রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০৬:০০ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

বাহুবলে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত।

SATYAJIT DAS / ১৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি:

কয়েক দিন ধরেই সিলেট বিভাগজুড়ে চলছে শীতের দাপট। প্রচণ্ড শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। বেশি শীত অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি ভোর,সকাল ও রাতে কুয়াশার ঘনত্বও বেশি থাকছে। এ কারণে রাতে সড়কগুলোয় ধীরগতিতে যান চলাচল করছে ও ঘটছে দূর্ঘটনা।

তীব্র শীতে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার চা-বাগানের শ্রমিক,হাওড়াঞ্চলের জেলে,কৃষক ও শ্রমজীবী লোকজন বিপাকে রয়েছেন। শীত উপেক্ষা করেই তাদের খুব সকালে কাজের তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। এছাড়াও বাহুবলে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও পড়েছেন শীতের কবলে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় পর্যটকরা হোটেল বা রিসোর্টের কক্ষেই বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছেন।

মাঘের শীতে কি বাঘে খায়! যদিও মাঘ মাস এখনও আসতে অনেক দেরি। পৌষের শীতেই চরম ভোগান্তিতে হবিগঞ্জের বাহুবলবাসী। শেষ পৌষের শীতে কাবু পুরো বাহুবল। মৌসুমের শুরুতে তেমন শীত অনুভূত না হলেও গত কয়েকদিনের মৃদু শৈত্যপ্রবাহে শীত বাড়ায় সমস্যায় পড়েছে বাহুবল উপজেলার হতদরিদ্র,ছিন্নমূল লোকজনেরা।

আবহমান বাংলার চিরায়াত নিয়মে সিলেট বিভাগজুড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের লোকজন। বিশেষ করে বিভাগের মৌলভীবাজারের পাহাড়ি এলাকা ও সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের অসহায়,দরিদ্র জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এর মধ্যে গত মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে। সকাল ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছর শ্রীমঙ্গলে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

বাহুবলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষেরা জানান,গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার শীত বেশি।  দিনভর ভিক্ষা করে রাতে স্টেশনে ঘুমান। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও শীতবস্ত্র না পাওয়ায় অনেক কষ্টে আছেন।

আবহাওয়া অফিস জানায়,গত ৩-৪ দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কাছাকাছি থাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তবে কতদিন এ শৈত্যপ্রবাহ থাকবে সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।

এদিকে সকালে তীব্র ঠান্ডায় কাজে বের হতে পারছে না মানুষ। এছাড়াও বিকেল থেকেই তাপমাত্রা নিম্নগামী হওয়ায় সন্ধ্যার পরপরই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাট,হাট-বাজার ও দোকানপাট। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ জন। গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজে বের হতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।

হবিগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে,বুধবার (০৪ জানুয়ারি) সকাল ৮-১০ টা পর্যন্ত ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বাহুবলে। গতকাল মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি ডিগ্রি সেলসিয়াস।ঘন কুয়াশা কমে গেলে তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে। শীতজনিত রোগে প্রতিদিন বাহুবল উপজেলা হেল্থ কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়স্কদের নিয়মিত ভর্তি অব্যাহত রয়েছে। গরম কাপড়ের দোকানে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ভীড় প্রতিদিন বাড়ছে। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করছেন। বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে দিন মজুর মানুষেরা,অসহায় মানবেতর জীবন-যাপন কাটাচ্ছে তারা। গরম কাপড়ের অভাবে বাহুবলের স্নানঘাট, হতিপুর,মদুরপুর,খাগাউড়ার,মানিকপুর,গকলপুর, সোইয়া,রসুলপুরের জেলে পল্লীর ছিন্নমূল মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাহুবল উপজেলা হেল্থ কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্সদের।

সারা দেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সে সঙ্গে দেশের নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ৫০০ মিটার বা কোথাও কোথাও আরও কম হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

 

সিলেট নিউজ/আবহাওয়া/বাহুবল/এসডি.


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

পুরাতন সংবাদ দেখুন

বিভাগের খবর দেখুন