নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
পারিবারিক অভাব-অনটন কিংবা জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখে অনেকেই যখন থমকে দাঁড়ায়, ঠিক তখন কিছু মানুষ স্রোতের বিপরীতে হেঁটে তৈরি করেন নতুন ইতিহাস। এমনই এক অদম্য, সংগ্রামী এবং মানবিক ব্যক্তিত্বের নাম সাংবাদিক নূর হোসাইন (নূর এইচ)। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসে যিনি আজ কেবল একজন সফল গণমাধ্যমকর্মীই নন, বরং অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর। সম্প্রতি ‘জিগীষা মানবিক পার্টি’ নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে দেশের রাজনীতিতেও তিনি এক নতুন মানবিক ধারা সৃষ্টির প্রয়াস চালাচ্ছেন।
সংগ্রামী জীবন ও শিক্ষার আলোয় ফেরা
নূর হোসাইনের পৈতৃক নিবাস ভোলা জেলার সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্ত মুন্সি গ্রামে। পিতা মৃত জয়নাল আবেদীন এবং মাতা রওশান আরা বেগমের এই সন্তান ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন সমাজসচেতন। একসময় পারিবারিক ও সাংসারিক গুরুদায়িত্ব কাঁধে আসায় মাঝপথে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষার প্রতি অদম্য আকুলতা যাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়, তাঁকে কি আটকে রাখা যায়? সব বাধা ডিঙিয়ে তিনি আবারও বই-খাতা হাতে তুলে নেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিনে মতিঝিল সরকারি টি এন্ড টি কলেজে বি এস এস (পাস) কোর্সে রাষ্টবিজ্ঞান, সমাজকর্ম ও ইসলামী শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র ছিলেন, এবং সেখানে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা বিষয়ে কিছু জ্ঞান অর্জন করছেন, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
সাংবাদিকতায় দেড় দশকের পথচলা
২০১২ সালে ‘দৈনিক নিরপেক্ষ সংবাদ’ পত্রিকার মাধ্যমে নূর হোসাইনের সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। এরপর দীর্ঘ দেড় দশকে তিনি তাঁর ক্ষুরধার লেখনী ও সততার মাধ্যমে গণমাধ্যম জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে ‘দৈনিক রূপবাণী’, ‘দৈনিক অন্য দিগন্ত’, ‘দৈনিক বাংলাদেশের আলো’, দৈনিক বাংলা,‘দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন’, ‘দৈনিক আমার সংবাদ’, ‘দৈনিক নবচেতনা’, ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’, ‘দৈনিক বাংলা ডাক’ এবং ‘সাপ্তাহিক অপরাধ সন্ধান’-এর মতো স্বনামধন্য পত্রিকায় রিপোর্টার ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘দৈনিক খবর বাংলাদেশ’ পত্রিকার বরিশাল বিভাগীয় প্রধান এবং ‘দৈনিক নতুন দিন’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি শেরে বাংলা নিউজ এর সম্পাদক ও দৈনিক রূপবানী এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশাদারিত্বের আড়ালে এক ‘মানবিক মানুষ’
নূর হোসাইন কেবল সংবাদের পেছনেই ছোটেননি, বরং সংবাদ হতে যাওয়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছায়ার মতো। করোনাকালীন সংকট কিংবা প্রলয়ঙ্কারী বন্যা—যেকোনো প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিপর্যয় বা সাধারণ মানুষের সংকটে তিনি মাঠপর্যায়ে ছুটে গেছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, দরিদ্রদের চিকিৎসায় সহায়তা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি দীর্ঘ বছর ধরে কাজ করছেন। সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কারণে নিজ এলাকায় তিনি ‘মানবিক সাংবাদিক’ হিসেবে এক বিশেষ পরিচিতি ও ভালোবাসা লাভ করেছেন।
রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত: ‘জিগীষা মানবিক পার্টি’
দীর্ঘদিন সমাজ ও মানুষের খুব কাছে থেকে কাজ করতে গিয়ে নূর হোসাইন উপলব্ধি করেন, একটি কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া সমাজের স্থায়ী কল্যাণ সম্ভব নয়। সেই ভাবনা থেকেই ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকার ওয়ারীর দৈনিক রূপবাণী ভবনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বে ‘জিগীষা মানবিক পার্টি’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। দলের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি রাজনীতিকে ক্ষমতার হাতিয়ার না বানিয়ে মানুষের সেবার মূল মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজে নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়ে দলের প্রতীক হিসেবে ‘ঝর্ণা কলম’ মার্কা বরাদ্দের আবেদন জানান, যা তাঁর সৃজনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনৈতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
ভবিষ্যৎ দর্শন
নূর হোসাইনের রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো—সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্য এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুদৃঢ় সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন যেখানে কোনো মানুষ অধিকারবঞ্চিত থাকবে না এবং হিংসা বিদ্বেষ বিহীন মানবিক বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
একজন সাধারণ রিপোর্টার থেকে আজ মানবিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা হয়ে ওঠার এই গল্পটি কেবল নূর হোসাইনের একার নয়; এটি মূলত সততা, পরোপকার আর অনমনীয় ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত দলিল। দেশের সচেতন মহল মনে করছেন, নূর হোসাইনের মতো তরুণ ও মানবিক নেতৃত্ব আগামী দিনে সমাজ সংস্কারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।