সঞ্জীব চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী ও সাংবাদিক। তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ডদল ” দলছুট”-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন। সঞ্জীব দলছুটের চারটি অ্যালবামে কাজ করার পাশাপাশি অনেক গান রচনা ও সুরারোপও করেছেন।
বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা কবি,লেখক, সঙ্গীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরী’র আজ ১৭তম প্রয়াণ দিবস। বাইল্যাটারাল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২:১০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পৃথিবীতে কিছু মানুষের মৃত্যু হলেও,লাখো কোটি জনতার মণিকোঠায় চিরদিন বেঁচে থাকেন ভালো কর্মকাণ্ডের জন্য। এমন একজন বিপ্লবী গায়ক সঞ্জীব চৌধুরী। ‘দলছুট’ ব্যান্ডের বাপ্পা মজুমদার এখনও কোনো কনসার্টে,টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গান গাইতে গেলে সঞ্জীব চৌধুরীর লেখা,সুর করা,গাওয়া গানের অনুরোধ প্রতিনিয়ত পেতে থাকেন।
ব্যান্ডদল ‘দলছুট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন তিনি। সঞ্জীব চৌধুরী ও বাপ্পা মজুমদার দু’জনে মিলে তৈরি করেছিলেন ‘দলছুট’ ব্যান্ডের অ্যালবামগুলো: ‘আহ্’ (১৯৯৭), ‘হৃদয়পুর’ (২০০০), ‘আকাশচুরি’ (২০০২) ও ‘জোছনা বিহার’ (২০০৭)।
মানবতার সোপানে তাঁর দেহ ও প্রাণকে সমর্পণ করতে এবং তা-ই করলেন সঞ্জীব চৌধুরী। ব্যান্ড-সলো অ্যালবামে সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে গাড়ি চলে না, বায়োস্কোপ, তোমাকেই বলে দেব, কোন মেস্তরি বানাইয়াছে নাও, আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ, সাদা ময়লা রঙিলা পালে প্রভৃতি।
সিলেট বিভাগ তথা বাংলাদেশের বৃহৎ গ্রাম বানিয়াচংয়ে জন্ম হয়েছিল সঞ্জীব চৌধুরী’র। তাঁর পিতা গোপাল চৌধুরী এবং মাতা প্রভাষিনী চৌধুরী। নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম।
ছোটবেলায় হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন ও এরপরে ঢাকার বকশী বাজার নবকুমার ইন্সটিটিউটে নবম শ্রেণিতে এসে ভর্তি হন ও এখান থেকে ১৯৭৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও মেধা তালিকায় স্থান করে নেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হন; কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা শেষ না করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য যে,প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরী একজন খ্যাতনামা সাংবাদিকও ছিলেন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র আজকের কাগজ,ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনে কাজ করতেন। তিনি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম একজন কর্মী ছিলেন।
সিলেটের গর্ব সঞ্জীব শুধু গান নয়। কবিতা ছাড়াও বেশ কিছু ছোটগল্প লিখেছিলেন তিনি। তাঁর লেখা গল্পগ্রন্থ ‘রাশপ্রিন্ট’ আশির দশকে বাংলা একাডেমি কর্তৃক সেরা গল্পগ্রন্থ হিসেবে নির্বাচিত হয়। লিখেছেন নাটকের স্ক্রিপ্টও। নীল ক্লিনিক, রাশপ্রিন্ট, কোলাজ নামের তিনটি কবিতা, ছোটগল্প, নাটকের পাণ্ডুলিপিকে একত্র করে ১৯৯০ সালে ‘রাশপ্রিন্ট’ নামে সঞ্জীব চৌধুরীর একমাত্র গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।