অথই নূরুল আমিন:
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক একটি দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে মাত্র পাঁচ বছরের জন্য। কিন্তু জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে চল্লিশ সাল পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬, ১২ ফেব্রুয়ারি যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথমত এই নির্বাচন হবে ভোটার শূণ্য। দ্বিতীয়ত জামায়াতের সাথে রয়েছে প্রায় এক ডজন রাজনৈতিক দল। আমরা দেখেছি। চার দল জোট মিলে ক্ষমতায় এসেছিল যারা তখনও তাদের মধ্যে দন্দ ছিল চরমে। এক ডজন দল নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসলে সেখানে প্রথমত জনগণের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত জামায়াতের ইশতেহারে যা লেখা আছে। এগুলোর সব বাস্তবায়ন করাও সম্ভব নয়।
যেহেতু রাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো আয় রোজগার নেই। তবে কথা থাকে যে, একান্ত ইচ্ছে থাকলে অনেক কিছু ভালো করা সম্ভব। এছাড়া আমি ও চাই জামায়াত একবার ক্ষমতায় আসুক। দেখি তারা কতদূর কি করতে পারে।
(বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘পলিসি সামিট ২০২৬’: এখন পর্যন্ত ঘোষিত মূল পয়েন্টগুলো নিচে দেওয়া হলো)
১. স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৬–৮% বাজেট বরাদ্দ।
মন্তব্য : স্বাস্থ্য খাতে ৬-৮% বাজেট বরাদ্দ। এগুলো তো জনগণের টাকা থেকে বাজেট বরাদ্দ করা হয়। এতে একটি দলের বাহাদুরির কিছু দেখছি না। আমার কথা হলো : স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি বন্ধ এবং নকল ঔষধ সরবরাহ বন্ধ করা জরুরি। এছাড়া চিকিৎসা সেবা খাতে খরচের হার কমানো। একেকটি হসপিটালে দেশি বিদেশি ডাক্তার ও নার্স ধারা পরিচালিত করা।
২. স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু (এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এক কার্ডে)
মন্তব্য : এগুলো আসলে জনগণ বুঝেও না মানে না।
৩. প্রথম ৩ বছরের জন্য সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ মওকুফ।
মন্তব্য : বিগত সরকার গুলো যেখানে চার্জ এবং ডাবল চার্জ নেয়ার পরও শিল্পে গ্যাস বিদ্যুত দিতে পারেনি। এখানে চার্জ মওকুফ কিছু করা সম্ভব নয়।
৪. কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা।
মন্তব্য : সুদবিহীন ঋণ সুবিধা এগুলো হলো বাটপারী ইশতেহার। ফাউল চিন্তা ধারা। কৃষকেরা সুদ দিয়েও ঋণ পাচ্ছে না যেখানে।
৫. ৫ লক্ষ গ্রাজুয়েটকে ২ বছর মেয়াদি মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ।
মন্তব্য ; ৫ লক্ষ গ্রাজুয়েট তো শুধু শিবিরের মধ্যেই আছে। তাহলে বাকি জনগণ কি পাবে?
৬. মেধাভিত্তিক ১ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ঋণ।
মন্তব্য ; মেধাশীল এক লক্ষ জনবল তো জামায়াতের নেতাদের পরিবারের মধ্যেই রয়েছে। ছেলে মেয়ে আত্মীয় স্বজন।
৭. প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত লোনে সরকারি প্রেরণ।
মন্তব্য : এখানে ও জামায়াতের ছেলে মেয়েরাই থাকবে। জনগণের কোনো লাভ হবে না।
৮. ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
মন্তব্য : যেই লাউ সেই কদু।
৯. ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা।
মন্তব্য : এরকম একটি প্রস্তাব কেউ আমি নাবালকী মনে করি।
১০. বন্ধ কলকারখানা পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু এবং ১০% মালিকানা শ্রমিকদের প্রদান।
মন্তব্য : এগুলো কখনও সম্ভব নয়।
১১. ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।
মন্তব্য : এগুলো কথার কথা। অবিশ্বাস্য।
১২. সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ।
মন্তব্য : চাঁদে দেশের গল্প।
১৩. ‘ফার্স্ট হান্ড্রেড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় প্রসূতি নারী ও মায়েদের বিনামূল্যে সেবা ও সহায়তা
তরুণদের জন্য পরিকল্পনা। মন্তব্য : বানোয়াট গল্প সমান।
১৪. দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য নতুন মন্ত্রণালয়। মন্তব্য : খুব ভালো লেগেছে। এবং আশা করা যায়।
১৫. ৫ বছরে ১০ মিলিয়ন তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ। মন্তব্য : নিস্প্রয়োজন।
১৬. প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন। মন্তব্য: ভালো হবে।
১৭. প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে ৫ বছরে ৫ মিলিয়ন জব এক্সেস নিশ্চিত। মন্তব্য নেই।
১৮. নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি।
মন্তব্য : এগুলো সম্ভব নয়।
১৯. ১.৫ মিলিয়ন ফ্রিল্যান্সার তৈরি।
মন্তব্য : ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা কোনো রাজনৈতিক দলের কাজ নয়।
২০. স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু। মন্তব্য : এগুলো কথার কথা। কাজের বেলায় টনটন।
( আইসিটি ও ভিশন ২০৪০)
মন্তব্য জামায়াতের অশিক্ষিত একটি বাক্য হলো চল্লিশ সাল। পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসে চল্লিশ সালের চিন্তা করা এ যেন স্বপ্ন থেকে স্বপ্ন।
২১. আইসিটি সেক্টর উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা
২২. ২০৩০ সালের মধ্যে ২ মিলিয়ন আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট
২৩. ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন
২৪. আইসিটি সেক্টর থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়
২৫. আইসিটি খাতে সরকারের ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয়
২৬. লক্ষ্য: শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর।।
পরিশেষে বলতে চাই। জামায়াতের ইশতেহারের মধ্যে জন আশা আকাঙ্ক্ষার কিছু নেই। আজকে আমি নিশ্চিত হলাম। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলেই জানে না। আসলে দেশের জনগণ একটি সরকারের কাছে কি চাওয়া পাওয়া আছে। আফসোস। তারপরও জামায়াতের ইশতেহার অন্য দলগুলোর চেয়ে যথেষ্ট।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্র চিন্তক
রাজনৈতিক দলের জনমুখী ইশতেহার বিশেষজ্ঞ।