অথই নূরুল আমিন:
বিএনপি সরকারের বতর্মানে যেন ভাদ্র মাস চলছে, বিজয় আর বিজয়, সম্ভবত গতকাল হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে। , ড. ইউনূসকে গুনতেই হবে ৬৬৬ কোটি টাকা। এরকম রায় শুনে ইউনূস বিরোধীরা তো বিরিয়ানি খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। মিষ্টি বিতরণ শুরু করে দিয়েছে। মনে মনে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে হয়তো সাধুবাদ জানাচ্ছে। এখানেও কিন্তু বিএনপি সরকারের প্লাস পয়েন্ট, দেশের একটা বৃহৎ শ্রেণির জনগণের কাছে। ড. ইউনূস কবে ঐ টাকা শোধ করবেন। এটা অনেক দূরের ব্যাপার হলেও উপস্থিত একধরনে জনগণের জন্য খুবই খুশির সংবাদ এটা।
অন্য দিকে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগতম জানাচ্ছে দেশের ভারত বিরোধী আরেক পক্ষ জনগণ। এখানেও বিএনপির জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে ক্রমশ। আমাদের দেশে ভারত বিরোধী জনগণের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকের বেশি হবে, তারা কিন্তু কমবেশি সবাই সরকারের প্রতি খুশিই বটে।
এদিকে র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। র্যাব এখন থেকে নতুন রুপে কার্যক্রম শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে । তাতে যদি দেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নতি হয় কিছুটা । তাহলে বিএনপি সরকারের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যাবে। এহেন জনপ্রিয়তা সরকারকে ধরে রাখতে হলে অবশ্যই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় পদাধিকারী ব্যক্তিদের দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে এখনই ।
এরই মধ্যে বিএনপি সরকারের সাথে বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করার আশ্বাসও দিয়েছে, যেমন আমেরিকা চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ। বিএনপি সরকারের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য হলো, ডক্টর খলিলুর রহমানের সেই সভাপতি পদ। এটা স্বীকার করতেই হবে। এখানেও দেশের সচেতন নাগরিকগণ খুশি হয়েছেন। তবে কথা থাকে যে, একটা সরকারের সাফল্য যেমন থাকবে তেমনি ব্যর্থতাও থাকবে। সব মিলিয়ে ভালোর দিক বেশি হলেই ভালো।
এদিকে বতর্মান বিরোধী দলীয় নেতারা সেদিন বেশ কয়েক দফা দাবি নিয়ে সরকার বিরোধী লং মার্চ করে এলো। ঢাকা টু চট্টগ্রাম।এটাও বিএনপি সরকারের জন্য প্লাস পয়েন্ট হয়ে গেলো। বিরোধী দলের লং মার্চের পর সাধারণ জনগণ বলাবলি করছে। জামায়াত এনসিপি তো বিদ্যুত,গ্যাস ও পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চ করে এলো, তাহলে তারা তো সরকারকে আমাদের কথা বলছেই। তাহলে আমাদের আর কি করার আছে?
ভবিষ্যতে সরকারের কার্যক্রম কেমন হয়। সরকার আর কি কি পরিবর্তন করবে। তা এখনই কিন্তু বলা মুশকিল। বতর্মান র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে । র্যাব কিন্তু গত বিএনপির আমলেই সৃষ্টি হয়েছিলো। গত আওয়ামী লীগের আমলে বিডিআরের নামও কিন্তু পরিবর্তন করা হয়েছিলো তবে কোনরকম লাভ জনগণ দেখতে পায়নি। একেক সরকারের মাথায় একেক রকম ভূত বসে থাকে সবসময়। কাজের বেলায় টনটনাটন যদি হয়। তাহলে তো জনগণ সরকারের বদনাম করবেই।
গত বিএনপি সরকারের আমলে যখন প্রথম প্রথম র্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়, তখন কিন্তু বড়ো বড়ো সন্ত্রাসীরা চাদাবাজেরা অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছিল। অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে পর্যন্ত গিয়েছিল । হঠাৎ করে র্যাবের সুনাম নষ্ট হতে লাগলো। বতর্মানে র্যাব আছে কিনা সন্ত্রাসীরা জানেই না। কিশোর গ্যাংরা র্যাবেরে গনাতেই ধরে না। আমার কাছে মনে হয় র্যাবেরা হয়তো কোন ইশারায় তারা কাজই করে না।
তবে নতুন নামে নতুন আঙ্গিকে যদি আবার তারা সক্রিয় হয়ে উঠে। তাহলে বিএনপি সরকারের জনপ্রিয়তা আরেক ধাপ বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কথা থাকে যে, পুলিশকে যদি আরো সক্রিয় করা যেত। পুলিশের ঘুষ খাওয়া যদি বন্ধ করা যেত। দেশের পুলিশ যদি তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করার মতো সঠিক কোনো আইন প্রয়োগ করা যেত। তাহলে দেশের আইনশৃঙ্খলা আরো সুন্দর হতো। দেশের মানুষের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার হতো। তখন কিন্তু সরকারের আরেক ধাপ জনপ্রিয়তা বেড়ে যেত।
তর্ক – বিতর্ক করে একটি সরকারের জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায় না। জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য জনস্বার্থে কাজ করা লাগে। যে কাজ জনগণের স্বার্থের জন্য হয়।
আজকে ভারতে না যাওয়া। কতটুকু লাভ কতটুকু ক্ষতি হবে সরকারের, সেটা কিন্তু ভারত বিরোধী জনগণ দেখছে না। জনগণ দেখছে এবং বলছে।” আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতের আমন্ত্রণ ও প্রত্যাখান করেছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের ” এই কথা সত্যি যে, ভারতের সাথে সু সম্পর্ক যদি একটি সরকারের থাকে, সেই সম্পর্ক রাখার জন্য তাদের দেশে যেতে হবে আসলে এমনটি নয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান বা অনেক উপদেষ্টারাই কিন্তু ভারতে যাননি। উল্টা আরো ভারত বিরোধী কথাবার্তা বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল উপদেষ্টারাই কিন্তু জনগণের মন জয় করে নিয়েছিলেন। কথা থাকে যে, শত শত টন ইলিশ কিন্তু ভারতে ঠিকই বিকি করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে । আলু পেয়াজসহ নিত্য পণ্য কিন্তু কেনা হয়েছে ভারত থেকে। তাতে কিন্তু জনগণের কোন আপত্তি ছিলো না। এখানে ভারত বিরোধী শ্লোগানটা থাকলেই চলে। ভারত বিরোধী শ্লোগানটার মজাই আলাদা । তাতেই তারা খুশি। বিশেষ করে যারা ভারত বিরোধী।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক