নূর হোসাইন:
একটি রাষ্ট্র কেবল ইটের দালান বা অর্থনীতির সূচকে বড় হয় না; একটি রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে বড় হয় তার নাগরিকদের মানবিকতার উচ্চতায়। বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আমাদের সমাজ কি সবদিক থেকে সহনশীল হয়ে উঠতে পেরেছে? সাম্প্রতিককালে আমাদের জাতীয় জীবনে অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষের যে বিষবাষ্প দেখা যাচ্ছে, তা আমাদের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনার পরিপন্থী।
আমার জীবনের দীর্ঘ পথচলায় আমি শিক্ষার আলো আর সেবার মন্ত্রকে সঙ্গী করেছি। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় যখন সহপাঠীদের পড়া বুঝিয়ে দেওয়ার আনন্দ অনুভব করেছিলাম, তখন জানতাম না সেই জ্ঞান বিতরণের নেশাই আমার জীবনের ব্রত হয়ে উঠবে। বিগত ১৩ বছর ধরে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার সাথে যুক্ত থেকে আমি বিভিন্ন সময়ে ‘দৈনিক নিরপেক্ষ সংবাদ’, ‘দৈনিক অন্য দিগন্ত’, ‘দৈনিক রূপবানী’, ‘সাপ্তাহিক অপরাধ সন্ধানে’, ‘দৈনিক বাংলার ডাক’, ‘দৈনিক বাংলাদেশের আলো’, ‘দৈনিক বাংলা’, ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’, ‘দৈনিক নতুন দিন’, ‘দৈনিক আমার সংবাদ’, ‘দৈনিক খবর বাংলাদেশ’ ও ‘ঢাকা প্রতিদিন’-সহ অসংখ্য পত্রিকার মাধ্যমে লেখনীর লড়াই চালিয়ে গেছি। আমার উদ্দেশ্য ছিল সমাজের অপরাধ ও অনিয়ম তুলে ধরে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। বিপদে পড়া মানুষ যখন সহায়তা চেয়েছে, আমি সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়দের জানিয়েছি এবং তারা যে ত্বরিত আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন, তার জন্য আমি তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
সাংবাদিকতার এই দীর্ঘ যাত্রায় আমি ১২ বছর ধরে ‘ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন’ (ডিইউজে)-এর একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে যোগ্য নেতৃত্বের বিকাশে কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস, সাংবাদিকদের কল্যাণে সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়াটাও সাংবাদিকতারই একটি বড় অংশ।
এদিকে গত ৬ মার্চ ২০২৪ সালে আমার স্বপ্নের দল ‘জিগীষা মানবিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রার মাধ্যমে আমরা আমাদের লক্ষ্য ও কর্মসূচি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য—হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত এক মানবিক বাংলাদেশ।
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর অদম্য ইচ্ছায় আমি এখনো রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম ও ইসলামী শিক্ষার মতো বিষয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করছি। জ্ঞান অর্জনের এই নেশা কেবল আমার নিজের জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। আমি বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহ আমাকে কেবল নিজের সুখের জন্য সৃষ্টি করেননি; আমার জীবনের প্রতিটি নিশ্বাস যেন তাঁর সৃষ্টির সেবায় উৎসর্গিত হয়। সেবা না করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে আমি মনে করি আমার সৃষ্টির উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে যাবে। আর সেই অপূর্ণতা যেন না থাকে, তাই আমার এই নিরন্তর চেষ্টা।
আজ আমি যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, তা সম্ভব হয়েছে আপনাদের ভালোবাসায় ও সহযোগিতায়। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার এই দীর্ঘ পথচলায় আমি যেভাবে আপনাদের পাশে পেয়েছি, ভবিষ্যতেও সেই একই সমর্থন প্রত্যাশা করি। আসুন, আমরা ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি পরিহার করে মানুষের কল্যাণে কাজ করি।
পরিশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করি। আমার স্বপ্ন ও এই মানবিক লড়াইয়ে আপনাদের সমর্থনই হোক আগামী দিনের শক্তি। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হোক—“জয় মানবিক, জয় হোক মানবতার।”