বিশেষ প্রতিনিধি:
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাৎকার রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘দেশ বদলাবে নতুন নেতৃত্বে’ স্লোগানকে সামনে রেখে দুইদিনব্যাপী এ কার্যক্রমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় জমেছে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও সমর্থকদের।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে সাক্ষাৎকার। এর আগে রবিবার প্রথম দিনের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী দুর্জয় দাশ গুপ্ত ও সোমবার বোর্ডের সামনে উপস্থিত হয়ে নিজের পরিকল্পনা ও ভিশন তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকার উপলক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দুর্জয় জানান,নবীগঞ্জ-বাহুবলের চা-বাগান এলাকায় নারী-পুরুষ শ্রমিকরা তাঁর সঙ্গে কথা বলে বহুদিনের জটিলতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে-
বকেয়া মজুরি,আবাসন সংকট,স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি,নিরাপদ পানির অভাব,শিক্ষার সীমাবদ্ধতা।
দুর্জয়ের ভাষ্য,“মানুষের এসব সমস্যাকে আমি নীতি-নির্ধারণী পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিতে চাই।”
দলীয় সূত্র জানায়,গত ১২ নভেম্বর তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আসার পর নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দুর্জয় দাশ গুপ্ত জুলাই আন্দোলনের সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি ‘দ্য রেড জুলাই’ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তিনি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন।
নিজ এলাকার মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন-
“মানুষের দোয়া ও আশীর্বাদ নিয়ে এগোতে চাই। প্রতিটি ঘরে যাচ্ছি,তাদের কথা শুনছি। আমি এখানকারই মানুষ-এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”
তিনি জানান,নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, যোগাযোগব্যবস্থা,কৃষি, দারিদ্র্য বিমোচন,শিল্পায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিস্তৃত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
দুর্জয়ের ভাষ্য-
“নবীগঞ্জ-বাহুবল বিশাল সম্ভাবনার দুই উপজেলা। যথাযথ নেতৃত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে উন্নয়ন পিছিয়ে পড়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমি এই অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে চাই। তরুণদের কর্মসংস্থান,নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।”
শেষে তিনি সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,তিনি প্রতিটি দ্বার-দ্বার ঘুরে মানুষের ভালোবাসা নেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করছেন।
সিলেট নিউজ/এসডি.