সত্যজিৎ দাস:
সিলেটি ভাষা ও সিলেটের মানুষের ভাষাগত পরিচয় নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে এনসিপি নেত্রী হুমায়রা নূরের কথিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির নেতারা বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে সিলেটবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের নেতারা বলেন, বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলের ভাষা,উচ্চারণ বা সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপ করা উচিত নয়। দেশের বৈচিত্র্যময় ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব।
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,ভাষা মানুষের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভাষার বৈচিত্র্য রয়েছে। তাই কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষা বা উচ্চারণকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা সমীচীন নয়।
তিনি বলেন,সিলেটি ভাষার নিজস্ব শব্দভাণ্ডার, উচ্চারণরীতি ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। সিলেটি নাগরি লিপিও এ অঞ্চলের ভাষাগত ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনৈতিক বক্তব্যকে জোরালো করতে কোনো অঞ্চলের মানুষের ভাষাগত পরিচয়কে উপহাস করা উচিত নয়।
শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা অন্যের ভাষা, সংস্কৃতি বা আঞ্চলিক পরিচয়কে অপমান করার অধিকার দেয় না। বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্টদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারহানা আফরোজ বলেন,বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের ভাষা,সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের প্রতি সম্মান থাকা জরুরি। কোনো অঞ্চলের উচ্চারণ বা ভাষাভঙ্গিকে নিয়ে উপহাস করা দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন,সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে যে প্রতিবাদ তৈরি হয়েছে,তা কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়। কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষা,উচ্চারণ বা আঞ্চলিক পরিচয়কে ছোট করে দেখার মানসিকতার বিরুদ্ধেই এ প্রতিবাদ।
বিবৃতিতে সংগঠনের নেতারা বলেন,সিলেটি ভাষা কারও করুণা বা স্বীকৃতির অপেক্ষায় নেই। সিলেটের নিজস্ব ইতিহাস,ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে। এ পরিচয়ের প্রতি সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব।
বিবৃতিতে স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ,পৃষ্ঠপোষক পরিষদের চেয়ারম্যান কাউন্সিলর মো. আয়াছ মিয়া, উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন,উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন,সাবেক ব্যাংকার একরাম হোসেন, সহসভাপতি এম.এ. সবুর,মো. মুছা আলম খান চৌধুরী,সাংগঠনিক সম্পাদক স.ম. জিয়াউর রহমান,যুক্তরাজ্য শাখার আহ্বায়ক সুহেল ইসলাম,সদস্যসচিব মো. মাসুদুর রহমান,মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. জোসেপ আলী চৌধুরী,সদস্যসচিব রুবেল আহমদ,সদস্য সত্যজিৎ দাস,রিপন আহমেদ ও ছায়েদ আলীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।
সংগঠনটির নেতারা জানান,হুমায়রা নূরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে মন্তব্যটিকে আঞ্চলিক ভাষা ও উচ্চারণের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন।
এ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও লন্ডনে বসবাসরত সিলেটিদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য,বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সিলেটিরা নিজেদের ভাষা,সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গর্বের সঙ্গে ধারণ করে আসছেন। ফলে সিলেটি ভাষা ও পরিচয় নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য তারা মেনে নিতে পারেন না।
প্রতিবাদকারীরা অবিলম্বে বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার এবং সিলেটবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.