সিলেট নিউজ ডেস্ক :
ফেনীর সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের চোছনা গ্রামে নির্মাণাধীন ভবন থেকে গৃহবধূ রিনা আক্তারের বালুচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত সাইফুল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পিবিআই সূত্র জানায়, এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধের চাপেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন সাইফুল। টাকার ব্যবস্থা করতে না পেরে তিনি বিভিন্ন স্থানে কাজ খুঁজছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি রিনা আক্তারের নির্মাণাধীন বাড়িতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে যান। সে সময় বাড়িতে একাই কাজ তদারকি করছিলেন রিনা আক্তার।
জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জানান, রিনা আক্তারের কানে থাকা স্বর্ণের দুল দেখে তার লোভ জাগে। একপর্যায়ে দুল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে রিনা আক্তার বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাইফুল তার গলা চেপে ধরলে শ্বাসরোধে রিনা আক্তারের মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ধরা পড়ার ভয়ে সাইফুল নির্মাণাধীন ঘরের মেঝেতে বালি খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রেখে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে তিনি দাবি করেন, তার উদ্দেশ্য হত্যা করা ছিল না; দুল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।
পিবিআই জানায়, প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফেনীর মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকার একটি দোকান থেকে ছিনিয়ে নেওয়া এক আনা ওজনের স্বর্ণের দুল উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের চোছনা গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের কক্ষ থেকে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় রিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।