অথই নূরুল আমিন:
পর্ব দুই।
তখনকার সময়ে স্বৈরাচারী শেখ মুজিব, বাকশাল সৃষ্টির কারিগর শেখ মুজিবসহ শেখ কামালকে নিয়ে অসংখ্য বদনাম মুখী গল্প। অভাব অনটন দূর্ভীক্কর ছবিসহ নানারকম বিষয় বাঙালির সামনে উপস্থাপন করা হয়। যার ফলে দেশের ৮০% মানুষ সেদিন শেখ মুজিবের প্রতি অসুন্তষ্ট হয়ে যায়।
তারপর বেশ কয়েকজন অল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রের ভার গ্রহণ করেন। তারপর মেজর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসেন। তখনও কিন্তু মেজর জিয়াউর রহমানের পক্ষে শেখ মুজিব তথা আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া, দেশের ৮০% জনগণ ছিলেন। তারপরও কিছু মানুষ মেজর জিয়াউর রহমানের বিরোধী ছিলেন। যা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র নায়ক হওয়ার পর আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। শেখ মুজিব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া দেশের ভূক্তভোগী ৮০% জনগণের কাছে। চিটাগাং সার্কিট হাউজে গভীর রাতে নিহতের খবর শুনে দেশের ৮০% জনগণ আফসোস করতে শুরু করেন। কিন্তু মেজর জিয়াউর রহমানকে নিয়ে তেমন বদনাম শোনা যায়নি।
তবে কথায় আছে। অন্ধ হলে তো প্রলয় বন্ধ হবে না। এক শ্রেণির লোক বলা শুরু করেছে। জিয়াউর রহমানের লাশ পাওয়া যায়নি। জিয়া উদ্যানে শুধু সাদা কাপড় দাফন করা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আওয়ামী পন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের কে তেমন মূল্যায়ন করেননি। অন্য দিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক প্রথমে ইনডেনিটি অধ্যাদেশ জারি করে শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের বিচার কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তারপর একই অধ্যাদেশ মেজর জিয়াউর রহমান সংসদে পাকাপোক্ত ভাবে বিল পাস করে নেন। তখনও দেশের মানুষেরা মেজর জিয়াউর রহমানের প্রতি তেমন কোন খারাপ মনোভাব আসেনি। তিনি বাঙালি জাতির কাছে তখনই বিতর্কিত হলেন। যখন টাকা থেকে শেখ মুজিবের ছবি সরিয়ে দিয়ে ধান পাট গাছ মসজিদ টাকার গায়ে ছাপতে শুরু করলেন।
তারপর জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পালা। মেজর জিয়াউর রহমানের মতই ক্ষমতায় এলেন। এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেন। তবে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে বিলুপ্তি করার মত তেমন কোনো পদক্ষেপ নেননি। যদিও তিনি স্বৈরশাসক ছিলেন। তবে আমার গবেষণা মতে মেজর জিয়াউর রহমান এবং জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দুজনের মধ্যেই দেশপ্রেম দেখা গেছে কঠিন ভাবে। রাজনীতিটা সবচেয়ে বেশি নষ্ট হলো এরশাদের পতনের পর। সরাসরি ভোটের মাধ্যমে যখন ১৯৯১ তে প্রথম বিএনপি ক্ষমতায় এলো। তখনই সমগ্র জাতি দুভাগে ভাগ হয়ে গেলো। একদল বিএনপি আরেক দল আওয়ামী লীগ। বিএনপির যুদ্ধ হলো স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে আর আওয়ামী লীগের যুদ্ধ হলো জাতির পিতা নিয়ে। দেশ উন্নয়ন জাতি গঠন তাদের ধারায় আর হলো না। নিজ নিজ অবস্থান ধরে রাখতে দেশের সকল আমলাদেরকে দুর্নীতির বর পুত্র বানিয়ে দিলো। চলবে।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক।
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উপদেষ্টা,গ্রন্থের লেখক।