অথই নূরুল আমিন:
বাংলাদেশ স্বাধীন করা হলো, সেই স্বাধীনতা নিয়ে আজও পর্যন্ত তুমুল বিতর্ক রয়ে গেলো। বিশেষ করে রাজনীতি অঙ্গনে যার যার মত করে তাদের কর্তৃত্ব নেবার চেষ্টায় সবাই ব্যস্ত রইল। কিন্তু দেশের ভুল রাজনীতি আর হিংসাত্মক মনোভাব রয়ে গেলো সবার মাঝে। এখানে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বোকার মত একা একাই বড় হতে চাইল। এই ধরনের মনোভাব রাজনীতি অঙ্গনে থাকার কারণে দেশের সামাজিক সৌন্দর্য কঠিন ভাবে নষ্ট হয়ে গেলো।
অন্য দিকে ভাইয়ের শত্রু ভাই প্রতিবেশির শত্রু প্রতিবেশি হয়ে গেলো। যার জন্য সাধারণ জনগণ প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার স্বাদ আর পেলো না। এখানে হয়ে গেলো জোর যার মুল্লুক তার অবস্থা। দেশ স্বাধীনের পরপরই দেশের সকল ক্ষমতার একক মালিক দাবি করতে থাকল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবং আওয়ামী পন্থী মুক্তিযোদ্ধারা।
এরকম এক তরফা ক্ষমতা দেখে তৎকালীন সময়ের ৮০% জনগণ খুবই বিরক্ত হয়ে গেলো। তখনকার সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জগণ্য অন্যায় করলেও সামাজিক বা আইনগত ভাবে তাদের কোনো বিচার সহজে হতো না। অনেক মুক্তিযোদ্ধারা তারাও প্রকাশ্য দিবালোকে অন্যের সম্পদ আত্মসাত অনেক মুক্তিযোদ্ধারা ডাকাতি পেশায় জড়িয়ে যায়। এককথায় সর্ব কাজে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটা কর্তৃত্ব বেসামাল ছিলো।
এমন একটা দুর্যোগ সময়ে মানুষ যখন অর্থাভাবে ছিলো। নিরাপত্তাহীন ছিলো। এমনকি অসংখ্য জনগণ সামাজিক মর্যাদা পর্যন্ত পায়নি। ঠিক এরকম ভাবে যখন দেশের ৮০% জনগণ সেদিন মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আওয়ামী বিরোধীও মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী হয়ে উঠল। ঠিক তখনই একদল সেনাসদস্য ধারা শেখ মুজিব এবং তাঁর পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হলো।
১৯৭৫ সালের পনেরো আগস্ট এই হত্যা কান্ড ঘটানো হয়, সঙ্গে সঙ্গে আত্মগোপনে চলে যায় আওয়ামী নেতাকর্মীরা এবং আওয়ামী পন্থী মুক্তিযোদ্ধারা। তার বড় কারণ ছিলো। তারা সবাই জানত তারা অপরাধী। তাই দেশে তেমন কোনো প্রতিবাদ মিছিল ছিলো না। মানব বন্ধন ছিলো না। কিচ্ছু না। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় যে, যেখানে দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষেরা স্বাধীনতা চেয়েছিল। হাতে গোনা কিছু লোক ছাড়া। সেখানে দেশ স্বাধীনের পর আওয়ামী নেতাকর্মীরা ও মুক্তিযোদ্ধারা অহংকারী হয়ে উঠে সবাই। তারা ভিন্ন মতের জনগণ তথা গরিব শ্রেণির সাধারণ জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে থাকে। এরকম ইতিহাস অনেকেরই জানা। (পর্ব এক )
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।