শিরোনাম
কারখানা থেকে ছুটি না মিললেও দুনিয়া থেকে ছুটি পেল গার্মেন্টস শ্রমিক হাসিব কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন স্বরেয়া হোসেন বর্ষা মানুষ মানুষের জন্য, সকলে বন্যার্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো উচিত…এটিএম হামিদ প্রাকৃতিক দূর্যোগে দিশেহারা সিলেট, থৈথৈ করে বাড়ছে পানি কানাইঘাটে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের দ্বায়িত্বশীলরা পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট নিয়ে উপজেলার বন্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে বানিয়াচংয়ে বাংলা টিভি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সরকার বন্যার্তদের পাশে আছে ত্রাণের অভাব হবেনা— এমপি মানিক সিলেটে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ঘাটাইল উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দকৃত ঘরে ফাটল ছাতকে বন্যার অবনতি,নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

” গলাকাটা “।

Satyajit Das / ১৯৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সব্যসাচী চৌধুরী:

‘পাগল না পেট খারাপ! আর আসি আমি,একা পেলে হয়তো সত্যিই গলা কুপিয়ে দেবে’

আমার “মা” বলেন দরদাম করাটা একটা শিল্পের পর্যায় পরে,যে শিল্পে আমি একেবারেই সিদ্ধহস্ত নই। কলেজে পড়ার সময়ে ধর্মতলার ফুটপাথে টিশার্ট কিনতে যেতাম, আমায় দেখলেই ওরা দাম বাড়িয়ে দিতো। মা বলতো তুই একা যাস না,নিউমার্কেটে দরাদরি না করতে পারলে ওরা গলাকাটা দাম নেয়।

অনেকদিন পর সেদিন ধর্মতলা গেছিলাম একটা কাজে,তবে একা যাইনি,সাথে বিগবস্ গিয়েছিলেন। মোবাইলের কভার দেখে ভাবলাম একটা কিনি, দাম জিজ্ঞাসা করায় ফক্কর ছোকরা দোকানদার জানালো সাড়ে চারশো টাকা। মিনমিন করে বলতে যাচ্ছিলাম, “চারশোতে হবে?”, হঠাৎ বাঁদিকের পাঁজরের নিচে একটা কনুইয়ের গুঁতো খেয়ে ওঁক করে উঠে চুপ করে গেলাম। গম্ভীর গলায় উনি দোকানদারকে জানালেন “পঁচাত্তর দেব।” আমি মুহূর্তের মধ্যে পাঁজরের ব্যাথা ভুলে গেলাম, শুধু পঁচাত্তর শুনলাম নাকি, আগে একটা দুই-তিন বা নিদেনপক্ষে একটা এক অবধি নেই দেখছি। দোকানদার সোজা চাঁদ থেকে আছড়ে পড়লো মাটিতে, দুইবার বগল চুলকে বললো “অ্যাঁ”। মেঘমন্দ্র স্বর ফের জানালো “পঁচাত্তর দেব”। এইবার আমি ভুল শুনিনি। জীবনে নাচিনি আমি, তবু অবিকল মাইকেল জ্যাকসনের মুনওয়াক নকল করে সুরুৎ করে কয়েক পা ডাইনে সরে গেলাম। আমি আর চিনি না ভদ্রমহিলাকে, আমি তখন চৌরুঙ্গী হোটেলের ব্যালকনি দেখছি মন দিয়ে। ওদিকে তখন এক ভয়ঙ্কর তরোয়াল যুদ্ধ চলছে, মিনিট তিনেক ফেন্সিং চলার পর কানে এলো চিমড়ে দোকানদার বলছে, “ঠিক আছে, একশো দেবেন, ফাইনাল।”

কি আশ্চর্য, এমনও হয় নাকি, হাসিহাসি মুখে গুটিগুটি গিয়ে সবে পাশে দাঁড়িয়েছি, হঠাৎ উনি দোকানদারকে জানালেন “দুটো নেবো, দেড়শো দেব।” এবারে আর মুনওয়াক করার সময় পাইনি, স্যাট করে এবাউট টার্ন নিলাম, ছেলেবেলায় পিটি ক্লাসে এমনটা করতাম। আমারই বুকটা কেমন চিনচিন করছে, দোকানদারের না স্ট্রোক হয়ে যায়। মন দিয়ে ইডেনের আলো দেখছি, খেলা আছে বোধহয়। এদিকে পেছনে রাম-রাবণের যুদ্ধ হচ্ছে। কে যে কার গলা কাটছে বোঝা দায়। খানিক পরে, প্রায় মরিয়া হয়ে দোকানদার ডেকে উঠলো, “স্যার, আপনি দুটো নিয়ে যান, ১৮০ দেবেন”। স্যার তখন মূক ও বধির, মন দিয়ে কেসি দাসের লাল সাইনবোর্ড দেখছেন,পেছনে ঘোরার সাহস দেখাননি। আর ঘুরেই বা কি লাভ,ওয়ালেট হারিয়ে ফেলি,তাই সেটাও ওনার ব্যাগেই আছে। স্যার এখন ড্রাইভার মাত্র।

মিনিটখানেক পর,পিঠে টোকা পড়লো,অবশেষে ঘুরলাম। কান অবধি হেসে দুটো মোবাইল কভার নিয়ে উনি দাঁড়িয়ে,স্বগর্বে বললেন “দেড়শো ফাইনাল”। ফুচকাওয়ালা একটা স্টিলের বাটিতে তেঁতুল চটকে মাখে,দেখেছো কখনো,ঠিক ওরকম তেঁতুল চটকানো মুখ করে সিড়িঙ্গে দোকানদার জানালেন “আবার আসবেন স্যার”।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন