবাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত ৬। মৌলভীবাজারে “সিএমএফ”-এর উদ্যোগে শীত বস্ত্র বিতরণ।
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

বানারীপাড়ায় সুপারী গাছের আয়রন ব্রিজের পর এবার শুধু চারটি খুটি বসিয়ে আয়রন ব্রীজের নামে লাখ টাকা লোপাট

Coder Boss / ১৮৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

জাকির হোসেন,বরিশাল প্রতিনিধিঃ

সুপারী গাছের আয়রন ব্রিজের নাম করে লাখ টাকা আত্মসাতের পর এবার শুধু চারটি খুটি বসিয়ে আয়রন ব্রীজের নামে লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার পূর্ব উদয়কাঠি গ্রামের মুন্সি বাড়ির সামনের খালে আয়রণ ব্রিজের জায়গায় সুপারি গাছের সাঁকো নির্মাণের অভিযোগে সোসাল মিঠিয়ায় তোলপার হবার পরে এবার বাইশারী ইউনিয়নের গরদ্বার গ্রামের খলিল মোল্লার বাড়ির সামনের খালে আয়রণ ব্রিজে নির্মানের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে মাত্র চারটি লোহার খুঁটি স্থাপন করে লাখ টাকা খেয়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরদ্দার গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খলিল মোল্লা অভিযোগ করেন, তার বাড়ির সামনের খালে এলাকাবাসীর যাতায়াতের জন্য এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে একটি আয়রণ ব্রিজ নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

জনদূর্ভোগ গোচাতে জেলা পরিষদের দেয়া আয়রন ব্রীজ নির্মান না করে ঠিকাদার শুধু মাত্র চারটি লোহার খুঁটি (পোষ্ট) বসিয়েই বরাদ্দের লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন।

দীর্ঘদিন কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় জনগনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় স্থানীয়রা ওই চার লোহার খুঁটির পাশে বাঁশ মেহেগিনি কাঠ, সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকো সংস্কার করে চলাচল করছেন। বাইশারী ইউনিয়নের গরদ্বার গ্রামের খলিল মোল্লার বাড়ির সামনের খালে মাত্র চারটি লোহার খুঁটি স্থাপনের ছবি ও উদয়কাঠিতে লোহার খুঁটি ও ভিমের ওপর পাটাতনে রড-সিমেন্টের ঢালাই স্লাব ও ব্রিজের দুই পাশে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে রেলিং দেয়ার স্থলে ইউনিয়নের পূর্ব উদয়কাঠি মুন্সি বাড়ির সামনের খালে চারটি খুঁটির ওপর সুপারি গাছের সাঁকোরর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই পোস্টে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করে ও নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ এ কাজের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজদের চিহিৃত করে বিচার দাবি করেন। ওই সাঁকোর পাশে ঠিকাদারের লোকজন ভিত্তিপ্রস্তর ফলক স্থাপন করেছিলেন। তাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক লাখ টাকা ব্যয়ে আয়রন ব্রিজ নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের কথা লেখা রয়েছে। তবে ফলকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকার কথা থাকলেও তা নেই। ফলকে অর্থায়নে ও বাস্তবায়নে জেলা পরিষদের কথা উল্লেখ রয়েছে। এদিকে পত্রিকায় রিপোর্ট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পরে দুর্বৃত্তরা রাতের আধাঁরে ভিত্তিপ্রস্তর নামফলক দুটি ভেঙ্গে ফেলেছে। এ থেকে প্রমানিত হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এই সকল দূর্নীতিবাজ ঠিকাদারেরা একাট্টা হয়েছে।

জেলা পরিষদের তৎকালীন প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বদলি হয়ে বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঝালকাঠীর রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগের কথা। ঠিকমতো সব কিছু মনে নেই। যতদূর মনে পড়ে বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ওই দুই স্থানে আয়রন ব্রিজ নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এরপর যথাযথ নিয়ম মেনে দরপত্র আহ্বান করা হয়। লটারির মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই কাজ পায়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারের নাম মনে নেই। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) বানারীপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, নির্মাণকাজটির তদারকির দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা পরিষদের একজন প্রকৌশলী। এখানে তার (উপজেলা প্রকৌশলী) কোনো দায়িত্ব ছিল না। তবে ছোট খালে একটি আয়রন ব্রিজ লোহার খুঁটি, ভিম ও রড-সিমেন্টের ঢালাই স্লাব দিয়ে এক লাখ টাকা বরাদ্দে নির্মাণ করা সম্ভব।

বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ব্রিজ-সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে কাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলামকে মুঠোফোনে (০১৭৪০৭৪৮৫৮৫) কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বাস্তবিক অর্থে এত বড় দূর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়া দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জন্য বড়ই লজ্জা জনক বিষয়। তাছাড়া কোন ঠিকাদার কাজটি করেছে তার নাম ও কোন দপ্তর দিতে পারছে না এটা কি আসলে দূর্নীতিকে আড়াল করার চেষ্টা নাকি অদৃশ্য কোন শক্তির ইশারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন