নূর হোসাইন :
রাজধানীর অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা। প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত ও কর্মব্যস্ততায় মুখর এই এলাকাটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকার বেশ কিছু আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
গত ২ জুলাই ২০২৬ ইং সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সায়দাবাদ কেন্দ্রিক বেশ কিছু আবাসিক হোটেলে প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে অসামাজিক কর্মকাণ্ড। অভিযোগ রয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এসব হোটেলে ভাড়ার বিনিময়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে যে হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো হলো— হোটেল গ্রীন বিউ, হোটেল নাহিদ, মিজান প্লাজা, কিংস প্যালেস, হোটেল রয়েল প্লাজা, হোটেল ছায়ানীড়, হোটেল ডিএমডি এবং হোটেল গোল্ডেন ইন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই হোটেলগুলোতে দিন-রাত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা পারিবারিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “এসব হোটেলের কারণে এলাকাটিতে মাদক সেবন এর মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডারদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়াই কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি।”
সামাজিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তার অবনতি নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সায়দাবাদের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে:
নিয়মিত অভিযান: পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে হোটেলগুলোতে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন, প্রতিটি হোটেলে বোর্ডারদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ও যথাযথ তথ্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত সেই রেজিস্টার স্থানীয় থানায় জমা দেওয়া নিশ্চিত করা। অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ মিললে অভিযুক্ত হোটেলগুলোর ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যবসায়িক অনুমতি বাতিল করা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা, যাতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনা যায়।
সায়দাবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় এর নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, জনস্বার্থ ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন অতি দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।