সিলেট নিউজ ডেস্ক :
জুলাই আন্দোলন ২০২৪ শে যারা প্রথম সারির নেতৃত্বে ছিলেন, আজকে তারা অনেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি,র কর্ণধার। তবে দেশের মধ্যে তাদেরকে নিয়ে যেমন রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা তেমনি রয়েছে বিতর্ক। বিতর্কিত হওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে। সমন্বয়ক তিনজন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদে যাওয়া। তারপর রাজনৈতিক দল এনসিপি গঠন করা তারপর আবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে রাজনৈতিক জোটে যাওয়াসহ বেশকিছু কারণ।
আমি মনে করি এসব হচ্ছে জীবনের হিসাব মেলানোর খেলা। তবে এখন পর্যন্ত তাদের অনেকের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বিশেষ করে ২৪ এর আন্দোলন যারা বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে যোগ দিয়েছিলো। কারণ তাদের দরকার ছিলো একটা সরকারি চাকরির। এখানে হয়তো এনসিপি একদিন আরো ভালো কিছু করতে পারবে ভবিষ্যতে। তবে যাদের চাকরির বয়স চলে যাবে তাদের জন্য তেমন কিছু করা হবে না। এমন লাখ লাখ ছাত্র ছাত্রীরা এনসিপির প্রতি একটা অভিমান বা অনুরাগ থেকেই যাবে তাদের সারাজীবন।
এনসিপি বতর্মানে জামায়াতের সাথে রাজনৈতিক জোটে রয়েছে। সামনে সিটি নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ কেমন হবে এবং জনগণ তাদেরকে ভোট দিবে কিনা তা এখন ভাবনার বিষয়। স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল ঘরে আনতে না পারবে রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি পিছিয়ে পরবে বলে আমি মনে করি।
বতর্মানে এগারো দলীয় জোটের সাথে এনসিপি সংসদে বিরোধী দলীয় ভূমিকায় রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতি অঙ্গনে আরো বড়ো ধরনের ঝুঁকি আসবে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরো কিছু রাজনৈতিক দল সামনের সারিতে আসবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে হয়তো এগারো দলীয় জোটে ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে। এরকম বিষয় গুলো যখন ঘটবে তখন এনসিপি আরো শক্তিশালী ও হতে পারে। নতুবা রাজনৈতিক কোন্দলের স্বীকার হয়েছে দলটি বিলুপ্তিও হয়ে যেতে পারে।
একটি মজবুত রাজনৈতিক দল গঠন করতে যা যা দরকার তার সবকিছু কিন্তু এনসিপির হাতে নেই। তবে যতটুকু আমি জানি। ছাত্র শক্তি যুব শক্তি কৃষক শক্তি নারী শক্তিসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গ সংগঠন এরই মধ্যে এনসিপি সাজিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এবং প্রতিদিন তারা তাদের মত করে সংগঠনকে বড়ো করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কথা থাকে যে রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি এখনো বড়ো কিছু নয়। তবে তাদের ভালো কিছু করার মতো এখনো সুযোগ রয়েছে। তবে তাদের কিন্তু বিপদও রয়েছে পদে পদে। এই জন্য বলছি যে দেশের সাধারণ জনগণ এনসিপিকে এখনো রাজনৈতিক কোনো দল হিসেবে মেনে নেয়নি। সাধারণ জনগণের মনে জায়গা করে নিতে এনসিপিকে আরো গুরুত্ব দিয়ে দেশের জনকল্যাণে কাজ করতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলের যতদিন পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে ভক্ত বা সমর্থক না থাকবে ততদিন পর্যন্ত সেই রাজনৈতিক দলের কোনো ভিত্তি থাকে না।
একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে হয়, গোটা জাতির কল্যাণে যুবদের মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থানের কল্যাণে। দেশের সুশাসন নিশ্চিত করন প্রসঙ্গে। বিশেষ করে এনসিপির দায়িত্ব অনেক। জরাজীর্ণ দেশটার রয়েছে অসংখ্য সমস্যা। সেই সকল সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে গ্রহণযোগ্য কর্মসূচি ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা ।
আমাদের দেশে বর্তমানে প্রথম সমস্যা হচ্ছে, বেকারত্ব।
দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে, শিক্ষারমান সঠিক নয়। তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে, স্বাস্থ্য সেবায় দুর্নীতি ও ভেজাল ঔষধ। চতুর্থ সমস্যা হচ্ছে গৃহহীন ভূমিহীন ও ভাসমান জনগণের জন্য নিরাপদ এবং কর্মমুখী পূনর্বাসন করন। পঞ্চম সমস্যা হচ্ছে, কৃষিখাত। ষষ্ঠ সমস্যা হচ্ছে, প্রবাসীদের জন্য কল্যাণকর আইন প্রণীত করন। সপ্তম সমস্যা হচ্ছে, সরকারি ভবনে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য। অষ্টম সমস্যা হচ্ছে, মাদক ক্রয় – বিক্রয় বন্ধ করনসহ অসংখ্য জনকল্যাণ কর কার্যকর ভূমিকা এনসিপি পালন করবে মর্মে কিছু জনগণ আশা করে। কাজের কাজী হতে হবে। নামে হলে সেই কাজীর কাজীগিরি বেশিদিন থাকে না। থাকতে পারে না।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থের লেখক