শিরোনাম
শিশু ধর্ষণের ভয়াবহ চিত্র: বিবেককে জাগ্রত করার সময় এখনই সংস্কারহীনতায় ধুঁকছে তাড়াইলের ১ নং তালজাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ঢাকা থেকে নারী এনে আলফাডাঙ্গায় দেহ ব্যবসার অভিযোগ দুই নারীর বিরুদ্ধে ঝালকাঠির রাজাপুরে আলহাজ্ব লালমোন হামিদ মহিলা কলেজের সড়ক বেহাল, সংস্কারের দাবি বিশ্বম্ভরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ (World Environment Day – 2026) উদযাপন নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত! কবিতা: কিছুই শেখা হলো না একজন দক্ষ পুরুষ যখন  রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী, তাহলে কেনো দেশের মানুষের জন‍্য  মঙ্গল হবে না শতভাগ?  জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব এ‍্যাড: মাওলানা জাকির হামিদী এর পরিচিতি
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

চিত্রনায়িকা রাবিনা — এক রহস্য, এক অপূর্ণ সম্ভাবনা

সিলেট নিউজ ডেস্ক / ২৯৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

Manual6 Ad Code

সিলেট নিউজ ডেস্ক :

Manual7 Ad Code

সালমান শাহ চলে যাওয়ার পর ঢাকাই চলচ্চিত্র যেন হঠাৎ করেই শূন্য হয়ে পড়েছিল। নির্মাতারা খুঁজছিলেন একজন সুদর্শন নায়ক—যার ওপর ভরসা করা যায়, যাকে সালমানের বিকল্প ভাবা যায়। ঠিক সেই সময়েই ধীরে ধীরে ব্যস্ততা বাড়ছিল এক নতুন নায়কের—রিয়াজের। আর সেই সন্ধিক্ষণেই, ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর মুক্তি পায় প্রয়াত পরিচালক মোহাম্মদ হান্নানের ছবি ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’।

Manual8 Ad Code

ছবিটি মুক্তির পরই দর্শকের হৃদয়ে নরম আঘাত করে। একেবারে টানটান রোমান্টিক গল্প, সহজ কিন্তু ছুঁয়ে যাওয়ার মতো সংলাপ—প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে সিনেমাটি হয়ে ওঠে আবেগের ঠিকানা। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরে তৈরি গানগুলো ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। ঠিক সেই সময় দেশে স্যাটেলাইট টিভির আগমন, আর তার সুবাদে ‘পড়ে না চোখের পলক’ গানটি ঢুকে পড়ে বাংলাদেশের ড্রয়িংরুমে। গানটি যেমন সুপারহিট হয়, তেমনি ছবিটিও। আর সেই সঙ্গে রিয়াজ হয়ে ওঠেন তারুণ্যের হার্টথ্রব।

কিন্তু শুধু রিয়াজ নন, এই ছবির মাধ্যমে তারকা হয়ে ওঠেন একেবারে অপরিচিত এক নায়িকাও। রিয়াজের বিপরীতে যিনি দাঁড়িয়েছিলেন, যাঁর মুখ আজও চোখ বন্ধ করলে ভেসে ওঠে—তিনি রাবিনা। নতুন শতাব্দীর ঠিক আগমুহূর্তে এক প্রজন্ম রাবিনাকে দেখেছিল রোমান্টিকতার রাজমুকুট মাথায় নিয়ে। কেউ কেউ তাঁকে শাবনূর, মৌসুমীর কাতারেই কল্পনায় বসিয়েছিলেন। কৈশোর আর তারুণ্যের স্মৃতিতে রাবিনাকে ঘিরে জমে আছে অগণিত প্রেম আর হাহাকার।

পর্দায় তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল মুম্বাইয়ের নায়িকা হিসেবে। নামের বানানও সেভাবেই লেখা হতো—রাবিনা। সুন্দর মুখ, ভুবনভোলানো হাসি, ডাগর ডাগর চোখ আর মিষ্টি কণ্ঠের সংলাপে অল্প সময়েই বাংলাদেশের দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি। এতটাই প্রভাব ছিল ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’-এর, যে ছবির জনপ্রিয় গান ‘পড়ে না চোখের পলক’ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে মোহাম্মদ হান্নান পরে একই নামে আরেকটি সিনেমা বানান। সেখানে জুটি ছিলেন শাকিব খান ও রত্না। ছবিটি ব্যবসাসফলও হয়েছিল।

এই সাফল্যের তিন বছর পর, ২০০০ সালে, মোহাম্মদ হান্নান আবারও রাবিনাকে ফিরিয়ে আনেন ঢাকাই সিনেমায়। এবারও নায়ক রিয়াজ। ছবির নাম ‘সাবধান’। এই ছবিতে রিয়াজ ভেঙে ফেলেন তার রোমান্টিক ইমেজ, হাজির হন ভয়ংকর অ্যাকশন হিরো হিসেবে। আর সেই রুক্ষ, নিষ্প্রাণ চরিত্রের বুকে প্রেমের বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়েন রাবিনা। অ্যাকশন ঘরানার ছবিতেও তাঁর রোমান্স দর্শকের মন কেড়ে নেয়।

এরপর আবারও এই পরিচালক-নায়ক-নায়িকার জুটিকে দেখা যায় ‘দলপতি’ ছবিতে। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতেও রাবিনা দর্শককে মুগ্ধ করেন। তিনটি ছবিতেই নায়ক ছিলেন রিয়াজ, আর আশ্চর্যের বিষয়—এই তিনটিই ছিল রাবিনার বাংলাদেশের একমাত্র চলচ্চিত্র। এরপর আর কখনও তাঁকে দেখা যায়নি কোনো বাংলাদেশি ছবিতে।

তখন থেকেই শুরু হয় প্রশ্ন আর রহস্য। রাবিনা কোথায় গেলেন? কেন আর তাঁকে ফিরিয়ে আনা হলো না? তাঁর অবস্থান নিয়েও আছে বিভ্রান্তি। কেউ বলেন তিনি মুম্বাইয়ের মেয়ে, কেউ বলেন কলকাতার। কেউ বলেন কলকাতায় জন্ম, কিন্তু বেড়ে ওঠা মুম্বাইয়ে। আবার অনলাইনে খুঁজলে পাওয়া যায় তথ্য—তিনি নাকি ভারতের দক্ষিণের সিনেমার নায়িকা। এমনকি নামের বানান নিয়েও ধোঁয়াশা—কোথাও রাবিনা, কোথাও রাভিনা, কোথাও আবার রভিনা।

এই রহস্য নিয়ে রিয়াজ নিজেও খুব বেশি কিছু জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, রাবিনা ছিলেন অসাধারণ একজন অভিনেত্রী। কাকতালীয়ভাবে বাংলাদেশে তাঁর করা তিনটি ছবিতেই নায়ক ছিলেন তিনি নিজে। ছবিগুলো সুপারহিট হয়েছিল। মুম্বাইয়ের মেয়ে হয়েও রাবিনা বাংলা ভাষা ও সিনেমার প্রতি ছিলেন গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। r

কিন্তু ২০০১ সালের পর তাঁর সঙ্গেও আর কোনো যোগাযোগ নেই। একবার শুনেছিলেন ফেসবুকে ‘বিশাখা’ নামে একটি আইডি আছে, কিন্তু সেখানেও যোগাযোগ হয়নি। রিয়াজের কথায়, রাবিনার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জানতেন নির্মাতা মোহাম্মদ হান্নান। তাঁর মৃত্যুর পর যেন সবাই রাবিনাকেও ভুলে গেল। বহুদিন পর তাঁর কথা উঠলে ভালো লাগে, যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন—এই কামনাই করেন তিনি।

চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও গবেষক আব্দুল্লাহ জেয়াদের মতে, রাবিনা মূলত কলকাতারই মেয়ে। জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানে, পরে ক্যারিয়ারের খোঁজে মুম্বাই পাড়ি দেন। কিন্তু সেখানে বড় সাফল্য পাননি। সম্ভবত এখন কলকাতাতেই আছেন। তিনি জানান, বহু বছর আগে রাবিনার একটি ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন, যেখানে তাঁর ব্যক্তিজীবনের অনেক অজানা দিক উঠে এসেছিল। লেখাটি খুঁজে পাওয়া গেলে হয়তো আরও কিছু তথ্য জানা যেত। তাঁর মতে, ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে একটি মাইলফলক ছবি, আর রাবিনা ছিলেন একজন ভালো অভিনেত্রী। তাঁকে আবার দেখা গেলে ভালো লাগত।

Manual4 Ad Code

রাবিনার মৃত্যু হয়েছে—এমন গুঞ্জনও শোনা যায়। তবে আব্দুল্লাহ জেয়াদ বলেন, তিনি এমন কোনো খবর শোনেননি। যদি মৃত্যু হতো, মোহাম্মদ হান্নান বেঁচে থাকতে নিশ্চয়ই জানা যেত। হলে হয়তো ২০১৪ সালের পর হয়েছে।

মৃত্যু হোক কিংবা আড়ালে থাকা—যাই হোক না কেন, রাবিনা বাংলা সিনেমায় চিরসবুজ হয়ে থাকবেন রিয়াজের বিপরীতে ‘পড়ে না চোখের পলক’ গানে। একই সঙ্গে ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’ গানেও তাঁর নাম জড়িয়ে থাকবে এ দেশের রোমান্টিক গানের ইতিহাসে।

চিত্রনায়িকা রাবিনা তাই শুধু একজন নায়িকা নন—তিনি এক স্মৃতি, এক রহস্য, এক অপূর্ণ সম্ভাবনা। এসেছিলেন, আলো ছড়িয়েছিলেন, তারপর নি:শব্দে হারিয়ে গেছেন। আর সেই হারিয়ে যাওয়াটাই আজও তাঁকে আলাদা করে মনে করিয়ে দেয়।

Manual6 Ad Code


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Registration Form

[user_registration_form id=”154″]

বিভাগের খবর দেখুন

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code