শিরোনাম
চট্টগ্রামে দূর্মর বাংলাদেশ এর বৃক্ষরোপন কর্মসূচি সম্পন্ন একাই করেন তিনটি সরকারি চাকুরী দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জগন্নাথপুরে জাতীয় পার্টির প্রতিবাদসভা বড়লেখার হাকালুকি হাওর পারে গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ জামিনে বের হয়ে ফের দুই প্রতারক সহ গ্রেফতার মজিবুর রহমান। গুমান মর্দন প্রবাসী পরিষদ সংযুক্ত আরব আমিরাত গভীরভাবে শোকাহত বৃহত্তর গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানব সেবায় নিয়োজিত হবিগঞ্জের মাধবপুরে ১০ কেজি গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বানিয়াচংয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী পালিত বিশ্বনাথে নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি মতবিনিময় সভা আহবায়ক কমিটি গঠন
শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

মোবাইল ফোন আসক্তি ও আমাদের করণীয়।

Satyajit Das / ৩৬৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সাগর বৈষ্ণব:

মোবাইলফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি যন্ত্র। কিন্তু এই যন্ত্রটাই যে আমাদের শেষ করে দিচ্ছে! হ্যাঁ ভাই বলছিলাম ফোন এডিকশনের কথা। Addicted এর অর্থ -আসক্ত। আসক্তির সাধারণ সংজ্ঞামতে সেইসব বস্তুর (যেমন- মদ, তামাক এবং অন্যান্য মাদক দ্রব্য) ব্যবহার বোঝায় যা গ্রহণ করার পরে রক্ত ও মস্তিষ্কের প্রতিবন্ধক অতিক্রম করে সাময়িকভাবে মস্তিষ্কের রাসায়নিক দ্রব্যের পারিপার্শ্বিক অবস্থা পরিবর্তন করে। আসক্তি হয় কোনও পদার্থ বা আচরণের উপর অবিচ্ছিন্ন এবং বাধ্যতামূলক নির্ভরতা। নেশা এটি দ্বারা চিহ্নিত করা হয় অস্বীকার, ব্যবহার বা আচরণে নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে,এটি অন্তর্ভুক্ত নেতিবাচক পরিণতিগুলি এবং পর্যায়ক্রমিক বা অবিচ্ছিন্ন পর্বগুলিতে আসক্তি সম্পর্কিত চিন্তার বিকৃতি সম্পর্কে জেনে থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার বা আচরণে পুনরায় সরে যাওয়া। আসক্তি থেকে জেনেটিক, সাইকোসোসিয়াল বা পরিবেশগত প্রকৃতি এবং এগুলো গুরুতর ক্ষেত্রে বা যেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অ্যাক্সেস নেই সেখানে ক্রমবর্ধমানভাবে মারাত্মক হয়ে উঠতে উন্নয়নের উপর প্রভাব ফেলে।

অনেকে এই তালিকায় মানসিক প্রবৃত্তি সৃষ্টিকারী আরো অনেক ধ্রুবককেই অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন। যেমন- জুয়া, খাদ্য, যৌনতা, কম্পিউটার, ভিডিও গেইম, ইন্টারনেট, কর্ম, ধর্ম, শারীরিক চর্চা, দূরদর্শন ও কেনাকাটা। এই সকলেরই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে আসক্তির এবং সাথে সাথে লজ্জা, অপরাধবোধ, ভয়, নিরাশা, ব্যর্থতা, দুশ্চিন্তা, প্রত্যাখ্যান, উদ্বেগ, ব্যাকুলতা ও হীনম্মন্যতার সৃষ্টি করে।আসক্তি শুধুমাত্র মাদকজাতীয় দ্রব্যের অপব্যবহার নয়, বরং যেকোনো কিছুর অপব্যবহার থেকে হতে পারে। যেমন- জুয়া অথবা কম্পিউটার আসক্তি। যেকোনো কর্মকাণ্ড যা মানসিক,শারীরিক বা সামাজিকভাবে হানিকারক এবং নিজের ক্ষতি জেনেও সেই ক্রিয়ার প্রতি ব্যবহারকারীর অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষার পুনরাবৃত্তিকেই আসক্তি বলে।

