বানারীপাড়া প্রতিনিধি :
বালু ফেলাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ ও তার মেয়েকে ঘরে ঢুকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুইরা গ্রামে গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহত গৃহবধূ আঁখি বেগম বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, চাংগুইরা গ্রামের বাবুল হাওলাদারের বাড়ির সামনের রাস্তায় যৌথ উদ্যোগে বালু ফেলা হয়। বৃষ্টির কারণে সেই বালু ধুয়ে যাওয়া ঠেকাতে বাবুল হাওলাদারের স্ত্রী আঁখি বেগম মাটি দিয়ে বাঁধ দিচ্ছিলেন। এসময় একই এলাকার সরিবালী হাওলাদারের ছেলে শাহিন ও রহমান এসে তাকে বাধা দেন এবং বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন।একপর্যায়ে প্রতিপক্ষরা মারমুখী হয়ে উঠলে আঁখি বেগম তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে বাকিয়া সুলতানাকে মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিন ও রহমান কোদাল নিয়ে বাকিয়াকে ধাওয়া করেন। বাকিয়া প্রাণভয়ে ঘরে ঢুকে পড়লে হামলাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে মারধর শুরু করে। এসময় বাকিয়ার কোলে থাকা ৭-৮ মাসের শিশু সন্তান ও নাতনিকে বাঁচাতে আঁখি বেগম এগিয়ে আসলে শাহিন, রহমান ও তাদের স্ত্রীরা তাকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে উঠানে বের করে আনেন। সেখানে তাকে মাটিতে ফেলে বুকের ওপর উঠে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আঁখিকে উদ্ধার করে বানারীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, প্রায় এক বছর আগে একই প্রতিপক্ষরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনায় উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীরা কোনো সুষ্ঠু বিচার না করে নামমাত্র মীমাংসা করে দেন। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির কারণেই প্রতিপক্ষরা পুনরায় এমন দুঃসাহস দেখিয়েছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।