সিলেট নিউজ ডেস্ক :
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একটি বিশেষ বিমানে করে ছয়জন নাইজেরীয় নাগরিককে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার আদালতে এখন তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এই ব্যক্তিরা অনলাইনে প্রেমের নাটক বা ‘রোমান্স স্ক্যাম’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার এক বিশাল আন্তর্জাতিক চক্র গড়ে তুলেছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চক্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনেরও বেশি নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে টার্গেট করেছিল। তাদের মিষ্টি কথার ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগীরা কোটি কোটি টাকা পাঠাতে শুরু করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এই জালিয়াতির শিকার হওয়া মানুষদের মধ্যে বড় বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিরীহ পেনশনভোগী প্রবীণ নাগরিকেরাও ছিলেন। সব মিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন র্যান্ড (দক্ষিণ আফ্রিকান মুদ্রা), যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি ($৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)!
গ্রেপ্তারকৃত এই ছয়জনকে বৈশ্বিক সাইবার অপরাধের অন্যতম বড় চক্র ‘Black Axe’-এর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইন্টারপোল। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে নাইজেরিয়ার একটি ছাত্র সংগঠন থেকে এই নেটওয়ার্কের উৎপত্তি হলেও, বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে সাইবার আর্থিক জালিয়াতির প্রধান হোতা। ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষ পুলিশ ইউনিট ‘Hawks’-এর অভিযানে এরা ধরা পড়ে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে কেপ টাউন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের এফবিআই এবং ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অনলাইন রোমান্স স্ক্যামগুলো মূলত খুব ধীরগতিতে কাজ করে। একজন অপরিচিত মানুষ প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিন কথা বলে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। সেই কথা একসময় রূপ নেয় ভালোবাসায় এবং গভীর বিশ্বাসে। আর যখনই সেই বিশ্বাস চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই শুরু হয় বিভিন্ন অজুহাতে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ইন্টারনেটে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।