সিলেট নিউজ ডেস্ক :
তনু হত্যা মামলার বিচার তরান্বিত হওয়ায় সরকারকে অবশ্যই সাধুবাদ দিতে হবে। ওই নৃশংস হত্যাকান্ডের ১০ বছর পর মঙ্গলবার একজন সাবেক সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলো।
এবার আরেক চাঞ্চল্যকর মুনিয়ার ধর্ষণ ও হত্যার মামলার তদন্ত ও বিচারের কাজও জোরেশোরে শুরু হবে আশা করছি।
২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর আসামি করে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’র মামলা করেন।
আওয়ামী লীগের দেড় দশকে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। যেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার তো দূরের কথা সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনার ধামাচাপা দেয়া এবং অপরাধীদের সাথে সমঝোতা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা হয়েছে।
তনু ও মুনিয়া হত্যাকান্ড সেসব ঘটনার মধ্যে অন্যতম। এরমধ্যে তনু হত্যাকান্ডের তদন্ত মাঝপথে বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার আর মুনিয়া হত্যার দায়ে প্রধান অভিযুক্ত বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে দায়মুক্তির ব্যবস্থা করে দেয়।
ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা বছরের পর বছর ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। মঙ্গলবার আদালতে তনুর বাবা-মায়ের মুখে প্রথম বার কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও মুনিয়ার স্বজনেরা এখনো চোখে অন্ধকারই দেখছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর সেসব ঘটনার ন্যয়বিচার হবে বলে আশা করছে সবাই।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ওই আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান (৫২) সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী তনুর মরদেহ কুমিল্লা সেনানিবাসের জঙ্গলে পাওয়া যায়। তনু সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় ওই দিন সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়াতে গিয়েছিলেন। রাতে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
এদিকে মুনিয়া হত্যাকান্ডের পর শুরু থেকে এই মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও ক্ষমতাসীনদের সম্পৃক্ততায় দায়মুক্তি আদায় করে নেয় অভিযুক্ত আনভীর। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বসুন্ধরা গ্রুপ নিয়ে নানা অনিয়মের তদন্ত শুরু হলে বিএনপির শরণাপন্ন হয়ে এসব তদন্তে বাধাঁ হয়ে দাড়াঁনোর কৌশল খুঁজতে থাকে আনভীরেরা।
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর বসুন্ধরা গ্রুপ সর্বশক্তি দিয়ে সরকারের আনুগত্য প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করাও এসবের একটা উদ্দেশ্য। আমরা আশা করবো বিএনপি সরকার কোন অপরাধীর সামাজিক পতিপত্তি দেখে তদন্ত থেকে সরে আসবে না।
তাই তনু হত্যাকান্ডের তদন্তে গতি আসার পর মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড মামলাও তদন্তেও গতি পাবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।