নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ঢাকার দারুস সালাম থানার সুইচ গেইট সংলগ্ন শান্তি উদ্যান (আহমেদ নগর) এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, রোজ শনিবার বিকাল ৪টায় স্থানীয় আইয়ুব আলী হাওলাদার মার্কেটের পেছনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শান্তি উদ্যান বাড়ির মালিক সমিতির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী হাওলাদারের উপস্থিতিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার বাড়িওয়ালা ও বাসিন্দাদের নিয়ে আয়োজিত উক্ত সভায় সংশ্লিষ্ট সকলে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সম্প্রতি মোহাম্মদ সালেক ও মোহাঃ দিলদার আমিনের বিরুদ্ধে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং জোরপূর্বক জায়গা দখলের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তদের এই বেপরোয়া কার্যকলাপে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকার একটি চিহ্নিত চক্রের সাথে মিলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে তারা। এছাড়া মাদক ব্যবসা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং সঠিকভাবে তালিকা প্রণয়নের জন্য বাড়িওয়ালাদের নিজ নিজ জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) এক কপি ফটোকপি জমা দেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। আলোচ্য প্রধান বিষয়সমূহ ছিল:
নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ: এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য চারজন নাইট গার্ড নিয়োগ।
আলোকায়ন ও সিসি ক্যামেরা: পুরো এলাকা আলোকিত করতে পর্যাপ্ত সিকিউরিটি লাইট স্থাপন এবং সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন: এলাকার নিরাপত্তা ও যোগাযোগের সুবিধার্থে দ্রুত রাস্তা সংস্কার।
বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ: অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা রোধে দিন ও রাত ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মাদক ও অপরাধ দমন: ভাড়া দেওয়ার পূর্বে ভাড়াটিয়ার এনআইডি ও ছবি সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা এবং মাদক কেনাবেচা বা সেবনের সাথে জড়িতদের কোনো অবস্থাতেই ভাড়া না দিয়ে দ্রুত বের করে দেওয়া। এর সাথে কোনো বাড়িওয়ালা বা ম্যানেজার জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
ঐক্য: এলাকার যেকোনো সংকট মোকাবিলায় বাড়ির মালিকদের পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখা এবং বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্তদের সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমতাবস্থায় জানমাল রক্ষার্থে তারা অবিলম্বে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দ্রুত এই সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।