বিশেষ প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের তেতালী বিল ইজারা নিয়ে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জৈন্তাপুর মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কহাইগড় ২য় খণ্ড গ্রামের অলিউর রহমান, বাবুল আহমদ ও ইসমাইল আলী ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত মাছ চাষের উদ্দেশ্যে তেতালী বিলটি দুইটি পৃথক চুক্তির মাধ্যমে ইজারা নেন। এজন্য তারা ৮ লাখ টাকা করে মোট ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, চুক্তির মেয়াদ বহাল থাকা অবস্থায় তাদের না জানিয়ে একই বিল পুনরায় শ্যামপুর গ্রামের হেলাল আহমদের কাছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইজারা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তারা বর্তমান চেয়ারম্যান জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কামারুজ্জামান চৌধুরী ও চিকনাগুল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা বিএনপি নেতা সামছুজ্জামান চৌধুরীকে দায়ী করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক বৈঠকে অভিযুক্তরা মূল ১৬ লাখ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণসহ মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন। এ সময় সামছুজ্জামান চৌধুরী সোনালী ব্যাংক, সিলেট ক্যান্টনমেন্ট শাখার নিজ হিসাব থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকে উপস্থাপনের পর জানা যায়, ওই হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ফলে ভুক্তভোগীরা বিলের দখলও পাননি, আবার ক্ষতিপূরণের টাকাও আদায় করতে পারেননি।
পরবর্তীতে বিষয়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হলে তাদের উদ্যোগে চিকনাগুল ইউনিয়নের ১৫ মৌজার মুরব্বি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় পাঁচ মাস ধরে কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মুরব্বিরা ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে গত ১৩ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জৈন্তাপুর মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মছদ্দর আলী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেছি। উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে আমরা ভুক্তভোগীদের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
ইউনিয়নের বিশিষ্ট মুরব্বি হাফেজ আব্দুল মুছাব্বির ফরিদ বলেন, “স্থানীয়ভাবে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি। একাধিক বৈঠকে উভয় পক্ষ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমরা অভিযোগকারীদের প্রশাসনের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এখন প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি।”
অভিযুক্ত চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সকল তথ্য সঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আমি তাদের পাওয়ানা টাকা পরিশোধ করেছি। এক লক্ষাধিক টাক রয়েছে যা আমি স্থানীয় মুরব্বিদের মাধ্যমে শীগ্রই পরিশোধ করব।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, “অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।