শিরোনাম
তৃণমূলের উন্নয়নে প্রবাসী যোশেফ যশো শাহজাহানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণায় উত্তাল জৈন্তাপুর, মাঠে নেতাকর্মীরা মৌলভীবাজার পৌরসভা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসিতে পাসের হার ৭৪.৫১ শতাংশ শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা, ২০২৭ সালের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে কার্যক্রম শুরু লালমোহনে প্রবাসী মায়ের ২২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে পুলিশের  তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল। এখন জায়গা দখলেরও চেষ্টার অভিযোগ মৌলভীবাজারে এসএসসি:সাফল্যের আড়ালে বড় ঘাটতি খঞ্জনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিধন সূত্রধরের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন হবিগঞ্জ জেলা জোনাল কমিটি গঠন- সভাপতি এ্যাডভোকেট শফিক মিয়া, সম্পাদক এইচ আর রুবেল, সাংগঠনিক ইসমাইল আখেরি চাহার শোম্বা তাৎপর্য ও শিক্ষা : হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী আজমনি স্কুলে মীমের সাফল্য কোরআন ও হাদিসের আলোকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

স্যার ফজলে হাসান আবেদ এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।

Coder Boss / ৭৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১

Manual3 Ad Code

সত্যজিৎ দাস(স্টাফ রিপোর্টার):

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ছিলেন একজন বাংলাদেশি সমাজকর্মী এবং বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা। সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অসামান্য ভূমিকার জন্য তিনি র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার,স্প্যানিশ অর্ডার অব সিভিল মেরিট,লিও তলস্তয় আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পদক, জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থার মাহবুবুল হক পুরস্কার এবং গেটস ফাউন্ডেশনের বিশ্ব স্বাস্থ্য পুরস্কার এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের নোবেল বলে খ্যাত ইয়াইদান পুরস্কার লাভ করেছেন।

Manual6 Ad Code

ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন একজন ভূস্বামী। তার মায়ের নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুন। তার পূর্বপুরুষরা ছিলেন ঐ অঞ্চলের জমিদার। আবেদের শিক্ষাজীবন শুরু হয় হবিগঞ্জে। হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে দেশভাগের ঠিক আগে তার বাবা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়ি বানিয়াচংয়ে চলে আসেন কুমিল্লা জিলা স্কুলে। সপ্তম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানেই লেখাপড়া করেন। এরপর চাচা জেলা জজ হিসেবে পাবনায় বদলি হওয়ায় তিনিও চাচার সাথে পাবনায় চলে যান এবং পাবনা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। তিনি ১৯৫২ সালে পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৫৬ সালের অক্টোবর মাসে তিনি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেভাল আর্কিটেকচার বিষয়ে পড়তে ভর্তি হয়েছিলেন। দুবছর লেখাপড়া করে কোর্স অসমাপ্ত রেখে ১৯৫৬ সালে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে লন্ডন চলে যান এবং সেখানে পরবর্তী কালে তিনি ১৯৬২ সালে লন্ডনের চাটার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টসে চার বছরের পেশাদার কোর্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৯৪ সালে কানাডার কুইনস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডক্টর অব ল’ এবং ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডক্টর অব এডুকেশন’ ডিগ্রি লাভ করেন।

Manual3 Ad Code

চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিংয়ে পড়াকালীন ১৯৫৮ সালে ফজলে হাসান আবেদের মায়ের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তিনি লন্ডনে চাকরিতে যোগদান করেন। কিছুদিন চাকরি করার পর চলে যান কানাডা। সেখানেও একটি চাকরিতে যোগ দেন। পরে চলে যান আমেরিকা। ১৯৬৮ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে তিনি শেল অয়েল কোম্পানিতে যোগদান করেন এবং পদোন্নতি লাভ করে ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। এখানে চাকরিকালীন ১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হয়। এ সময়ে তিনি ‘হেলপ’ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে মনপুরা দ্বীপে গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান। সেখানে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের যুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়,তহবিল সংগ্রহ ও জনমত গঠনের লক্ষ্যে অ্যাকশন বাংলাদেশ এবং হেলপ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাধীন বাংলাদেশের দরিদ্র, অসহায়, সবহারানো মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কল্পে ‘Bangladesh Rehabilitation Assistance Committee’ বা সংক্ষেপে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। যুদ্ধের পর সিলেটের শাল্লায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাসরত লোকজনকে দেখতে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাল্লায় উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৭৩ সালে সাময়িক ত্রাণকার্যক্রমের গণ্ডি পেরিয়ে ব্র্যাক যখন উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ শুরু করে, তখন ‘BRAC’-এই শব্দসংক্ষেপটির যে ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়, সেটি হল ‘Bangladesh Rural Advancement Committee’। বর্তমানে ব্যাখ্যামূলক কোনো শব্দসমষ্টির অপেক্ষা না রেখে এই সংস্থা শুধুই ‘BRAC’ নামে পরিচিত। কবি বেগম সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, কাজী ফজলুর রহমান, আকবর কবীর, ভিকারুল ইসলাম চৌধুরী, এস আর হোসেন এবং ফজলে হাসান আবেদ, এই সাতজনকে নিয়ে ১৯৭২ সালে ব্র্যাকের গভর্নিং বোর্ড গঠিত হল। বোর্ড ফজলে হাসান আবেদকে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করে। কবি বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন ব্র্যাকের প্রথম চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন এবং আবেদ ২০০১ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে ৬৫ বছর বয়সে নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর ব্র্যাকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ তাকে চেয়ারপারসন নির্বাচিত করে। পরবর্তীতে তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের তত্ত্বাবধায়ক পরিদর্ষেরও চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

Manual6 Ad Code

প্রভাব,উদ্ভাবনশীলতা,টেকসই সমাধান এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের নিরিখে জেনেভা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা এনজিও অ্যাডভাইজার ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর ব্র্যাককে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এনজিও হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাক বাংলাদেশ ও ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারপারসন পদ থেকে অব্যহতি নেন এবং চেয়ার এমেরিটাস পদ গ্রহণ করেন।

শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতাজনিত কারণে ২০১৯ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত অবস্থায় ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত ৮ টা ২৮ মিনিটে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

Manual5 Ad Code


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code