অথই নূরুল আমিন:
প্রিয় পাঠক পাঠিকা আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আমি মোটামুটি ভালো আছি। আজকের লেখাটির শুরু করার পূর্বে ধন্যবাদ জানাই সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে। যারা আমার পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। পোস্টার করা যাবে না মর্মে আমি অনেক উপদেশ দিয়েছি।আগামী মাসের ১২ তারিখে দেশের ত্রয়োদশ নির্বাচন এবং জুলাই বিপ্লব বা ছাত্র জনতার ” নতুন বাংলাদেশ ” এর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের আইন মোতাবেক মার্কা বন্টন করা হয়েছে। গতকাল থেকে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা।
এরই মধ্যে বেশকিছু ছোট বড় রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে নির্বাচনে। এখানে বড় দলগুলো এরই মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। তবে আমার কাছে তাদের ইশতেহার গ্রহণযোগ্য হয়নি। বিভিন্ন বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার পড়ে দেখলাম। আসলে তারা আজও জানে না। স্বাধীনতার পর থেকে এই দেশের জনগণের চাওয়া পাওয়া কি। এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কখনও ভেবেছে বলে আমার মনে হয়না।
এখানে একদল বলছে ফ্যামেলি কার্ডের কথা কৃষকদের কার্ডের কথা। আরেক দল বলছে স্বাস্থ্য সেবা শ্রেণি ভেদে ফ্রী শিক্ষাখাতে বিনা সুদে ঋণের কথা। আসলে এই ধরনের ইশতেহার খুবই হাস্যকর। তার কারণ হলো, ফ্যামেলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড সব জনগণের প্রয়োজন নেই। এমনকি ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা এবং শিক্ষা খাতে ঋণও সকলের প্রয়োজন নেই। একটি সরকারের মুল কাজ হলো। যে কাজ করলে দেশের সকল নাগরিক একযোগে উপকৃত হবে। সেই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যে দেশের একটি সরকারের আয়ের উৎস জনগণের ভ্যাট ট্যাক্স। সেই দেশের কোনো রাজনৈতিক দল কি করে বলতে পারে জনগণকে এই দিবে সেই দিবে, যা খুবই হাস্যকর ইশতেহার।
দেশ নিয়ে জনগণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করে আসছি। নির্বাচন কমিশন বলেছে পোষ্টার করা যাবে না, এই পরামর্শ মূলত আমার। ধন্যবাদ জানাই সরকারকে আমার পরামর্শ বাস্তবায়ন করার জন্য। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। যা খুবই হাস্যকর। বাংলাদেশের প্রতিটা নাগরিক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। কোন না কোনভাবে সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে যায়। যার আয় থেকে সরকারের মন্ত্রী এমপি এবং সরকারি কর্মচারীসহ বিবিধ ব্যায় সরকার করে থাকে। সেই সকল ফকিন্নি মার্কা রাজনৈতিক দলগুলো যখন নির্বাচনী জনসভায় দাড়িয়ে বলে আমরা ক্ষমতায় গেলে এই দিব সেই করব। তখন মনে বলে ওদের গালে জুতা কেন মারে না দেশের জনগণ।
পণ্য সিন্ডিকেট দলীয় চাদাবাজ উন্নয়ন প্রকল্প থেকে এমপি মন্ত্রীর ভাগ। সবকিছুর সমস্যার মুল আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। এখানে তাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ বিনা পূজি। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব কোনো ব্যবসা নেই। আয় নেই। সম্পূর্ণ জনগণের উপর নির্ভরশীল। ওরা মুর্খ নাহলে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিত না। আর জনগণ কিছু বোকা কিছু লোভী। তাই ওদের কথা বিশ্বাস করে ভোটে যায়। ভোট দেয়। আর সারাজীবন তাদের ভাগ্য একই রকম থাকে।
অথই নূরুল আমিন
কবি, কলামিস্ট ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী