অথই নূরুল আমিন:
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দেশে মধ্যবর্তী একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। এই মধ্যবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সবাই, বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং উক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন বলে চালিয়ে দিলো। আসলে এগুলো হয় হুজুগে। না বুঝে। তবে ত্রয়োদশ নামক এই হাস্যকর নির্বাচনে সত্যি অবুঝ নাবালকের পরিচয় পাওয়া গেলো জামায়াত এনসিপিসহ এগারো দলীয় নির্বাচনী জোটের। চিল্লাচিল্লি করে কথা বললে হুমকি দিয়ে কথা বললেই যে তাদের বুদ্ধিমত্তা ভালো আসলে এমনটি নয়।
আমার মতে জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে এই নির্বাচন হওয়ার দরকার ছিলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে। এবং এই নির্বাচনের নাম দেয়ার দরকার ছিলো। জুলাই বিপ্লব জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নতুবা প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তা কিন্তু হয়নি। অথচ আজকে সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল বলতেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা।
এখানে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের রয়েছে চরম বিরোধীতা। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের মত করে রাষ্ট্রের সর্ব জায়গায় তাদের নিজস্ব লোক বসিয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক পাড়া আইন আদালত, সিটি প্রশাসক, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদে।
এদিকে জামায়াতের এগারো দলীয় জোট আন্দোলন করবে মর্মে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তাহলে রাষ্ট্র গঠন রাষ্ট্র উন্নয়ন শিক্ষা স্বাস্থ্য সেবা জনসেবা বা বেকারত্ব কমিয়ে আনার প্ল্যান যেমন নেই সরকারের তেমনি নেই বিরোধী দলের। এখানে সরকার দল বলছে সংবিধানের কথা বিরোধী দল জুলাই সনদের কথা। আসলে ঐ যে এলোমেলো নির্বাচনের আয়োজন করেছে কোনো এক তৃতীয় পক্ষ। তারা জানত নির্বাচন হলেও দেশের উন্নয়ন জনগণের উন্নয়ন হবে না। ওরা জানত বিএনপি আর জামায়াত ঝগড়ায় লিপ্ত থাকবে। আসলে ঐ তৃতীয় পক্ষের চিন্তা চেতনাই বাস্তবায়ন হলো।
আগামী এক বছর বা দুই বছরের মধ্যে যদি জনগণের কল্যাণে তেমন কিছু না হয়। হুহু করে যদি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। আগামী ২০২৬ – ২০২৭ যদি ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট হয়। এখানে যদি আবার ৩০% ভ্যাট বাড়ানো হয়। আর সংসদে যদি জামায়াত জোটের এমপিরা গিয়ে মুর্খের মত আচরণ করতে শুরু করেন। যে কথা ঘরে বলা যায় সেই কথা যদি সংসদে উপস্থাপন করা হয়। আর সরকার দল বিএনপি যদি সেই সংবিধান সংবিধান জিকির করতে থাকে। তাহলে জনগণ কিন্তু ক্ষেপে গিয়ে অনেক বা মন্ত্রীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে পারে। আর সেই যে তৃতীয় পক্ষ তারা আবার বিএনপি জামায়াতের বাহিরে আরেকটি বিদ্রোহ গুষ্ঠি তৈরি করতে পারে।
তখন তড়িঘড়ি করে ২০২৯ সালের ভিতরেই আরেকটি জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। নতুবা দেশে সেনা ক্যু হতে পারে। হতে পারে দীর্ঘ মেয়াদী মার্শাল” ল “জারি। নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বিএনপি এবং জামায়াতসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দলের উপরে। তখন কিন্তু অনেকের আম ছালা দুই যেতে পারে। আর অন্য দিকে শ্লোগান উঠতে পারে শেখ হাসিনার আমলেই ভালো ছিলো। শ্লোগান উঠতে পারে ” আমরা সবাই হবো হাতিয়ার, সৈনিক মোরা হাসিনার। ” দাবি মোদের একটাই, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় চাই।
ইতিহাস মনে রাখতে হবে। লর্ড ক্লাইভকে সাড়ে সাত লাখ পাউন্ড দিবে বলে যখন মীরজাফর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তখনই মীরজাফরকে বাংলার নবাব করা হয়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত অর্থ দিতে যখন মীরজাফর ব্যর্থ হয়েছিল। তখনই মীর কাশেমকে বাংলার নবাব করা হয়। তাই বলছি, খুব শিঘ্রই এমন ও হতে পারে, যারা এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করেছে, যেমন ধরুন ইউনূস গং নির্বাচন কমিশন, এবং প্রায় তিনশ এমপি তাদের সবার হতে পারে জেল জরিমানা। এমনকি ফাঁসি পর্যন্ত। নতুবা পালিয়ে থাকতে হতে পারে সারাজীবন। মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ ভেবেছিল ২০৪১ সালের মধ্যে তাদের পতন হবে না, তাই আত্ম অহংকারে তারা নিজেরা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে যায়। যার জন্য তাদের কিন্তু আজকে কঠিন সংকটে পরতে হয়েছে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক