বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) একই পুকুরে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পুকুরটিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন মৌলভীবাজারের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী চমক দত্ত ও শান্ত দেব। এর আগে গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান ফেনীর শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা।
নিহত চমক দত্ত চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্বাসমহল এলাকায়। অপর নিহত শান্ত দেব তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের কামালপুরের আব্দালপুর এলাকায়। তাঁরা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১টার দিকে চমক ও শান্ত বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলসংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। পরে তাঁরা পুকুরের এক পাশ থেকে অন্য পাশে সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুজনই পানিতে তলিয়ে যান।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত পুকুরে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় ১০ মিনিট পর চমককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শান্তকে খুঁজে পেতে আরও সময় লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন এবং প্রায় ৪০ মিনিট পর শান্তকেও উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর দুজনকে প্রথমে চুয়েটের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। এতে উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় একই পুকুরে ডুবে মারা যান চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই স্থানে আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে চুয়েট ক্যাম্পাসে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একই পুকুরে ধারাবাহিকভাবে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় পুকুরটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে,একের পর এক দুর্ঘটনার পর পুকুরটি সেচে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নিহত চমক ও শান্তের মরদেহ ও পরিবারের সদস্যদের কাছে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে। এসব বাসে তাঁদের সহপাঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও যেতে পারবেন।
চমক ও শান্তের মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার,সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পুকুরে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনায় চুয়েটের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও এখন কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে।
সিলেট নিউজ২৪/এসডি.