শিরোনাম
কারখানা থেকে ছুটি না মিললেও দুনিয়া থেকে ছুটি পেল গার্মেন্টস শ্রমিক হাসিব কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন স্বরেয়া হোসেন বর্ষা মানুষ মানুষের জন্য, সকলে বন্যার্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো উচিত…এটিএম হামিদ প্রাকৃতিক দূর্যোগে দিশেহারা সিলেট, থৈথৈ করে বাড়ছে পানি কানাইঘাটে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের দ্বায়িত্বশীলরা পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট নিয়ে উপজেলার বন্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে বানিয়াচংয়ে বাংলা টিভি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সরকার বন্যার্তদের পাশে আছে ত্রাণের অভাব হবেনা— এমপি মানিক সিলেটে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ঘাটাইল উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দকৃত ঘরে ফাটল ছাতকে বন্যার অবনতি,নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

ভাষা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য।

Satyajit Das / ৯৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সত্যজিৎ দাস(স্টাফ রিপোর্টার):নারী মানেই মা,মেয়ে আর কন্যাসন্তানের সমন্বিত রূপ। যাদের ছাড়া হয় না কোনো কিছুর উন্নতি বা অগ্রগতি,তেমনিভাবে ভাষার জন্য,দেশের জন্যও তাদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রায় শতাব্দীকাল আগেই বলে গেছেন,‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর।’ ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নারীদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য।

‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’দাবির আন্দোলনে সহযোদ্ধা হয়ে ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন ছাত্রীরা। পাকিস্তান আর্মি ও পুলিশের তাক করা বন্দুকের নলকে উপেক্ষা করে ভাষার দাবির মিছিলগুলোতে ছিলেন তারা সামনের কাতারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা রাতে লুকিয়ে ভাষার দাবির বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত পোস্টার এঁকেছেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে নারীরাই পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙেন। আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা রাখে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রীরা। আহতদের চিকিৎসা সাহায্যের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েরা চাঁদা তুলে আনে। পুলিশের তাড়া খাওয়া ছাত্রদের নিজেদের কাছে লুকিয়ে রাখে। আন্দোলনের খরচ চালানোর জন্য অনেক গৃহিণী অলঙ্কার খুলে দেন। শুধু তাই নয়,ভাষা আন্দোলনে জড়িত হওয়ায় অনেক নারীকে জেলও খাটতে হয়েছে। কেউ হারিয়েছেন সংসার। কেউ আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে হয়েছেন বহিষ্কৃত।

