সিলেট নিউজ ডেস্ক :
রাজশাহীর চারঘাটে হৃদয়বিদারক এক মানবিক ট্র্যাজেডির গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী উম্মে হাবিবা মিম—যে বয়সে একজন কিশোরীর বই-খাতা আর স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে বয়সেই ভালোবাসার টানে গড়েছিলেন সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন এই তরুণী।
ক্লাস নাইনে পড়াকালীন প্রেমে জড়িয়ে পড়েন মিম। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন মিম।
দুর্ঘটনার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে নাক, কান ও চোখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে দীর্ঘদিন নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল ও পিজি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। পরে চিকিৎসকরা জানান, মিম বিরল ধরনের ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত।
কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর বদলে চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেন তার স্বামী। পরিবারের অভিযোগ, মিমের অসুস্থতার মধ্যেই তাকে ডিভোর্স দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বিচ্ছেদের মাত্র ১৮ দিনের মাথায় আরেকটি বিয়ে করেন তিনি।
বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। কিন্তু মিমের বাবা একজন সাধারণ অটোমেকানিক্স কর্মী। সীমিত আয়ের এই পরিবারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
একদিকে ক্যান্সারের তীব্র যন্ত্রণা, অন্যদিকে ভালোবাসার মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা—সব মিলিয়ে অসহায় সময় পার করছেন ১৯ বছরের এই তরুণী। মানবিক সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।