সত্যজিৎ দাস:
ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে Meta-এর রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬৭ মিলিয়ন। এই ব্যবহারকারীর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে।
বাংলাদেশে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনা বিভিন্ন রকম। গত কয়েকমাস আগে কয়েকটি উচ্চ-প্রোফাইল হ্যাকের খবর এসেছে:
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ হ্যাক (মে ২০২৫)। সরকারি পেজটি পুনরুদ্ধার করা হয়,তবে এটি দেশের সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই সাইবার ঝুঁকির প্রমাণ।
Evaly ই-কমার্স হ্যাক (মে ২০২৫)। হ্যাকাররা সরাসরি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি জানায়।
এছাড়াও,সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও ফিশিং আক্রমণ, ক্রেডেনশিয়াল লিক এবং একাউন্ট টেকওভারের ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ফেসবুক অ্যাকাউন্ট টেকওভার (ATO) বেড়ে চলেছে। যদিও ২০২৫ সালে কিছু দেশে ফিশিং আক্রমণ ২০% কমেছে,তবু এগুলো আরও লক্ষ্যভিত্তিক এবং জটিল হচ্ছে। বাংলাদেশেও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।
গ্লোবাল ট্রেন্ড অনুযায়ী,যদি বিশ্বে দৈনিক প্রায় ৩০০,০০০ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়,দেশের ব্যবহারকারীর অনুপাত অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিদিন আনুমানিক ৫,৮০০-৫,৯০০ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে। যদিও এটি অনুমান,কারণ অফিসিয়াল country-level দৈনিক পরিসংখ্যান Meta বা CERT-BD প্রকাশ করে না।
ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে সহজ কয়েকটি পদক্ষেপে:
১) শক্তিশালী পাসওয়ার্ড: ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার প্রথম ধাপ হলো শক্তিশালী ও অনন্য পাসওয়ার্ড। বড় হাতের অক্ষর,ছোট হাতের অক্ষর,সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করুন। অন্য কোনো অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড একই ব্যবহার করবেন না। নিয়মিত প্রতি ৬–৮ মাসে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
২) দুই-ধাপ যাচাইকরণ (2FA): লগইন করার সময় অতিরিক্ত কোডের মাধ্যমে আপনার পরিচয় যাচাই হবে। এটি হ্যাকারদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন করে।
৩) সন্দেহজনক লিঙ্ক ও অ্যাপ এড়িয়ে চলা: অপরিচিত ইমেল বা ম্যাসেজে থাকা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ বা গেমে লগইন করার আগে যাচাই করুন।
৪) লগইন অ্যাক্টিভিটি নিয়মিত চেক করা: ফেসবুক সেটিংসে “Where You’re Logged In” চেক করুন। অজানা ডিভাইস বা লোকেশন থাকলে তা লগআউট করুন।
৫) পেজ অ্যাডমিনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ: পেজের সব অ্যাডমিনকে 2FA চালু করতে বলুন। অজানা বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাডমিন/এডিটর সরিয়ে দিন।
৬) নিরাপত্তা নোটিফিকেশন চালু করা: Login Alerts চালু করুন। অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের তথ্য ইমেল বা মোবাইলে নোটিফাই হবে।
৭) নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা: আইডি সহ গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট ও পেজের তথ্য ব্যাকআপ রাখুন। হ্যাক হলে তথ্য পুনরুদ্ধার সহজ হবে।
৮) Date of Birth: আইডিতে সঠিক জন্মতারিখ পুরোটা উল্লেখ করা যাবেনা।
৯) আইডেন্টিটি: ফেসবুক আইডির চালক হিসেবে,নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র,ড্রাইভিং লাইসেন্স,পাসপোর্ট দিয়ে আইডেন্টিটি কনফার্ম করুন।
১০) Malware: মেলওয়্যার থেকে রক্ষা পেতে ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে তিনবার করে ডিভাইস Restart করুন।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হ্যাকের ঝুঁকিও বাড়ছে। উচ্চ-প্রোফাইল হ্যাক থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারীর একাউন্ট পর্যন্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
উৎস:
Meta Transparency Reports
Prothom Alo: Bangladesh Facebook account requests
SSL Store Blog: Social Engineering Statistics
Dhaka Tribune: Evaly hackhack
সিলেট নিউজ/এসডি.