মোবাইলে যে বিষয়গুলো তৈরি হয়েছিল আমাদের জীবনযাপনকে সহজ ও আরামদায়ক করার জন্য কিন্তু এই ফোন আর সোশ্যাল মিডিয়া ক্রমশ আমাদের জীবনের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর আমরা সেটা বুঝতেও পারছিনা। আমরা আমাদের মূল্যবান সময় এতে ব্যয় করছি এতে নষ্ট হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ। টেকনোলজি শুরু হয়েছিলো আমাদের জীবন যাপনের মান বাড়ানোর জন্য,কিন্তু আমরা সেই টেকনোলজিকে আজ খুবই বাজে ভাবে ব্যবহার করছি যার কোন লিমিট নেই। টেকনোলজি ততোদিন কোন সমস্যা ছিলোনা যতোদিন  স্মার্টফোন আসেনি। ফোন দিন দিন স্মার্ট হচ্ছে আর মানুষ দিন দিন বোকা হচ্ছে! এই ফোন আমাদের মানব জাতিকে খুবই বাজে ভাবে গ্রাস করে ফেলছে। একটাবার ভেবে দেখুন ত আপনি প্রতিদিন কয় ঘন্টা ফোন ব্যাবহার করছেন? আর তার মাঝে কতো ঘন্টা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার কছেন এই ফোনটাকে? একটা মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৫ ঘন্টা তার ফোনের সাথে কাটায়! যদি আপনি ৫০ বছর বাছেন তাহলে হিসাব করে দেখুন আপনি ১০ বছর চার মাস কাটিয়ে দিবেন এই ফোন নিয়েই! এখন তো আছে আরেকটা নেশা,গেমের নেশা,অপ্রাপ্ত থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক সবাই এই গেমের পিছনে তার সময় ব্যয় করছে অকারণে। বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন এডিকশন কারো ফেইসবুকের নতুবা কারো গেমের,আবার কারো ইউটিউবের বা কারো হোয়াটসঅ্যাপের।

সিগারেটের যে এডিকশন এইটায় কেবল আপনার ফুসফুসের ক্ষতি করে কিন্তু এই ফোন আপনার সবকিছুই ক্ষতি করছে! এই ফোন ব্যাবহারে যদি এখনো সতর্ক না হোন তাহলে আপনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। শুধু আপনার না ঘোটা পৃথিবিই পরবে হুমকির মুখে শুধু এই ফোন এডিকশনের কারণে। যাদের একটা সময় স্কিল ডেবলপড করার কথা তারা ঠিক সেই সময়ে এসে মোবাইলে তাদের মূল্যবান সময়টাকে ব্যয় করছে এতে করে যে সে কতোটা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সে নিজেও জানেনা। ফোন এডিকশন একটি ভয়ংকর জিনিস এইটা থেকে বেড়িয়ে আসুন অন্যকে বেরিয়ে আসতে সহযোগিতা করুন,জাতিকে সংশোধন করুন।


মোবাইল ফোনের ১০ টি ক্ষতিকর দিকঃ-

তারবিহীন ক্ষুদ্র এই মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আমরা অনেক অসচেতন। এই আধুনিক যন্ত্রটির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কত ধরনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি দেখা দিতে পারে, সে সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি। অতিরিক্ত সময় ধরে মোবাইল ফোনের ব্যবহার আপনার স্বাস্থ্যের ওপর নানা প্রভাব ফেলে। শুধুই শারীরিক সমস্যাই না, এর ফলে হতে পারে তীব্র মানসিক সমস্যা।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দিন দিন প্রযুক্তির উৎকর্ষের মাধ্যমে যে জিনিসটির সাথে আমরা সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত হয়ে পড়ছি,তা হলো মোবাইল ফোন। আমাদের দৈনন্দিন কাজের শুরুটাই হয় মোবাইলের এলার্মের মাধ্যমে এবং দিন শেষে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ও মোবাইলই হয় আমাদের নিত্যসঙ্গী। এর মাঝে দিনের একটা উল্লেখযোগ্য অংশই আমরা মোবাইল নিয়ে কাটাই। সেটা হতে পারে ভিডিও স্ট্রিমিং,অডিও মিউজিক শোনা, ই-পেপার পড়া, যোগাযোগ, সময় দেখা বা গেম খেলা সহ নানামুখী কাজের প্রয়োজনেই। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। একাধিক গবেষণায় ভিত্তিতে হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় পড়ছেন ব্যবহারকারীরা। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদদের বিভিন্ন গবেষণায়ও উঠে এসেছে মোবাইল ফোনের নানা ক্ষতিকর দিকসমূহের কথা। আসুন জেনে নেই মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক গুলো কি কি।

১) ঘাড় ব্যাথাঃ- দীর্ঘসময় মাথা ঝুঁকিয়ে মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকার কারণে দেখা দিতে পারে ঘাড় ব্যাথার সমস্যা। অত্যধিক গেম আসক্তি, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ভিডিও দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোযোগ বেশি দিতে গিয়ে অনেক সময়ই মোবাইল ব্যবহারের সঠিক দূরত্ব ও বডি পজিশন ঠিক রাখা সম্ভব হয় না। ফলে মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকার কারণে ঘাড়ে ব্যাথা দেখা দেয়। এজন্য যে কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সঠিক দূরত্ব ও বডি পজিশন ঠিক রেখে ব্যবহার করা উচিৎ।

২) চোখের জ্যোতি কমে যাওয়াঃ- গবেষকদের মতে এ বিষয়টি ‘এপিজেনেটিক্স’ সম্পর্কিত বিষয়। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় চোখের খুব কাছে রেখে মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়ার একধরনের জিনগত সমস্যা দেখা দেয়।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে মোবইল ফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার দৃষ্টিহীনতার কারণ হতে পারে। মার্কিন ম্যাকিউলার ডিজেনারেশন অ্যাসোসিয়েশন এর মতে, মোবাইলের নীলাভ আলো চোখের রেটিনার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মাধ্যমে অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। স্ক্রিনের ফন্ট সাইজ বড় করে, চোখ থেকে অন্তত ১৬ ইঞ্চি দূরে রেখে এবং একটু পরপর ২০ সেকেন্ডের জন্য স্ক্রিন থেকে চোখ ফিরিয়ে সবুজ গাছপালার দিকে তাকানোর মাধ্যমে এ সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। আর সব সময় মোবাইল স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখার চেস্টা করবেন।

৩) কানে কম শোনাঃ- মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ কথা বলা,উচ্চ আওয়াজে গান শোনা এবং কানে হেডফোন গুঁজে রাখার মাধ্যমে দেখা দিতে পারে শ্রবণশক্তি হ্রাস হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের শ্রবণশক্তি হ্রাসের হার বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। দৈনিক ২-৩ ঘন্টার বেশি মোবাইল ব্যবহারকারীদের ৩-৫ বছরের মধ্যে আংশিক বধির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কানে হেডফোন লাগিয়ে যত্রতত্র চলাফেরায় প্রতিনিয়ত অনেক দূর্ঘটনা ঘটছে। পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হওয়া ট্রেন,বাসসহ নানা যানবাহনগত দূর্ঘটনার বিরাট সংখ্যক কানে হেডফোন লাগিয়ে চলাফেরার কারণে হচ্ছে।প্রয়োজন অতিরিক্ত সাউন্ডে গান না শোনা, সব সময় হোডফোন গুঁজে না থাকা এবং দীর্ঘসময় মোবাইলে কথা বলার প্রবণতা কমিয়ে আনা সহ সর্বোপরি সচেতনতাই হতে পারে এর কার্যকর সমাধান।

৪) অস্থি-সন্ধিগুলোর ক্ষতিঃ- ২০১৬ সালের ১৬ জুনে dscout ব্লগের এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে, গবেষণায় দেখা গেছে- সাধারণ একজন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর স্ক্রিনে ট্যাপ, ক্লিক ও সোয়াইপের পরিমাণ গড়ে ২ হাজার ৬ শ ১৭ বার এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪ শ ২৭ বার। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে টাইপিংয়ের ফলে আঙুলের জয়েন্টে ব্যাথা হয়। এমনকি এর ফলে আর্থরাইটিসের সমস্যা হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া বসার ভঙ্গি,কাঁধ ও কানের মাঝামাঝি ফোন রেখে কথা বলা এবং অতিরিক্তত ঝুঁকে দীর্ঘক্ষণ মেসেজ টাইপিংয়ের কারণে বিভিন্ন ধরনের শারিরীক সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে বেশি সময় ধরে মেসেজ টাইপিং না করার এবং সঠিক পদ্ধতিতে মোবাইল ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৫) ম্যাগনেটিক রেডিয়েশনঃ- মোবাইল ফোন থেকে নির্গত হওয়া হাই ফ্রিকোয়েন্সীর ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন শরীরের বিভিন্ন কোষ ও পুরুষের প্রজননতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে। মোবাইলের ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ঘনত্ব কমানো ও পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা। ফোন ব্যবহারের পর প্যান্টের পকেটে বা জামার সাইড পকেটে রেখে দেয়ার সময় মোবাইল যথেষ্ট উত্তপ্ত থাকার ফলে এটি অন্ডকোষের চারপাশের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ হয়। যার ফলে শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য প্যান্টের পকেটে বা শরীরের স্পর্শকাতর কোন অঙ্গের বেশি কাছে মোবাইল ফোন না রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৬) নোমোফোবিয়াঃ- অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে মনের মধ্যে সব সময় মোবাইল আছে কিনা, নাকি হারিয়ে গেলো এমন একটা ভয় তৈরি হয়। এই রোগের নাম নোমোফোবিয়া তথা নো মোবাইল ফোন ফোবিয়া। যুক্তরাজ্যের ও ভারতের তরুণরা যথাক্রমে ৫৩ ও ২৯ শতাংশ এ রোগের শিকার। এছাড়াও মোবাইলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়,দৈনন্দিন অন্যান্য কাজের উপরও যার প্রভাব পড়তে দেখা যায়। মোবাইল নির্ভরতা যথাসম্ভব কমিয়ে আনাই হতে পারে এর কার্যকর সমাধান।

