অথই নূরুল আমিন:
“প্রবাদটি হলো যেই লাউ সেই কদু ” শেখ হাসিনার আমলে পনেরো বছর ধরে যত উন্নয়নের কথা প্রচার করা হয়েছে। দেশের জনগণের সবার মিলেও এগুলো চুল ও জনগণের মাথায় নেই। অথচ হাসিনার পতনের পরই জনগণ আর উন্নয়নের কোন সুফল খোঁজে পায়নি। আজকে বিএনপি ক্ষমতায় আছে। তারাও দেখছি এই করবে, সেই করবে, বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন রকম সহযোগিতা করবে। আসলে এসবই একধরনের বাউতামি বা বোকাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
চলমান বাজেটে বিএনপি যেসকল পদক্ষেপ নিয়েছে। তাতে পুরো বাজেটের অর্থ নষ্ট হওয়ার পথে আজকে । দেশের উন্নয়নের আগে প্রয়োজন জনগণের উন্নয়ন। জনগণের নিরাপত্তা। জনগণের স্বাস্থ্য সেবা। যানবাহনে চলাচলে সাশ্রয় করা। ভূমিহীন গৃহহীনদের পূনর্বাসন করাসহ নানারকম পদক্ষেপ নেয়া দরকার জনগণের সরাসরি কল্যাণে।
তা না করে সরকার যদি লোক দেখানো কাজ করে। জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন না করে যদি সেই আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিদের মত বিদেশে টাকা পাচার করা হয়। দেশের জনগণকে যদি পণ্যের দাম বাড়িয়ে শোষণ করা হয়। তাহলে বিএনপির পরিণতি খুবই ভয়ংকর হবে তাও বেশি দেরি নয় । আওয়ামী লীগের চেয়েও অতি খারাপ হবার সম্ভাবনা । কথা থাকে যে, এখন পর্যন্ত বিএনপির গ্রহণযোগ্য সফলতা কিছুই দেখছি না।
৫ আগস্টে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউনূস সরকার তথা বিএনপি সরকার কেউই কিন্তু যথেষ্ট যোগ্য বা সুনাম অর্জন করার মতো কিছুই করতে পারেনি। এদিকে বিএনপির চরম ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়ে একটি মহল বারবার পোস্ট দিচ্ছে, শেখ হাসিনা আসবে শেখ হাসিনা আসবে। জনগণের চিন্তা শক্তি সেখানেই আটকে রয়েছে।
এখনো তৃণমূলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এর দায়ী ইউনূস সরকার সবচেয়ে বেশি। কারণ ইউনূস সরকার জাতির কল্যাণে বা উন্নয়নে কিছুই করতে পারেনি। বিএনপি সরকারের চার মাস পার হয়ে গেলেও তাদের বেলায়ও জন আশা গুলো ঝিমিয়ে আছে। দেশজুড়ে বন্যা চলছে। এই বন্যার অজুহাত দেখিয়ে প্রায় শতাধিক নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হবে। আর সাধারণ জনগণের থাকবে মাথায় হাত। যারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তারা হয়েছে একবার। আর পণ্যের বাড়িয়ে সিন্ডিকেটেরা ক্ষতিগ্রস্ত করবে গোটা জাতিকে।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে। বিএনপি দুইশর বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে । তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন । জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রী দিব্যি ক্ষমতায় থাকা সত্বে, সরকারি কর্মকর্তারা কোন সাহসে জনগণের কাছ থেকে ঘুষ খাচ্ছে? একজন প্রধানমন্ত্রী যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তখন শতভাগ ঘুষ প্রথা বন্ধ করা উচিত বলে মনে করি প্রধানমন্ত্রীর ।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেলজুড়ে ছাত্র ছাত্রীরা মিছিল করছে। সরকারকে গালি দিচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীকে গালি দিচ্ছে। এগুলো আসলে বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার ফল। ভবিষ্যতে এর ফল আরো খারাপ হবে বিএনপি যদি এখনই আরো জোরালো উন্নয়ন কর্মসূচি না নেয়।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মাধবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।