বিশেষ প্রতিনিধি:
অবিরাম বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এ ছাড়া নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার পানিও নামতে পারছে না। একই সঙ্গে বেড়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ।
জেলা প্রশাসন জানায়,গত বুধবার (১৯ জুন) বিকাল পর্যন্ত সিলেটে বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জনে। একদিনের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় এক লাখ। নগরের ২৩টি ওয়ার্ড ও জেলার ১০৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পড়েছে। জেলা ও নগর মিলিয়ে ৬৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৯৫৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে বেশির ভাগ মানুষজন নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছুক নন। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে ১ হাজার ৫৪৮টি গ্রাম।
এর আগে,গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির দেখা দিলেও তেমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রথম দফার বন্যার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শনিবার (১৫ জুন) দ্বিতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়ে সিলেট।
এদিকে,বুধবার (১৯ জুন) নগরের একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। এ সময় তিনি বন্যার্তদের জন্য প্রাথমিকভাবে নগদ ১০ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ সহায়তা দেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়,গতকাল বুধবার (১৯ জুন) বিকাল ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি বইছে বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে।
কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯৯ ও শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি বইছে। অপরদিকে, সারি-গোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ওমন সানী আকন জানান,বন্যার পানি বৃদ্ধি ও পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় জেলা প্রশাসনের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ইউনিয়নগুলোতে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ভারতে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আগামী ৩ দিন সিলেট অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
তিনি আরও জানান,এবারের বন্যায় সিলেট নগরের ২৩টি ওয়ার্ড ও ১৪ উপজেলার ১০৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৫৪৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জন এবং আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৯৫৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
সিলেট নিউজ/এসডি.