চোরাচালানে বাধা দিতে গিয়ে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ: ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, নগদ টাকা ও মালামাল লুট
নিজস্ব প্রতিবেদক | জৈন্তাপুর, সিলেট,
সিলেটের জৈন্তাপুরে কথিত চোরাচালানের মালামাল পরিবহনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক পাথর ও বালু ব্যবসায়ীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি তার কাছ থেকে নগদ টাকা, দুটি স্মার্টফোন, মানিব্যাগ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বিরাইমারা গ্রামের বাসিন্দা ও পাথর-বালু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হেলাল খান (৩৩) গত ২৬ জুন ২০২৬ ভোরে ব্যবসায়িক কাজে বের হন। সকাল আনুমানিক ৫টা ২৫ মিনিটে তিনি ২ নম্বর লক্ষীপুর গ্রামের রাংপানি ভাঙা ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফারজানা ক্রাশার মিলের ফিল্ডে পৌঁছে দেখতে পান, কয়েকজন ব্যক্তি একটি ডিআই গাড়িতে ভারতীয় প্লাস্টিকের বস্তা ও ভারতীয় মহিষ তুলছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি দেখে তিনি স্থানীয় সাক্ষী আব্দুল করিমকে ডেকে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাধা দেন। এতে অভিযুক্তদের মধ্যে মির্জান আহমদ রুবেল ও শাহিনুর রহমান অন্যদের হামলার নির্দেশ দেন। এরপর সায়েম আহমদ, আব্দুল বারিক, মনির হোসেন (রুমন), সুলতান আহমদ, জাকির হোসেন, ফয়সল আহমদ, রাজু আহমদ, ফরহাদ হোসেন, হারুন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন রড ও রোল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে মির্জান আহমদ রুবেল ধারালো দা দিয়ে হেলাল খানের মাথায় কোপ দেন, এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। একই সময় সায়েম আহমদ তার কোমর থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ভুক্তভোগীর মাথায় ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় তার কাছ থেকে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্টফোন (স্যামসাং ও অপ্পো), ২ লাখ ১১ হাজার টাকা নগদ, মানিব্যাগ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রায় ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি রোলেক্স ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
হেলাল খানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে ২৬ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি বাড়ি ফিরে স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় এজাহার দায়ের করেন। চিকিৎসাধীন থাকায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনের তথ্য ভুক্তভোগীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।