মোঃ নাদিরুজ্জামান
অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তার তালিকা প্রণয়নকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে হুমকি এবং অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে কাস্তুল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ এনায়েত উল্লা বাদী হয়ে অষ্টগ্রাম থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য মানবিক সহায়তার তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছিল। এ সময় একই ইউনিয়নের মসজিদজাম এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফ রেজা চৌধুরী কয়েকজন কৃষকের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় তাতে সম্মতি না দিলে শরিফ রেজা চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি উচ্চস্বরে বলেন—
“বিএনপি কী জিনিস চিনস? সব কয়টারে লাথি দিয়া পরিষদ থেইকা বাইর কইরা তালা দিমু।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মোঃ ফারুক ভূঁইয়া প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ রয়েছে, এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফ রেজা চৌধুরী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে থাকা একটি কম্পিউটার আছড়ে ভেঙে ফেলেন। এতে কৃষকদের সহায়তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কাস্তুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন মিয়া বলেন,
“আমরা বাইরের এলাকা থেকে এসে এখানে দায়িত্ব পালন করছি। প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় প্রতিবাদ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ঘটনার পর বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ এনায়েত উল্লা বলেন,
“অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতেও একাধিকবার এ ধরনের আচরণ করেছেন। সর্বশেষ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলে আশা করছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদ বলেন,
“শরিফ রেজা চৌধুরী প্রায় ২০ বছর আগে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে বিএনপি বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কোনো অপকর্ম করলে তার দায় দল নেবে না। বরং দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
অভিযুক্ত শরিফ রেজা চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা বণ্টনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।