সত্যজিৎ দাস:
ঢাকায় অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক শেষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার,অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বৈঠকটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
২৫ আগস্ট শুরু হওয়া এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তার সঙ্গে ছিলেন ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল। ভারতের পক্ষ থেকে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক দলজিৎ সিং চৌধুরী।
যৌথ আলোচনায় সীমান্ত হত্যা,চোরাচালান,মানবপাচার, সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা ও নদী ব্যবস্থাপনা সহ নানা বিষয় গুরুত্ব পায়।
বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক সীমান্ত হত্যা রোধে বাড়তি সতর্কতা,বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।
যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়;
১) উভয় পক্ষই সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে যৌথ সচেতনতামূলক কর্মসূচি,আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন উদ্যোগ এবং সীমান্তে অপরাধ দমন কার্যক্রম চালাবে।
২) ভারতে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন করা হবে।
৩) শূন্যরেখার ১৫০ গজের মধ্যে অনুমোদন ছাড়া কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হবে না।
৪) সীমান্তবর্তী অভিন্ন নদীতে অননুমোদিত কার্যক্রম রোধ এবং যৌথ নদী কমিশন অনুমোদিত নদীতীর সুরক্ষা কাজ সহজতর করা হবে।
৫) সীমান্ত অতিক্রমকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে এবং রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার করা হবে।
৬) আকাশসীমা লঙ্ঘন এড়াতে উভয় পক্ষ পূর্ব-নির্ধারিত ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য একে অপরকে জানাবে।
৭) সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে উভয় পক্ষই তাদের সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্তিকর বা উত্তেজনাকর প্রচারণা না চালানোর পরামর্শ দেবে।
চার দিনব্যাপী এই বৈঠক শেষে উভয় দেশের মহাপরিচালকরা Joint Record of Discussion (JRD)-এ স্বাক্ষর করেন,যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিলেট নিউজ/এসডি.