ঢাকার বাইরে নারীরা ভাষা আন্দোলনে একাত্ম হতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নারায়ণগঞ্জের মমতাজ বেগম। তিনি কারানির্যাতনের একপর্যায়ে সরকারের চাপে স্বামী তাকে তালাক দেন। মমতাজ বেগমের ছাত্রী ইলা বকশী,বেনু ধর ও শাবানীর মতো কিশোরীকেও পুলিশ সেদিন গ্রেপ্তার করে। সিলেটের কুলাউড়ার সালেহা বেগম ময়মনসিংহ মুসলিম গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী থাকাকালীন ভাষা শহীদদের স্মরণে স্কুলে কালো পতাকা উত্তোলণ করেন। এই অপরাধে সেখানকার জেলা প্রশাসকের আদেশে স্কুল থেকে তাকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তখন সালেহা বেগমের পক্ষে আর পড়ালেখা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। চট্রগ্রাম ও সিলেটে ছাত্রীরা আন্দোলনে জোড়ালো ভূমিকা রাখে। এদের মধ্যে স্কুলের কোমলমতি কিশোরীদের অংশগ্রহণই ছিল সবচেয়ে বেশি।ভাষা সৈনিক চেমন আরা বলেছেন,’ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে যারা তমদ্দুন মজলিসের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আনোয়ারা খাতুন। তিনি ছিলেন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং বায়ান্নর ভাষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য। গাইবান্ধার বেগম দৌলতুন্নেছা ও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনিও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন ১৯৫৪ সালে। নাদেরা বেগম ও লিলি হকের নামও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে। হামিদা খাতুন, নুরজাহান মুরশিদ,আফসারী খানম, রানু মুখার্জী প্রমুখ মহিলারাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংসতার প্রতিবাদে অভয়দাশ লেনে এক সভায় নেতৃত্ব দেন বেগম সুফিয়া কামাল ও নুরজাহান মুরশিদ। ধর্মঘট উপলক্ষে প্রচুর পোস্টার ও ব্যানার লেখার দায়িত্ব পালন করেন ড.শাফিয়া খাতুন ও নাদিরা চৌধুরী’। ১৯৪৭ সালে আজাদ পত্রিকায় বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে একটি লেখা প্রকাশ হলে যশোরের হামিদা রহমান একটি নিবন্ধ লেখেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন। এ সময় সুফিয়া খাতুন, হালিমা খাতুন নামে দুজন মহিলার নাম শোনা যায়। যারা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমি রেখেছিলেন। নারায়ণগঞ্জের মরগান হাইস্কুলে হেড মিস্ট্রেস মমতাজ বেগম স্থানীয়ভাবে রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বপক্ষে নেতৃত্ব দেন। সিলেটের মেয়েরাও ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিনের নিকট প্রতিনিধিও পাঠায়। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয় সিলেটের মুসলিম লীগের নেত্রী জোবেদা খাতুন চৌধুরী। অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সাহারা বানু, সৈয়দা লুৎফুন্নেছা,রাবেয়া বেগম প্রমুখ। বিল্পবের দেশ,বিদ্রোহের দেশ চট্টগ্রাম। যে কোনো সময়ে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে চট্টগ্রামের ভূমিকা অগ্রগামী। ভাষা আন্দোলনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। চট্টগ্রামেও বেশ কিছু কলেজছাত্রী এবং সে সময়ের ভদ্র মহিলারাও ভাষা আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম তোহফাতুন্নেছা আজিম, সৈয়দা হালিমা,সুলতানা বেগম,নুরুন্নাহার জহুর, আইনুনু নাহার,আনোয়ারা মাহফুজ,তালেয়া রহমান,প্রতিভা মুৎসুদ্দি। খুলনাতেও কাজ করেছেন তমদ্দুন মজলিসের কর্মী আনোয়ারা বেগম,সাজেদা আলী এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রীরা। সাতক্ষীরায় সক্রিয়ভাবে এ আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন গুলআরা বেগম ও সুলতানা চৌধুরী। টাঙ্গাইলে আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন নুরুন্নাহার বেলী,রওশন আরা শরীফ। রংপুরে এই সময় মহিলারা রাষ্ট্র ভাষার দাবিতে মিছিলে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন। তারা হচ্ছেন নিলুফা আহমেদ,বেগম মালেকা আশরাফ, আফতাবুন্নেছা প্রমুখ। ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীতে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ড. জাহানারা বেগম বেনু,মনোয়ারা বেগম বেনু, ডা. মহসিনা বেগম,ফিরোজা বেগম ফুনু,হাফিজা বেগম টুকু,হাসিনা বেগম ডলি,রওশন আরা,খুরশিদা বানু খুকু,আখতার বানু প্রমুখ।

ভাষা আন্দোলনে নারীর অংশগ্রণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির দিন হলো ১৯৫৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন ছাত্রী গ্রেপ্তার হন। তাদের মধ্যে লায়লা নূর,প্রতিভা মুৎসুদ্দি,রওশন আরা বেনু,ফরিদা বারি,জহরত আরা,কামরুন নাহার লাইলি,হোসনে আরা,ফরিদা আনোয়ার ও তালেয়া রহমান অন্যতম। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রক্টরের অনুমতি নিয়ে এবং প্রক্টরের সামনে পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে হতো। গ্রামের নারীরা তো ছিল পর্দা প্রথার আড়ালে বন্দি। এমন সময় সামাজিক,ধর্মীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় বাধা-বিপত্তি ঠেলে বাংলাভাষার দাবিতে নারীদের রাজপথে নেমে আসা কঠিন ছিলো। তারপরেও আন্দোলনে অংশ নিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটাই নিয়েছে নারীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন