অথই নূরুল আমিন:
বহুবার যদিও বলেছি। অসংখ্য কলাম লিখেছি। আজকেও বলছি। বাংলাদেশের সরকার গুলো প্রকৃতপক্ষে জনগণের স্বার্থে তারা কোন কাজই করে না বা করতেই জানে না। সরকার বদল হয় আর এক সরকার আরেক সরকারকে নিয়ে মন্তব্য করা শুরু করে দেয় গলা ফাটিয়ে । আর কার চেয়ে কে বড়ো তাই জাহির করার নিরন্তর চেষ্টা চলে অহংকারে । সত্যি কথা বলতে গেলে যা অযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে বলে আমি মনে করি।
বিশেষ করে আমাদের বতর্মান সমাজব্যবস্থায় চরম অমানবিকতা দেখা যাচ্ছে । এখানে কেউ কাউকে যেমন মানছে না। আবার রাজনৈতিক পট্ পরিবর্তনের জেরে আরো যেন অশান্তি বিরাজ করে সবসময় চারিদিকে। একেকটি রাজনৈতিক দলে লাখো লাখো বেকারের বিরাট লম্বা বহর। যখন যেদল ক্ষমতায় আসে। তখনই দলীয় বেকার লোকেরা লুঠপাট করতে শুরু করে অন্যের সম্পদ। চাঁদাবাজ থাকে নিজ দলেরই নেতাকর্মীরা। আর দলীয় ব্যবসায়ীরা শুরু করে মহা সিন্ডিকেট।
এরকম অবস্থা যখন একটি রাজনৈতিক দলের থাকে। তখনই বিশ্ব নেতারা ও বিশ্ব মিডিয়ার কাছে এই রাজনৈতিক দলটা হয়ে যায় হাসির খোরাক। অথচ দলীয় এমপি – মন্ত্রীরা কত নিলজ্জ ভাবে হাস্যজ্জল মুখ নিয়ে সভা- সমাবেশ বা টকশোতে এসে দলের প্রশংসা করতে থাকে গলা ফাটিয়ে।
অথচ কাজের কাজ করার মতো সক্ষমতা নেই কোনো সরকারের। ওরা ক্ষমতায় বসেই, যখন বলে আমেরিকা থেকে বলেছে তারা অমুক কাজ করে দিবে। চীন বলেছে হাসপাতাল করবে। জাপান বলেছে জনবল নিবে। এরকম বিষয় গুলো শোনার পর দেশের এক শ্রেণির লোভী জনগণ আনন্দে উল্লাসে মেতে উঠে। অথচ এরকম কাজ কিন্তু সরকারের কোনো সুফল জনিত কাজ নয়। সরকারের নিজস্ব কোন কাজ নয়।
বতর্মান সরকারের কথাই যদি বলি। তারা চলমান বাজেটে উল্লেখ করেছে বয়স্ক ভাতা – বিধবা ভাতা ছয়শ টাকা দিবে মাসে। এটা যে কত বড়ো হাস্যকর বরাদ্দ তা ভাষায় প্রকাশ করার মত । এরকম একটি চরম অমানবিক বরাদ্দের বিরুদ্ধে সংসদে কোন এমপিকে কথা বলতে বা প্রতিবাদ করতে শুনিনি যে এই ধরনের ভাতা গুলো দুই হাজার টাকা করা হোক । তা সরকার দলের এমপি বা বিরোধী দলের এমপি কেউ না কিছু বলেনি। তাহলে এই দেশের রাজনীতি কি সাধারণ জনগণের জন্য কেউ করছে? আসলেই না। সবটাই বোকাস।
যদি বিশ্বাস না করেন। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আপনার কোন সমস্যা বা এলাকার সমস্যা নিয়ে একটি চিঠি লিখুন। আপনি সরাসরি গিয়ে দিয়ে আসুন। দেখবেন তার কোনো উত্তর আপনি পাবেন না। হয়তো বা হাজারে দু একজন পেতে পারেন। এখানে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দল জামায়াত এনসিপিসহ এগারো দল সংসদে কিছু বলার চেষ্টা করেছে। লং মার্চ করছে প্রায় ছয়টি ইস্যু নিয়ে। এখানে জাতীয় পার্টির মত দল বিরোধী দলে থাকলে তাও আর বলতো না।
আমাদের দেশে সবচেয়ে অগোছালো হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা, এই নিয়েও কিন্তু কোনো এমপি মন্ত্রীর মাথা ব্যথা নেই এক শিক্ষামন্ত্রী ছাড়া । অগোছালো শিক্ষাব্যবস্থার মাঝে শিক্ষা অর্জনে শত হয়রানির পরেও। এখানে শিক্ষা অর্জনের পর সরকারি চাকরি যদি কারো হয়। তাহলে তার সারাজীবন ঘুষ নিতে হয়। ঘুষ খেতে হয়। স্বজ্ঞানে অপরাধমুলূক কাজ করতে হয়। তার প্রধান কারণ হচ্ছে, সে যখন চাকরি নিয়েছিল। তখনই ঘুষ দিয়ে তার চাকরি নিতে হয়েছিল। প্রমোশন পাওয়ার সময় ও ঘুষ দিতে হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার সেই চুয়ান্ন বছর ধরে যারাই দেশ চালিয়েছে, সাধারণ জনগণের ভালো মন্দ নিয়ে তাদের কোনো ভাবনা ছিল না কোন কালেই। আজকেও নেই।
বাংলাদেশের জনগণের কোথাও কোনো মূল্য নেই। থানায় বা আইন আদালত। এমনকি পরিবহন সেক্টর অথবা হাসপাতাল কোথাও কোনো কদর নেই এই জাতির, যদি তিনি দেশের সাধারণ বা গরীব হয়ে থাকেন এমনকি অসংখ্য জায়গায় মধ্যবিত্ত পরিবারের ও কদর নেই । মাঝে মাঝে মনে হয়, এটা কোনো মানুষের সমাজই না। মনে হয় আমরা সবাই কোন এক অচেনা দ্বীপের বাসিন্দা মাত্র ।
বলতে হবে দেশের এই যে সরকার মানে দরিদ্র একটি সরকার। সরকারের মন্ত্রী এমপিদের বড়ো বড়ো কথা বলা ছাড়া আর তেমন কিছু নেই আমাদের দেশের একটি সরকারের কাছে । তবে সরকার গরিব এরকম কথা শুধুমাত্র বাংলাদেশে আমি একাই লেখালেখি করে আসছি। এমন কথা দেশের আর কোন বুদ্ধিজীবী বা রাষ্ট্রচিন্তকেরা বলছেন না। এই যে ধরুন বিএনপি সরকারের বাৎসরিক বাজেট প্রায় দশ লাখ কোটি টাকার সমান। এখানে সরকারের এক হাজার কোটি টাকাও নিজের নেই। সবগুলো টাকা জনগণের পকেটের। আর বাকীটা ঋণ করে নেয়া হচ্ছে ।
যার জন্য এখানে জনগণ কোন সুফল পায় না কখনও কোনো সরকারের কাছে। রাজনীতির মুখোশে এখানে চলে ব্যবসা চলে জুয়া খেলা মানে মার ছক্কা । আজকে যে দল ক্ষমতায় আছে। পাঁচ বছর পর জানতে পারবেন। তাদের অনেকেই বিদেশে টাকা পাচার করেছে, গাড়ী বাড়ি করেছে। প্রশ্ন থাকে যে, যদি সরকার গরিব হয়ে থাকে, তাহলে তারা চুরি কোথায় থেকে করবে? এই যে বাৎসরিক দশ লাখ কোটি টাকার বাজেট। পাঁচ বছরে আসবে পঞ্চাশ লাখ কোটি টাকার সমান। সেই টাকা থেকেই চুরি। এছাড়াও চাঁদাবাজি তো রয়েছেই। কমিশন বাণিজ্য রয়েছে। রাষ্ট্রের সম্পদ বিকির ব্যবসা রয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
তবে যাই হোক। আমি মনে করি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো কিন্তু কোনো সরকারের কঠিন বিষয় নয়। যা বতর্মান সরকার ও ইচ্ছে করলে। যদি একটা সরকার তাও না পারে, তাহলে তো ব্যর্থ সরকার বলবে জনগণ একদিন, শতভাগ ব্যর্থ। এই রকম শ্লোগান তো একদিন আসবেই। আমি মনে করি শিক্ষাখাতে প্রথম প্রয়োজন হলো একটা শিক্ষার্থীকে উৎসাহ প্রধান করা। ছাত্র/ ছাত্রী যখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হলো, সে ধীরে ধীরে টু,থ্রি,ফোর -ফাইভ পাস করল। এখানে তাকে তার স্কুলের শিক্ষা মূল্যায়নসহ মূল্যায়ন পত্র দিবে। তবে থাকে যে, শুধু পরীক্ষার উপরে মূল্যায়ন দিবে তা নয়। এখানে মূল্যায়ন পত্র আসবে তার খেলাধুলাসহ অন্যান্য পারদর্শীতা। সাহিত্য, সংস্কৃতি, গান – অভিনয়সহ নানারকম দিক নিয়ে।
তারপর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এস এস সি পরীক্ষায় ও তাকে মূল্যায়ন করা হবে, খেলাধুলাও তার সাহিত্য, সংস্কৃতি সমাজসেবাসহ নানারকম দিক নিয়ে। তাহলেই একজন শিক্ষার্থী ছেলে বা মেয়ে লেখাপড়ায় যেমন মন দিবে। ঠিক তেমনি সামাজিকতা, খেলাধুলা সাহিত্যচর্চা বই পড়া এবং মানবিক হওয়ার প্রবণতা তার মাঝে কাজ করবে সবসময়।
প্রিয় পাঠক, দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে লেখালেখি করে আসছি । তার মধ্যে সবচেয়ে গর্বের বিষয় হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন আমার বেশকিছু পরামর্শ তাদের নীতিমালায় যোগ করেছে শুনে খুবই ভালো লাগছে আজকে । এভাবেই যদি সরকারের পক্ষ থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা, আদালত পাড়াস শিক্ষা এবং যানজট প্রতিরোধক আমার দেয়া পরামর্শ গুলো সত্যি সত্যি কার্যকর করা হয়। হয়তো দেশের জনগণ কিছু হলেও সুফল পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। আজকের এই লেখায় কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দেশ – বিদেশের সম্মানিত সকল পাঠক / পাঠিকা এবং সেই সকল পত্রিকা গুলোর সম্মানিত প্রকাশক – সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক এবং সাংবাদিকগণকে। আমার লেখাগুলো পরে যারা ফেসবুকে লাইক শেয়ার ও কমেন্ট করেন। তাদের প্রতি রইল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক, রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মোহাম্মদপুর, ঢাকা ১২০৭।
সূত্র : রাষ্ট্র সংস্কার বই থেকে।