শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

অটোরিকশা চালক ‘মিয়াদ’ হত্যাকরীদের গ্রেফতার করলো যশোর পিবিআই।(ভিডিও সহ)

সত্যজিৎ দাস / ১২৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরে অটোরিকশা চালক নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি অনুসন্ধানকালে উদ্ধারকৃত কঙ্কালের পরিচয় সনাক্ত এবং আলামত উদ্ধার সহ ঘটনার সাথে জড়িত দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে যশোর পিবিআই।

ডিসিস্ট বিল্লাল হোসেন ওরফে মিয়াদ (২৮),পিং-লোকমান হোসেন,সাং-ছোট বাদুড়া,থানা-মোড়েলগঞ্জ,জেলা-বাগেরহাট,বর্তমান সাং-পাগলাদাহ,মাঠপাড়া,থানা-কোতয়ালী,জেলা-যশোর পেশায় একজন ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা চালক।

গত ২১ জুন বিকাল আনুমানিক ০৫:০০ টার সময় অটোরিকশা নিয়ে ভাড়ার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি হতে বের হয়ে যাযন। অনেক রাত হওয়ার পরও মোঃ বিল্লাল হোসেন ওরফে মিয়াদ (২৮) বাড়িতে ফিরে না আসলে তার স্ত্রী মোছাঃ শারমিন (২২) তার স্বামীর ব্যবহৃত মোবাইলে ফোনকল করে মোবাইল ফোন বন্ধ পায়। অনেক খোঁজাজাখুজির পরেও মোঃ বিল্লাল হোসেন মিয়াদ (২৮) কে না পেয়ে মোছাঃ শারমিন তার স্বামী নিখোঁজ সংক্রান্তে ২২ জুন রোজ বুধবার যশোর কোতয়ালী থানার জিডি নং-১২২১,মূলে সাধারণ ডায়রীভুক্ত করেন। মোছাঃ শারমিন তার নিখোঁজ স্বামীকে উদ্ধারের জন্য উল্লেখিত জিডি কপি নিয়ে পুলিশ সুপার,পিবিআই, যশোর বরাবরে আবেদন করলে পিবিআই যশোর জেলা বিষয়টি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে।

একপর্যায়ে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গত ০৩ জুলাই যশোর কোতয়ালী থানাধীন খিতিবদিয়া গ্রামের জনৈক রেজাউল সরদার এর মেহগনি বাগান হতে কোতয়ালী থানা পুলিশ কর্তৃক পরিহিত কাপড়-চোপড়সহ মানুষের একটি কঙ্কাল উদ্ধার হয়। এসআই (নিঃ) ডিএম নূর জামাল মোছাঃ শারমিন কে সাথে নিয়ে থানায় হাজির হয়ে উক্ত কঙ্কালের সাথে থাকা লুঙ্গীর অংশ বিশেষ দেখালে উক্ত লুঙ্গির অংশ বিশেষ তার স্বামীর বলে সনাক্ত করেন।

উপরোক্ত ঘটনা সংক্রান্তে নিহত মোঃ বিল্লাল হোসেন মিয়াদ (২৮) এর স্ত্রী মোছাঃ শারমিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৫৮,তারিখ; ১৬/০৭/২০২২ খ্রিঃ,ধারা-৩৯৪/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড আইনে মামলা দায়ের করলে পিবিআই,যশোর জেলা স্বউদ্যোগে গ্রহণ করে। পুলিশ সুপার পিবিআই যশোর জেলা মহোদয়ের নির্দেশক্রমে এসআই (নিঃ) ডিএম নূর জামাল হোসেন বিধি মোতাবেক মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে তদন্ত কার্যক্রম কার্যক্রম শুরু করেন।

পিবিআই প্রধান জনাব বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম (বার),পিপিএম, অ্যাডিশনাল আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ এর সঠিক তত্ত্ববধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন,পিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই(নিঃ) ডিএম নূর জামাল সঙ্গীয় এসআই (নিঃ) স্নেহাশিস দাশ সহ যশোর জেলার চৌকস দল কর্তৃক ১৬ জুলাই বেলা ১২:০৫ ঘটিকার সময় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আসামীঃ-
(১) মোঃ আঃ কাদের মোল্যা (২৩),পিতা-মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মোল্লা,সাং-পুরাতন কসবা কাজীপাড়া কাঁঠালতলা (জনৈক তোতা মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া),থানা-কোতয়ালী,জেলা-যশোর’কে কোতয়ালী মডেল থানাধীন কাঁঠালতলা মোড় থেকে এবং একই দিন দুপুর ১:২০ ঘটিকার সময়
(২) মোঃ জুয়েল শেখ (২৫),পিতা-মোঃ ইউনুস শেখ, সাং-পুরাতন কসবা কাজীপাড়া কাঁঠালতলা (জনৈক তিতাশ এর বাড়ির ভাড়াটিয়া),থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর’কে কোতয়ালী থানাধীন কাঁঠালতলাস্থ জনৈক তিতাশ এর বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ভিকটিমের ব্যাটারী চালিত রিকশা হত্যার কাজে ব্যবহৃত চাকু ও ভিকটিমের ব্যবহৃত গামছা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় জানায় যে, ভিকটিম মোঃ বিল্লাল হোসেন মিয়াদ (২৮) পেশায় একজন ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চালক। গত ২১ জুন সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্ত মোঃ আঃ কাদের মোল্যা (২৩) ও মোঃ জুয়েল শেখ (২৫) দ্বয় কোতয়ালী থানাধীন কাঁঠালতলা মোড়ে বসে ভিকটিম মোঃ বিল্লাল হোসেন ওরফে মিয়াদ’কে হত্যা করে ও তার ব্যাটারী চালিত রিকশাটি ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ঐদিনই রাত আনুমানিক ০৮:৩০ মিনিটের সময় আসামী কাদের ভিকটিম মোঃ বিল্লাল হোসেন মিয়াদের মোবাইলে কল করে তাকে কাঁঠালতলা মোড়ে আসতে বলে। তখন ভিকটিম মিয়াদ তার রিকশা সহ কাঁঠালতলা মোড়ে আসলে আসামীদ্বয় তাকে মহিলার সাথে অনৈতিক মেলামেশার প্রস্তাব করে। ভিকটিম রাজী হলে তারা ভিকটিমের রিকশাযোগে কোতয়ালী থানাধীন খিতিবদিয়া গ্রামে যায়।

পরবর্তীতে তারা খিতিবদিয়া গ্রামস্থ জৈনক সাইদুল ইসলাম (২৪) এর বসত বাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তার উপরে ভিকটিম মিয়াদের রিকশাটি রেখে তাকে জনৈক রেজাউল সরদার এর মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে আসামী  জুয়েল রাস্তায় একটি দড়ি পেয়ে পকেটে ভরে রাখে। মেহগনি বাগানে যাওয়ার পর অভিযুক্ত জুয়েলের কাছে থাকা রশি দিয়ে পিছন দিক থেকে ভিকটিমের গলায় রশি পেচিয়ে ধরে,সেই সময় কাদের ও জুয়েল রশির দুই দিক থেকে টেনে ধরে রাখে ভিকটিম মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লে অভিযুক্ত কাদের তার কোমরে থাকা চাকু বের করে ভিকটিমের পেটের বাম পাশে ও রানের পেছন দিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এরপর অভিযুক্ত জুয়েল আসামী কাদের এর কাছ থেকে চাকুটি নিয়ে ভিকটিমের ডান পাশের পাজরে ও পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

ভিকটিম মাটিতে পড়ে গেলে অভিযুক্ত কাদের জুয়েলের নিকট থেকে চাকু নিয়ে ভিকটিমের কোমরে থাকা গামছা চাকু দিয়ে কেটে দেয় এবং জুয়েল উক্ত গামছা দিয়ে ভিকটিমের দুই পা বাধে। অতঃপর অভিযুক্ত জুয়েল ভিকটিমের মাথার চুল টেনে ধরলে কাদের তার হাতে থাকা চাকু দিয়ে ভিকটিমকে জবাই করে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর অভিযুক্ত জুয়েল ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি নিয়ে ফোন থেকে সিম ও মেমোরিকার্ড খুলে কাদেরকে দিলে কাদের মেমোরি ও সিম কার্ড বাগানের মধ্যে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে অভিযুক্তদ্বয় ভিকটিমের ব্যাটারী চালিত রিকশাটি নিয়ে রওনা দিয়ে পথিমধ্যে মোবাইল ফোনটি পাটক্ষেতে ফেলে দেয়।

পরের দিন অর্থাৎ গত ২২ জুন অভিযুক্তদ্বয় ভিকটিম মিয়াদ এর রিকশাটি বিক্রি করে দেয় মর্মে স্বীকার করে। অভিযুক্ত মোঃ আঃ কাদের মোল্লা (২৩) ও মোঃ জুয়েল শেখ (২৫) দ্বয়কে অদ্য ১৭/০৭/২০২২ খ্রিঃ জনাব মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম,বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,আমালী আদালত কোতয়ালী, যশোর আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামীদ্বয় স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন