অথই নূরুল আমিন:
বাংলাদেশের ইতিহাসে ফসলি জমি রক্ষা করার কোনো পরিকল্পনা কোন সরকারের পক্ষ থেকেই নেয়া হয়নি। নেয়া হয়নি দেশের সবটুকু ভূমি জুড়ে একযোগে চাষাবাদের কোনরকম ব্যবস্থা বা উদ্যোগ । মোটা মাথার সরকার গুলোকে সবসময় চার লেনের রাস্তা ছয় লেন বা আট লেন করতে দেখেছি। বিশ ফিটের কালভার্ট ভেঙ্গে তিরিশ ফিট করতে দেখেছি। এছাড়া যেন সরকারের পরামর্শ দাতারা আর কিছুই ভাবতে পারেন না।
প্রতিটা সরকার আসার পর তাদের বাৎসরিক বাজেট করতে দেখেছি পিছনের বছরের চেয়ে বাড়িয়ে । যা প্রতি বছর বাজেটের অংক বেড়েই চলছে। আর সঙ্গে সঙ্গে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ছয় মাসে সাধারণত পোলাওর চালের দাম বেড়েছে কেজিতে একশ টাকার বেশি। এই নিয়ে সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই। কারণ পোলাওর চাল তো ধনীদের খাবার। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করেছে বিএনপি সরকার এই তো কয়েক দিন আগে । তাতেই বুঝা যাচ্ছে সরকার নিজেও তেলবাজ। যেখানে রাষ্ট্র চালাতে অর্থনৈতিক ভাবে একটি সরকার যেখানে নিজেই অক্ষম। সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে কেন? প্রয়োজনে আরো কমবে। এখানে সবচেয়ে বড়ো মজার বিষয় হচ্ছে। সরকারকে কেউ না কেউ বুঝিয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তারা বেশিরভাগই বিএনপি পন্থী। তাই দ্রুত তাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে বলে আমার মনে হয়।
লক্ষ্য করে দেখা যায়, সরকারের কর্মকর্তাদের মাঝে কিন্তু সব দলের লোকজন রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে । আমি না হয় মানলাম। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বেড়েছে বাড়ুক। কিন্তু ঘুষ? ঘুষ নেয়া কি তারা বন্ধ করেছে? না, করেনি। তাহলে জনগণের লাভ? দেশের জনগণের কোন লাভ আছে কি? একটা সরকারকে দিয়ে? না। কোনো লাভ সাধারণ জনগণের নেই বলে সবাই স্বীকার করবে ।এককথায় উত্তর আসবে, না। আমাদের দেশের প্রতিটা সরকার যেন জনগণের জন্য গলার কাটা সমতুল্য।
জনগণের চাহিদা পূরণ করতে কোন সরকার কাজ করেনি তার বড়ো প্রমাণ, বিদ্যুতের ঘাটতি। গ্যাসের অভাব। যে জিনিস গুলো জনগণ উচিৎ টাকা দিয়ে কিনে নেয়। সেই জিনিস গুলো যদি একটা সরকার দিতে ব্যর্থ হয়। তাহলে এই সরকারের কাছে দেশের জনগণের আর কি পাওয়ার থাকতে পারে? কিছুই না। তবে সমস্যা গুলো গত কয়েক মাসেই সৃষ্টি হয়েছে তা কিন্তু নয়। এগুলো দীর্ঘদিনের সমস্যা।
তবে একটা কিছু কথা বিএনপিকে না বললেই নয়।
গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে একটি দল ক্ষমতায় এসে দেশের প্রায় সব জায়গায় দলীয় পছন্দের লোক নিয়োগ করেও কোন সুফল আসেনি। জনগণ হতাশ। দলীয় নেতাকর্মীরাও অনেকেই আজ হতাশ। বিএনপি সরকারের একদিকে ভাগ্য ভালো যে, আওয়ামী লীগের আমলে দেশের জনগণকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দিয়েছিল। নির্যাতন করা হয়েছিল। জনগণকে আওয়ামী লীগ বিভিন্নভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিল। তাই দেশের আপামর জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি ক্ষিপ্ত বিধায়, বিএনপির বিরুদ্ধে হয় তো তুমুল আন্দোলন এই জনগণ করতে যাবে না। কারণ আওয়ামী লীগ যে ধরনের অমানবিক আচরণ জনগণের সাথে করেছে। এই ধরনের খারাপ আচরণের অর্ধেকও যদি বিএনপি কখনও করার চেষ্টা করে। তাহলে জনগণ আর শান্ত থাকবে না।
একটা সরকার। সরকার প্রধানকে কেউ গালি দিলে, কটাক্ষ করলে প্রশাসন তাকে ধরে নিয়ে যায়। না ধরা পর্যন্ত সারাদেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় তোলে দলীয় নেতাকর্মীরা। আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। যারা সাথে সাথে প্রতিবাদ করে। কারণ প্রতিবাদেরও কারণ আছে। আর কারণটা হলো বতর্মান সরকার বিএনপির কিন্তু সারা দেশ জুড়ে লাখ লাখ সমর্থক রয়েছে ।
কিন্তু দুখের বিষয়টি হলো। ওরা কিন্তু সমাজের ইভটিজিং বন্ধ করতে পারে না। ওরা কিশোর গ্যাং বন্ধ করতে পারে না। অসহায় পরিবারের গরুটা চুরি হলে,তা বের করতে পারে না। একজন নিরীহ লোকের কোনো ক্ষতি কেউ করলে। এখানে কেউ এসে পাশে দাড়ায় না। অন্য দিকে ভূমি অফিসের অফিসার দিব্বি তাদের চোখের সামনে ঘুষ খেয়ে যাচ্ছে, এলাকার বিভিন্ন জনগণের কাছ থেকে। আমি বলি এই যে স্থানীয় নির্বাচন আসছে সামনে। ওরাই কিন্তু জনগণের বাড়ি বাড়ি যাবে। অমুক ভাইয়ের মার্কা নিয়ে তমুক ভাইয়ের মার্কা নিয়ে, ভোট চাই ভোট। কিন্তু ভোটারদের কোন কাজে কখনও ওরা আসে না। এগুলো বিগত সরকারের আমলেও দেখেছি।
এতো গেলো সরকারে থাকা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কথা। স্বয়ং সরকারের পক্ষ থেকে জাতির কল্যাণে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। যেমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা বা সুন্দর করা করা, বেকারত্ব কমিয়ে আনা, পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখাসহ এরকম পঞ্চাশটা পদক্ষেপ রয়েছে। এগুলো করতে গেলে সরকারের তেমন কোনো বড়ো বাজেট করতে হয় না। সরকারের উপদেষ্টা গণের মেধা থাকলেই চলে। একটি সরকার সারাজীবন ক্ষমতায় থাকে না। থাকার কথাও না। তবে যে সরকার যা করে জনগণ কিন্তু তা যুগ যুগ আলোচনা সমালোচনা করতে থাকে।
বিএনপি সরকারের ২০০১ থেকে ২০২৬ সেসময় খুবই খারাপ পরিস্থিতি ছিল। রাষ্ট্রের তেমন কোনো কল্যাণই সে সময় হয়নি। যার ফলে দেশের জনগণের একটা সময় বিএনপির প্রতি পুরো আস্থা উঠে গিয়েছিল। যার ফলে ফখরুদ্দীন সরকারকে দুই বছর এবং আওয়ামী লীগকে প্রায় পনেরো বছর মেনে নিয়েছিল দেশের জনগণ। আজকের বিএনপি সরকারের গতিবিধি সেই আমলের চেয়েও আরো মন্দ দেখছি। আরো ধীর গতি দেখছি। দেশের জনগণ যেন বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করেছে। জনগণ চায় শান্তি। জনগণ চায় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল থাকুক। জনগণ চায় নিরাপত্তা। জনগণ চায় কর্মসংস্থান। জনগণ চায় সহজলভ্য স্বাস্থ্য সেবা।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবস্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।