৭) উগ্রতা ও বিষন্নতাঃ- হঠাৎ রিংটোন শোনা মনের উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্নতা থেকে মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারকারীরা আকস্মিক রিংটোন বা ভাইব্রেশন বেজে উঠার শব্দ শুনতে পান। অর্থাৎ তাদের কাছে মনে হয় যে, কেউ বোধহয় কল করলো বা কোন নোটিফিকেশন আসলো। অথচ বাস্তবে এমন কিছু হয়নি। অনেক ব্যবহারকারী অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে এমন সমস্যার কথা বুঝতেও পারেন না। মোবাইল থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৮) মুডঃ- মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে অনেক সময় ব্যবহারকারীর মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। একই সাথে অস্থিরতা ও অমনোযোগীতা বৃদ্ধি পায়। সাধারণত তখন ব্যবহারকারী সহজে এ সমস্যা উপলব্ধি করতেও পারেন না। নিজের অজান্তেই কারো সাথে অশোভন আচরণ করে ফেলেন। এ ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হলে অতিরিক্ত মোবাইল-আসক্তি কমিয়ে আনতে হবে।মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানুষের তড়িৎ চিন্তাশক্তি কমে যায়। সৃজনশীল মেধা কমে যাওয়ার ফলে কোন কিছুর উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায়। মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও নকলের আশ্রয় নেয়ার ফলে দিনদিন দেশের মেধাবী ছাত্ররা নৈতিক অবস্থান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

৯) তরঙ্গ রশ্মিঃ- মোবাইলে গেইমস ও সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদির প্রতি আসক্তির ফলে শিশু-কিশোররা পানাহার ও দৈনন্দিন কাজকর্মে অমোনোযোগী হয়ে পড়ছে। মার্কিন ভাইরাসবিজ্ঞানী ড. ডেভরা ডিভাস মনে করেন,মোবাইলের তরঙ্গ রশ্মি শিশুদের স্বাস্থ্যক্ষতির কারণ হচ্ছে। জাপানের ডকোমো ফাউন্ডেশন পাঁচটি দেশে জরিপ করে ৭০ শতাংশ শিশুর পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণ হিসেবে মোবাইল ফোনকে দায়ী করেছে। তাই নির্দিষ্ট বয়সের আগে কোনভাবেই শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেয়া যাবে না। অনেক সময় শিশুর কান্না বা রাগ ভাঙ্গাতে অভিভাবকরা মোবাইলে কার্টুন বা গান চালিয়ে শিশুর হাতে দেন। যা পরবর্তীতে প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

১০) পর্নো-আসক্তিঃ- মোবাইল ফোন সুলভ হওয়ায় বর্তমানে সব বয়সী মানুষের কাছেই এটি সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। আকাশ সংস্কৃতির ফলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তরুণরা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামক একটি সংগঠনের গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে,রাজধানী ঢাকার ৭৭ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পর্নোগ্রাফি-আসক্তি তৈরি হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্নধরনের শারিরীক সমস্যার পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে বিকৃত যৌনাচারের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার পেছনে মোবাইল ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং এর ফলস্বরূপ পর্নোগ্রাফি-আসক্তি অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই শিশু-কিশোরদের পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ে রাখতে হবে। ঘরের মোবাইলে এডাল্ট কন্টেন্ট ব্লক রাখতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন