অথই নূরুল আমিন:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। উক্ত নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র নেতৃত্বে এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। যা শতভাগ পরিবারতন্ত্র মুক্ত জোট। দেশের আঠারো কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করবে একটি পরিবারের একজন ব্যক্তি, এটা কখনও মেনে নেয়া যায় না। এবং তার ফল কখনও ভালো হতে পারে না।
আজকে আমরা এগারো দলে পেয়েছি নানামুখী নানা মতের শিক্ষিত একঝাঁক ইসলামী ও যুবক এমপি পদপ্রার্থী। আশাকরি তারা সবাই দেশ এবং জনগণের কল্যাণে ভালো কিছু করবেন।
আজকের এই লেখায় এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সকলের এই মর্মে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, বিগত চুয়ান্ন বছরের অগোছালো রাজনীতির কবলে পরে দেশের ষাট ভাগ জনগণ আজকে সুবিধাবঞ্চিত। তারা দেশের কোনরকম নাগরিক সেবাই পাচ্ছে না।
এখানে কথা থাকে যে, বাংলাদেশে বিশেষ করে যারা পরিবারতন্ত্র রাজনীতি বিশ্বাসই। তারা সেই দুখী জনগণের কোনরকম খবরই জানে না। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি, এগারো দলীয় জোটের সাথে যারা আছেন। আমিসহ সকলেই কিছু সেই ভূক্তভোগী জনগণের খবর কমবেশি সবাই জানি। এবং এগারো দলীয় জোটের সকল নেতারাও জানেন। তাই নিম্নে দেয়া পদক্ষেপ গুলো জন স্বার্থে তারা বাস্তবায়ন করবেন বলে আমার বিশ্বাস।
১. শিক্ষাব্যবস্থা : বাংলাদেশের সকল প্রকার শিক্ষাই কোন না কোনভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার। তাই শতভাগ জাতিকে তথা ভবিষ্যত প্রজন্মকে শিক্ষিত নাগরিক করে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থা শতভাগ চলবে সরকারের নেতৃত্বে। শিক্ষা হবে অবৈতনিক। যার ফলে ধনী গরিব সকল শিক্ষার্থীরা একযোগে লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে।
২. স্বাস্থ্য সেবা : স্বাস্থ্য সেবা ফ্রি নয়। তবে ঔষধ পরীক্ষা এবং ডাক্তার ফি নিম্নমুখী ও ভেজালমুক্ত ঔষধ সরবরাহ করন।
৩. সিন্ডিকেট : আমাদের দেশের সিন্ডিকেট খুবই শক্তিশালী। তারা বিভিন্ন সময় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে দিয়ে সাধারণ জনগণকে শোষণ করে থাকেন। যা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা জরুরি বলে আমি মনে করি।
৪. ভূমিহীন গৃহহীন ও ভাসমান জনগণের জন্য শত বছরের জন্য পরিকল্পিত ভাবে আশ্রায়ন বা পূনর্বাসন করন।
৫. দেশের প্রায় নব্বই ভাগ জনগণ স্থল পথে এবং নৌ পথে পাবলিক যানবাহনে চলাচল করেন, তাই এগুলোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমিহীন গৃহহীন ভাসমান জনগণের ভাড়া অর্ধেক হওয়া খুবই জরুরি।
৬. কৃষি খামার মৎস্য চাষের উপর নজর দিতে হবে। ব্যাপক উৎপাদন করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং দেশীয় পণ্য বিদেশে রফতানি করনে মনোযোগী হতে হবে।
৭. সরকারি খাতে ঘুষ বন্ধ করতে এবং বেসরকারি খাতের চাদাবাজী বন্ধ করা খুবই জরুরি। বিশেষ করে পুলিশকে সত্যি সত্যি জনবান্ধব করতে হবে।
৮. সরকারিভাবে উন্নয়নের কাজগুলো নিখুঁত ভাবে করতে হবে। বিশেষ করে সড়ক মহা সড়ক গুলো পাশে লেন না জমি নষ্ট না করে আরো উন্নত চিন্তা নিয়ে করা জরুরি।
৯. আইন ব্যবস্থা আরো অধিকতর উন্নত করতে হবে এবং মামলা জট কমিয়ে রাখতে হবে। মামলা যত দ্রুত নিস্পত্তি হবে ততই সরকারের সুনাম। এবং আলাদা আইনজীবী অর্থাৎ বাদী বিবাদীর ভিন্ন আইনজীবী ভিন্ন পোষাক রাখা এখন সময়ের দাবি। প্রতি তারিখ তারিখে আইনজীবীদের নির্ধারিত ফি সরকার নির্ধারণ করে দেয়া। চুক্তির মাধ্যমে আসামীর জামিন এই রোগ বন্ধ করতে হবে।
১০. প্রবাসীদের বেলায় সরকার যত্নবান হতে হবে। প্রবাসীদের বেলায় বিশেষ করে যারা রেমিট্যান্স পাঠান দেশে তাদেরকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া খুবই জরুরি।
১১. দেশের সার্বিক জনগণের জন্য সুন্দর কিছু করতে হলে দলমতের উর্ধে উঠে আইন বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ করা খুবই জরুরি বলে মনে করি।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান সমন্বয়ক জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
৩. ফেব্রুয়ারি ২০২৬