অথই নূরুল আমিন:
বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের বেশিরভাগ সময় তারা এই দেশ পরিচালনা করেছে। কিন্তু তাদের কাছে মুখ্য বিষয় ছিল, ব্যবসা। ওরা যেন ছিল দেশের নব্য দ্বিতীয় ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেমন বিভিন্ন জায়গায় তারা অর্থের বিনিময়ে নবাব জমিদার তালুকদার খান পাঠান বানিয়ে দিয়ে তাদের কাজ থেকে ভ্যাট ট্যাক্স নিয়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আরামে জীবনযাপন করত।
বিএনপি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিও ঠিক সেরকম ভাবেই এই দেশ পরিচালনা করেছিল। তাদের আত্মীয়রা এবং তাদের সহচরেরাই দিব্বি ভালো আছে। অথচ দেশের যাটভাগ জনগণ আজও দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাস করছে। একমাত্র পরিবারতন্ত্র রাজনীতির রোষানলে দেশের প্রায় আট কোটি মানুষ ভূমিহীন গৃহহীন এবং ভাসমান জীবনযাপন করছে। দেখার কেউ নেই।
এদিকে নব্বই ভাগ জনগণের নেই কোনো নাগরিক সুযোগ সুবিধা। দেশে নেই নিরাপত্তা। এই পরিবারতন্ত্র রাজনীতির কারণে দেশের শতভাগ সরকারি কর্মচারী ঘুষ খেতে শুরু করেছে। ওদের ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে বিদেশীদের বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে এই দেশে। একমাত্র পরিবারতন্ত্র রাজনীতির কারণে সমাজেও লেগে ঝগড়া বিশৃঙ্খলা মামলা এবং প্রতিবেশির শত্রু প্রতিবেশি।
এই পরিবারতন্ত্র রাজনৈতিক দলগুলো দেশের জনগণের স্বপ্ন গুলোকে ছোট করে রেখেছে। এবং বারবার জনগণের সাথে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে গেছে।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে যতগুলো আশ্বাস দিয়েছিল। তার কোনটাই তারা পূরণ করেনি।
২০০৮ এ আওয়ামী লীগ জাতিকে যে আশ্বাস দিয়েছিল তা তারাও পূরণ করেনি। এরশাদ নিজেই হাজার কোটি টাকার মামলা খেয়েছিলেন।
১ শিক্ষা অচল ২ স্বাস্থ্য সেবা ৩ সিন্ডিকেট ভরপুর ৪. সরকারি কর্মচারীরা ওপেন ঘুষ খাচ্ছে ৫ কৃষি খামার মৎস্য চাষ লোকসানে আছে, ৬ দেশে ছয় কোটি জনগণ বেকার রয়েছে। যার ফলে পরিবারতন্ত্র রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের মাঝে হয়ে হাসি তামাশার পাত্র। এরশাদ আজীবন ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এখন আছেন তার ভাই জি এম কাদের। আওয়ামী লীগের আজীবন সভাপতি শেখ হাসিনা। সতেরো বছর পর তারেক রহমান দেশে এসেই। দলের চেয়ারম্যান। উক্ত দলগুলার মাঝেই তো গণতন্ত্র নেই। তাই দেখে আজকে জনগণ বিকল্প পথ খুজছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবেন। কারা ক্ষমতায় আসবে। আর কারা আসবে না।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