বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

অশ্লীল লাগে,চোখ সরা।

সত্যজিৎ দাস / ৯৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার:

গত ১৮ মে-তে নরসিংদী স্টেশনে একজন নারী পোশাকের কারণে কুৎসিত আক্রমণ ও সহিংসতার শিকার হন। ডিজাইনার ও ফোরসাইট বিশেষজ্ঞ তৃষিয়া নাশতারান বলেন,আমরা তার পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। মেয়েটির সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ২৭ মে আমরা ২০ জন গেছিলাম নরসিংদী স্টেশনে৷ আমরা কোনো মিছিল বা সমাবেশ করিনি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে চেয়েছি,বুঝতে চেয়েছি। আমরা জায়গাটা এবং সেখানকার মানুষগুলোকে দেখতে গেছি, তাদের সাথে মানবিক যোগাযোগ স্থাপন করতে গেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো শান্তিপূর্ণভাবে জনপরিসরে শরীর ও পোশাকের স্বাধীনতার জায়গা রিক্লেইম করা। আমাদের বৈচিত্র‍্যময় শারীরিক উপস্থিতিই আমাদের বক্তব্য।

নরসিংদী রেল স্টেশনের সেই যৌন হেনস্তা করার ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে জামিন শুনানির সময় আদালত ওই তরুণীর পোশাককে দৃষ্টিকটু বলে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন। জামিনের পক্ষের আইনজীবী মো. কামাল হোসেন গণমাধ্যমের কাছে জানান যে,‘আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, গুলশান–বনানীর মতো এলাকায়ও কোনো মেয়ে এ ধরনের পোশাক পরে রাস্তায় বের হয় না। সেখানে গ্রামের মতো একটি জায়গায় পাবলিক প্লেসে এ রকম পোশাক পরা স্বাধীনতা হতে পারে না। যেমন খুশি তেমন পোশাকের নামে আমাদের সোসাইটির কালচারকে ধ্বংস করতে পারে না। ওই মেয়ে যে ধরনের পোশাক পরিহিত ছিল সেটা আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বেমানান। যে কারণেই প্রতিবাদের শিকার হয়েছিল।’

ওই তরুণীকে হেনস্তার প্রসঙ্গ নিয়ে হাইকোর্ট প্রশ্ন রেখেছেন,সভ্য দেশে এমন পোশাক পরে রেলস্টেশনে যাওয়া যায় কি না। জামিন আবেদন শুনানিতে তরুণীর হেনস্তার শিকার হওয়ার পর ঢাকা থেকে প্রতিবাদ করতে যাওয়া ব্যক্তিদের, অর্থাৎ আমাদের পোশাক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাইকোর্ট।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে উচ্চ আদালতের বক্তব্য যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে,তা যদি সত্য হয় তবে তা নারীর সমানাধিকার,সাংবিধানিক অধিকার, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার মানদণ্ড এবং বর্তমান সরকারের নারীর ক্ষমতায়ন-সংক্রান্ত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাছাড়া এ ধরনের মন্তব্য প্রতিক্রিয়াশীলদের উদ্বুদ্ধ করবে।

অন্যদিকে,নরসিংদী রেলস্টেশনে পোশাকের কারণে হেনস্তার শিকার তরুণীর পোশাক নিয়ে এ সংক্রান্ত মামলার আদেশে কিছুই লেখা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এসময় হাইকোর্ট বলেন,’আমরা (হাইকোর্ট) তো আদেশে পোশাক নিয়ে কিছুই লিখিনি, আমরা ভিডিও দেখে আইনজীবীদের কাছে শুধু জানতে চেয়েছি। ভিডিও দেখে রাষ্ট্রেপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছি,এমন ড্রেস পরে এমন গ্রাম এলাকায় যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ কিনা?’ পরে আদালত সম্পর্কে ভিন্ন রকম মন্তব্য যদি কেউ করে থাকেন, তাহলে তাদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য উপস্থাপনে আইনজীবীদের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অ্যাক্টিভিস্ট অপরাজিতা সংগীতা,ডিজাইনার ও ফোরসাইট বিশেষজ্ঞ তৃষিয়া নাশতারান বলেন,’ আদালতে আমরা উপস্থিত ছিলাম না। হাইকোর্টের আদেশে যদি পোশাক নিয়ে কিছু লেখা নাও হয়,পোশাক নিয়ে প্রশ্ন আদৌ তোলা যেতে পারে কি না,সেই প্রশ্ন আমাদের। একজন নারী কী পোশাক পরলেন সেটা আদৌ কেন হাইকোর্টে আলোচ্য বিষয় হবে? আমরা তাই গতবারের মতোই স্বাধীন পোশাকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান জানাতে বের হয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য একই। এবারও এটি কোনো মিছিল বা সমাবেশ নয়। আমাদের স্বাধীন অবস্থানই আমাদের প্রতিবাদ।

আপনারা কোন সংগঠনের সদস্য? প্রশ্নে তারা বলেন,
– এখানে আমরা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। আজকের প্রতিবাদটির আহ্বায়ক অপরাজিতা সংগীতা। তিনি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অ্যাক্টিভিস্ট। প্রতিবাদটির সংগঠক অগ্নি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি তৃষিয়া নাশতারান। তিনি একজন ডিজাইনার ও ফোরসাইট বিশেষজ্ঞ। আজকের প্রতিবাদটিতে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের অধিকাংশ অগ্নি ফাউন্ডেশনের নারীবাদী গ্রাসরুটস অরগানাইজিং প্ল্যাটফর্ম মেয়ে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত। অগ্নিযাত্রা অগ্নি আমাদের স্টোরিটেলিং প্রকল্প। পিতৃতন্ত্রে নারীর আগুনে মোড়ানো পথের গল্পগুলো এই প্রকল্প তুলে আনে। আমাদের ঢাকা-নরসিংদী যাত্রা সেটার একটা অংশ ছিলো। আজকের অবস্থান তার দ্বিতীয় কিস্তি।

২২ আগষ্ট সোমবার এ প্রতিবাদে যারা ছিলেন;- অপরাজিতা, তৃষিয়া, তামান্না, দৃষ্টি, সোনিয়া, হাবিবা, নীল, মৌসুমী, মেজবাহ, মেহরান, সানজানা, নাইমুল, নিগার, নিবিড়, সিফাত, নীলা, গোপা এবং শাহীন। পরিচয়ে আমরা মানুষ, নারীবাদী, শিল্পী, সংগঠক, নাট্যকর্মী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, আলোকচিত্রী, গবেষক, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, উন্নয়নকর্মী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং আরো অনেকে।

কী অভিজ্ঞতা হলো আজ? এমন প্রশ্নে অপরাজিতা সংগীতা বলেন,’ আমরা হাইকোর্টের পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছিলাম। আমাদের ইচ্ছা ছিলো ভেতর দিয়ে হেঁটে মূল ফটক দিয়ে বের হয়ে যাব। পেছনের দরজায় আমাদেরকে বাধা দেওয়া হয়। ফলে আমরা হাটকোর্টের পাশের ফুটপাথ থেকে হেঁটে মূল ফটকে যাই। সেখানে আমরা কিছুক্ষণ অবস্থান করি ও ছবি তুলি। এরপর চলে আসি,এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ইতিবাচক। একজন রিকশাচালক আমাদের একজনকে দেখে বলেছেন তিনি নাকি তাকে নরসিংদীর প্রতিবাদের সূত্রে চিনতে পেরেছেন। এটাকে আমরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই নিচ্ছি। আমাদের কার্যক্রমের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া কী হবে এখনই বলতে পারছি না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন