সিলেট নিউজ ডেস্ক :
এনসিপির উচ্চতর নেতাদের বলবো আপনারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নাম লিখাবেন না। এনসিপিকে মনে রাখতে হবে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি শুধু ধ্বংস ডেকে আনে, দুদিন আগে আর পরে। এর কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনে না।’ গণরাজনীতি বলতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সর্বসাধারণের বা জনগণের অংশগ্রহণকে বোঝায়, যা মূলত গণরাজনৈতিক দলগুলোর উত্থানের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এটি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি রূপ। যেখানে দেশের বিভিন্ন পেশার নাগরিকেরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকে এবং এটি প্রায়শই শিল্প বিপ্লবের পর গণসমাজের উত্থানের সাথে সম্পর্কিত।
জনপ্রতিনিধি হওয়া আর জনগণ একত্র করা এক বিষয় নয়। জনপ্রতিনিধি হতে হলে দেশ ও দেশের জনগণকে নিয়ে ভাববেন আশা করি। দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলার মত কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। দেশের জনগণ এখন খুবই ক্লান্ত। তারা আর ক্লান্ত থাকতে চায় না। তারা বিভক্তি চায় না। সাধারণ জনগণ চায় সুন্দর একটি বাংলাদেশে। ‘আমি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই’। তবে আমি চাই, নেতৃত্ব আসুক নতুনদের হাতে। তরুণরা হাল ধরুক। আর সেই তরুণদের পথ দেখাবে প্রবীন রাজনীতিবিদগণ। আর পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির অবসান হোক। দেশে প্রতিষ্ঠা পাক ন্যায়বিচার, ইনসাফের রাজনীতি ও মানবিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্টা হোক।’
সেদিন শেখ মুজিব যখন দেশের হাল ধরেছিলেন তখন বলতে গেলে তিনি তরুণ ছিলেন। আবার বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা মেজর জিয়াউর রহমান যখন দেশের হাল ধরেন তখনও তিনি তরুণ। আবার মেজর জেনারেল এরশাদ যখন দেশের কান্ডারি হন তখনও তিনি তরুণ। তাদের বেশকিছু গুণের কারণেই কিন্তু তারা সবচেয়ে বড় নেতা হতে পেরেছেন। তবে তারাও যখন জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হলেন তখন তারা ভুলে গেলেন ক্ষমতা কারো চিরস্থায়ী নয়। এই কথা শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াও ভুলে গিয়েছিলেন। তারা দুজনই একটা পর্যায় কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি শুরু করেন। তাই এনসিপিকে বলবো আপনারা ২৪ কে নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে। অন্তরে মুক্তিযুদ্ধ আর ২৪ লালন করে এগিয়ে যান। নতুন সম্ভাবনার রাষ্ট্র সাজাতে। দেখবেন আপনাদের হাতেই হাসবে নতুন বাংলাদেশ। সম্মান করলে সম্মানীত হবেন এটা মনে রাখবেন। দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে আমি মনে করি এসব ক্রোন্দলে যাবেন না। শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা এসব জপমালা না জপে, নতুনভাবে কীভাবে দেশকে সুন্দর একটি কাঠামোতে দাড় করানো যায় তা নিয়ে ভাবেন। শেখ হাসিনাও তার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর রাজাকার, রাজাকার বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলেছেন। আর বেগম খালেদা জিয়াও তার দল শহীদ জিয়া ঘোষক বলতে বলতে ফেনা তুলেছেন। এসব না করে, অন্তরের চোখ খুলে এগিয়ে যাবে এনসিপি সেই প্রত্যয় ব্যক্ত করি।
এনসিপিকে বলবো মানব সম্পদ উন্নয়ন কীভাবে জনগণের কাজে লাগে সেই কাজটা করুন। গবেষণা করুন। গবেষণা সেল তৈরি করুণ। সকল পেশার শ্রেণির কথা শুনুন। অবকাঠামো উন্নয়ন তো করবেন। বেশি জোড় দিবেন মানব সম্পদ উন্নয়নে। আগে জানতে হবে মানব সম্পদ কী? মানব সম্পদ উন্নয়ন বলতে একটি দেশের বা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দক্ষতা, জ্ঞান, এবং স্বাস্থ্যকে উন্নত করার একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যাতে তারা আরও উৎপাদনশীল এবং দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। আপনার কর্মীদের দক্ষতা, জ্ঞান বৃদ্ধি করুণ। এনসিপির যেমন অনেকগুলো ভালো গুণ ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি আবার তেমনি খারাপ গুণও লক্ষ্য করেছি। তারাও মুক্তিযুদ্ধের মত কৌটা রেখেছেন। মনোনয়ন ফরম বিক্রি করতে গিয়ে কৌটা প্রচলন করেছেন। আমি বলবো যে কৌটার জন্য এতো মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে, সেই কৌটা ব্যবস্থা রাখাটা কী ঠিক হয়েছে? একটা সময় মানুষ বলবে কাপড় ঠিক আছে খালি পুরোনো কাপড় পরির্বতন করে নতুন কাপড় পড়েছে। এ ধরনের কথা যাতে না বলে।
তারিকুল আমিন
প্রাবন্ধিক, গল্পকার, অভিনয় ও আবৃত্তি শিল্পী
জয়েন্ট এ্যাম্বাসেডর জেনারেল, নব ভাবনা লেখক ফোরাম
বাড়ি#২১, রোড#০২, ব্লক-এ, ঢাকা উদ্যান ,মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭
আলাপ-০১৩১০২৭৫৬৩৩
২৫. ১১.২০২৫