শিরোনাম
চট্টগ্রামে দূর্মর বাংলাদেশ এর বৃক্ষরোপন কর্মসূচি সম্পন্ন একাই করেন তিনটি সরকারি চাকুরী দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জগন্নাথপুরে জাতীয় পার্টির প্রতিবাদসভা বড়লেখার হাকালুকি হাওর পারে গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ জামিনে বের হয়ে ফের দুই প্রতারক সহ গ্রেফতার মজিবুর রহমান। গুমান মর্দন প্রবাসী পরিষদ সংযুক্ত আরব আমিরাত গভীরভাবে শোকাহত বৃহত্তর গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানব সেবায় নিয়োজিত হবিগঞ্জের মাধবপুরে ১০ কেজি গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বানিয়াচংয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী পালিত বিশ্বনাথে নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি মতবিনিময় সভা আহবায়ক কমিটি গঠন
শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

দেশে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ হিন্দু;হিন্দু কমে যাওয়ার কারণ।

সত্যজিৎ দাস / ৭৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার:

স্বাধীন দেশে প্রথম জনশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। তখন হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর আরও চারটি জনশুমারি হয়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের জনশুমারিতে দেখা গেছে,দেশের মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ হিন্দু।

বিবিএসের ২০১১ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রতিবেদনে দেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমে যাওয়ার দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়। প্রথমত,হিন্দুদের আউট মাইগ্রেশন হচ্ছে,অর্থাৎ হিন্দুরা দেশ ছাড়ছে। দ্বিতীয়ত,হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোট প্রজনন হার বা টোটাল ফার্টিলিটি রেট তুলনামূলক কম। অর্থাৎ হিন্দু দম্পতিরা তুলনামূলকভাবে কম সন্তান জন্ম দেন।

বুধবার (২৭ জুলাই) নগরীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতায় বিবিএস-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী,দেশের মোট জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। যেখানে ৮ কোটি ১৭ লাখ পুরুষ ও ৮ কোটি ৩৩ লাখ নারী। তৃতীয় লিঙ্গ ১২ হাজার ৬২৯ জন।

২০২২ এর জনশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যার ৯১ দশমিক ০৪ শতাংশ মুসলমান, ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ হিন্দু, ০ দশমিক ৬২ শতাংশ বৌদ্ধ, ০ দশমিক ৩০ শতাংশ খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ০ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১১ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে ৯০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ০ দশমিক ৬২ শতাংশ, ০ দশমিক ৩১ শতাংশ ও ০ দশমিক ১৪ শতাংশ।

বিভাগওয়ারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,সবচেয়ে বেশি মুসলমান ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ,সবচেয়ে কম সিলেটে ৮৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।

সরকারি হিসেবে ১১ বছরে দেশের জনসংখ্যা দুই কোটি ১১ লাখ বেড়ে ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন হয়েছে৷ এর মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ঢাকা বিভাগে বসবাস করেন৷ এই বিভাগে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ৷ এক দশক আগের মতোই দেশের বেশিরভাগ লোক এখনও গ্রামে বাস করে৷ কিন্তু গ্রামের জনসংখ্যা যেখানে বেড়েছে ৩০ লাখের কম,সেখানে শহরের জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি বেড়েছে৷

উল্লেখ্য,২০২১ সালের আদমশুমারি ও গৃহগণনায় পুরুষ ছিলেন ৭ কোটি ২১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ জন, নারী ছিলেন ৭ কোটি ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ৯০১ জন৷ সে সময় ট্রান্সজেন্ডারদের আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি৷ দেশে এখন মুসলমানের সংখ্যা ৯১ শতাংশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২০১১ সালের জনশুমারিতে হিন্দু ছিল ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছিল শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের শুমারিতে ছিল শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০১১ সালের জনশুমারির চেয়ে এবারের জনশুমারিতে হিন্দু জনসংখ্যা কমল দশমিক ৫৯ শতাংশ।

সারা দেশে গত ১৫ জুন একযোগে শুরু হয় জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম। গত ২১ জুন জনশুমারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলায় বন্যা শুরু হওয়ায় এসব জেলায় শুমারি কার্যক্রম ২৮ জুন পর্যন্ত চলে।

২০০১ সালের ও ২০১১ সালের শুমারির ১৫টি জেলার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছিল,১০ বছরে প্রায় ৯ লাখ হিন্দু কমে গেছে৷

বাংলাদেশ থেকে যে হিন্দুরা ভারতে চলে যায়,তা দৃশ্যমান বাস্তবতা৷ যে সব অনুমেয় কারণে হিন্দুরা দেশত্যাগ করে ভারত সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছেনঃ-

(১) ভূমিদস্যুদের দস্যুতাঃ-
স্বাধীনতার পর থেকেই ভূমিদস্যু ও হিন্দু বিদ্বেষীরা বাংলাদেশের হিন্দুদের বাড়ি-জমি একের পর এক নানাভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে দখল করে নিচ্ছে। তাই হিন্দুরা মানসম্মান ও প্রাণ হারানোর ভয়ে দেশত্যাগ করছেন। সেই সময় থেকে এই সময়ও হিন্দুরা বিশেষ করে যাদের জায়গা-জমি বেশি ছিল,তারা কম মূল্যে হলেও বিক্রি করে দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন,যা এখনও বিদ্যমান।

(২) রাজনৈতিক পরিস্থিতিঃ-
রাজনৈতিক পরিস্থিতি কখনো হিন্দুদের সুরক্ষা দেয়নি৷ হিন্দুরা বাংলাদেশে সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভূগেছে ও এখনো ভূগতেছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামীলীগ,জাসদের রাজনীতির করুণ শিকার হতে হয়েছে হিন্দুদের৷

(৩) চাঁদাবাজিঃ
নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা নাম নিয়ে যারা রাজনীতি করেছে,তাদের চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়েছে হিন্দুদের৷ এমন এমনও ঘটনা ঘটেছে,চাঁদা না পেয়ে হিন্দু নারীদের ধর্ষণ করে চলে যাচ্ছে এবং ঐ চাঁদাবাজিরা রয়ে যায় দেশের প্রচলিত আইনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

(৪) বিচারহীনতাঃ-
গত ১০ বছরে হিন্দুদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে৷ কোনো ঘটনারই প্রকৃত তদন্ত-বিচার হয়নি৷ ফরিদপুর শহরের একটি হিন্দু পরিবার বাড়ি-জমি বিক্রি করে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন৷ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও,পরিবারটিকে চলে যেতে হয়েছে৷

(৫) নিরাপত্তাহীনতাঃ-
অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশের চিত্র উল্টো। এখানে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে,নিরাপত্তাহীনতায় ভূগে হিন্দুরা ভারতে চলে যান৷কারণ,ভারতে তাদের স্বজন আছেন,যাওয়ার সুযোগও আছে৷

উপরিউক্ত পাঁচটি অনুমেয় কারণ ছাড়াও আরেকটি প্রধান কারণ হলো ধর্ম অবমাননার অজুহাত। দেশে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে প্রতিদিনই হিন্দু বাড়ী-ঘর,দোকানপাট,মন্দিরে হামলা,ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে।

গত কয়েক বছর ধরে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেয়া হয়েছে,এই অজুহাত তুলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রবণতা বাড়ছে৷ আবার ভুয়া তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে হামলার ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে৷

(১) ২০১২ সালে রামুতে বৌদ্ধ পল্লী ও মন্দিরে হামলা হয় উত্তম বড়ুয়া নামে এক যুবকের ধর্ম অবমাননার ফেসবুক পোস্টের কথা বলে৷ কিন্তু পরে তদন্তে ওই পোস্টের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি৷

(২) ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাসির নগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা হয় রসরাজ নামে এক তরুণের ফেসবুক পোস্টের অজুহাত তুলে৷ কিন্তু তদন্তে জানা যায় রসরাজ এক নিরক্ষর জেলে৷ তার নামে ভুয়া আইডি খোলা হয়েছিলো৷

(৩) ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হামলা হয় টিটু রায় নামে একজনের ফেসবুক পোস্টের অজুহাত তুলে৷ টিটু রায় থাকতেন নরায়ণগঞ্জে৷ ওই পোস্টেরও সত্যতা মেলেনি৷

(৪) ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হিন্দুদের বাড়ি ঘরে হামলা হয় ফেসবুক পোস্টের অজুহাত তুলে৷ পরে তদন্তে দেখা যায় বিপ্লব চন্দ্র দাস নামে একজনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ওই পোস্ট দেয়া হয়েছিল৷

(৫) ২০২১ সালের ১৭ মার্চ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁওয়ে ৯১টি হিন্দু বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করা হয়৷ হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ঝুমন দাস নামের এক যুবকের কথিত ফেসবুক পোস্টে ধর্ম অবমাননার অজুহাত তোলা হয়৷ আর ওই পোস্ট যে ঝুমন দাস দিয়েছেন তার প্রমাণ এখনো মেলেনি৷

প্রতিটি ঘটনায় দেখা গেছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷ কিন্তু ফেসবুক পোস্ট না দেয়ার পরও ভুয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে,মামলা হয়েছে এবং তাদের কারাগারে যেতে হয়েছে৷ আবার অনেককেই রুটিন করে কোর্টে গিয়ে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

এরকম অবস্থায় সরকার সমস্যা সমাধানের জায়গায় একে অপরের ওপর কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ি করেন,ক্ষমতার শক্তি ব্যবহার করে শাক দিয়ে মাছ ডাকেন। তারউপর কিছু সংখ্যক সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিবৃন্দ ছাড়া,বেশিরভাগ শিক্ষিত অশিক্ষিত ছোট বড় সকলেই তাদের অন্তরে লালন করেন হিন্দু বিদ্বেষী মনোভাব। যা প্রকাশ পেয়েছে রামু-নড়াইল হিন্দুদের উপর একাধারে হামলা,ভাঙচুর,হত্যা,ধর্ষণ সহ জমি দখলের ঘটনা গুলোর পর। যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিরা নির্যাতনের শিকার হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করছে,সেখানে সমাজের ঐ উচ্চ শিক্ষিতরা সহ নামি-দামি ব্যক্তিত্বরা নিরবতা পালন করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন