স্টাফ রিপোর্টার:
মোঃ মাহাবুব আলম
ঢাকায় বসবাসরত ইন্ডিয়ান (ত্রিপুরা) নারী আসমা বেগম মালদ্বীপ প্রবাসী স্বামী মোঃ রাসেলসহ তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণা, যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান পরিবর্তন ও ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তিনি বর্তমানে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
মোবাইল ফোনের ইমুতে পরিচয় থেকে বিয়ে হয়
আসমা বেগম জানান, ২০১৯ সালে মালদ্বীপে অবস্থানরত রাসেলের সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনের ইমু অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর প্রতারক রাসেল তাকে তার বোন জামাই মোঃ কবিরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে রাসেল ঢাকায় জমি কেনার কথা বলে বিয়ের আগে আসমার কাছ থেকে তার বোন জামাই কবিরের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা নেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এরপর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তিন লক্ষ টাকা কাবিনের মাধ্যমে আসমা ও রাসেলের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় আসমা এক ভরি স্বর্ণ দেন বলেও দাবি করেন।
যৌতুক দাবি ও পরবর্তীতে মালদ্বীপ প্রস্থান
বিয়ের কয়েক দিন পর রাসেল তার স্ত্রী আসমার কাছে আবার ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বলে অভিযোগ। আসমা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাসেল রাসেল ও তার মা-বোন বোনজামাই মিলে আপনাকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে প্রতারক রাসেল কৌশলে বাসা ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী আসমা কে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার বোন জামাই কবির মিয়ার বাড়িতে রেখে ১০ আগস্ট ২০২৪ মালদ্বীপে ফিরে যান।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আসমাও কিছুদিন পর ইন্ডিয়ায় ফিরে আসেন। স্ত্রী আসমা বেগম এ সময় নিজের মালামাল নেওয়ার অনুরোধ করলেও সেগুলো রেখে যেতে বলা হয় বলে প্রতারক স্বামীর রাসেল অভিযোগ করেন তিনি স্ত্রী আসমা বেগম।
পরিবারের সন্ধান না পাওয়া ও মামলা
২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর, আসমা ঢাকায় এসে স্বামীর পরিবারের খোঁজ করতে গেলে তাদের আগের দেওয়া ঠিকানা ও ফোন নম্বর পরিবর্তিত পাওয়া যায়। স্বামী রাসেলকে জানালে তিনি দেশে এসে সমাধানের আশ্বাস দেন বলে আসমা বেগমকে জানান।
২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট, আসমা বেগম স্বামীর নিজ বাড়ি ভোলার চতলা গ্রামের বাড়িতে গেলে কয়েক দিন অবস্থান করেন। পরবর্তীতে কিছু লোকের হুমকি দিয়েছে বয় বিটি প্রদর্শন করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ এনে আসমা বেগম ডেমরা থানায় ৩৮৫/২০২৫ নং একটি সিআর মামলা দায়ের করেন।
মামলা তুলে নেওয়ার চাপের অভিযোগ
আসমা দাবি করেন, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রাসেল দেশে ফিরে এলে তাকে ডেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে ডিভোর্স নোটিশ নিতে বলা হলে তিনি অপমানিত বোধ করে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।

অভিযুক্তদের পরিচয় (আসমার অভিযোগ অনুযায়ী)
আসামি:
১. মোঃ রাসেল (৩০) – পিতা মৃত আলাউদ্দিন, মাতা ফজিলত, গ্রাম চতলা, চতলা বাজার, ওয়ার্ড-৪, লালমোহন, ভোলা।
২. ফজিলত (৫০) – রাসেলের মা
৩. শারমিন (৩৮) – রাসেলের বোন
৪. মোঃ কবির (৪০) – রাসেলের বোনের স্বামী
আসমা বেগমের ঠিকানা:
স্থায়ী ঠিকানা—দক্ষিণ রাময়নগর, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত।
বর্তমান ঠিকানা—ডেমরা, ঢাকা।